রাউজান উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীরা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৫:২৭ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান ঃ নির্বাচন কমিশন উপজেলা নির্বাচনের ১ম পর্যায়ে ২য় পর্যায়ে ৩য় পর্যায়ে তফশীল ঘোষনা করেন । ৪র্থ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচনের কফশীল ঘোষনা করা হয় । ৪র্থ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচনের তফশীল ঘেষানায় রাউজান উপজেলা নির্বাচন অনুষ্টান ঘোষারা করা হয় । রাউজান উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, মোসলেম উদ্দিন খান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর মোহাম্মদ, কাজী ইকবাল, সৈয়দ হোসেন কোম্পানী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, আইরুন নিছা নিলু, রুবিনা ইয়াসমিন রুবি রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় বিবাহ, মেজবান, মিলাদ মাহফিল, ওরশ, সামাজিক সংগঠনের সভা সমাবেশে ও সনাতনী সম্প্রদায়ের, বৌদ্বদের ধর্মীয় অনুষ্টানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষানা দিয়ে এলাকার মানুষের কাছে দোয়া আশির্বাদ কামনা করছেন । উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় ক্রিকেট, ফুটবল টুর্নামেন্টের হিড়িক পড়েছে । এলাকার তরুণ যুবকেরা বিভিন্ন সংগঠনের নাম দিয়ে এসব ক্রীড় প্রতিযোগীতায় প্রার্থীরা উপস্থিত হয়ে অনুদান প্রদান করছে । উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন খান প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সময়ে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় সভা সমাবেশে বিবাহ, মেজবান, ওরশ মাহফিল, মিলাদ মাহফিল, সনাতনী সম্প্রদায়ের ও বৌদ্ব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্টানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার ঘোষানা করছেন । প্রার্থীরা মৃত্যু ব্যক্তির জানাজার নামাজে উপস্থিত হয়ে জারাজার নামজ আদায় করছে । রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যঙ্গেও ছাতার মতো হঠাৎ গজে উঠা নাম সর্বস্ব সংগঠনের সদস্যরা উপজেলা নির্বাচনকে কে›ন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে । সভা সমাবেশ, খেলাধুলা, নাম সর্বস্ব সংগঠনের অফিস নির্মান, মন্দির, মসজিদ, মার্দ্রসা, বিহার, শিক্ষা প্রতিষ্টানের নামে প্রার্থীদেও কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা । সকালে এক প্রার্থীকে নিয়ে গেলে একই স্থানে একই সংঘঠনের ব্যানারে বিকালে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে নিয়ে গিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে এলাকার ধান্দাবাজ ব্যক্তিরা ।
উপজেলায় গত ৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাউজানে একক প্রার্থী হওয়ার নির্বাচনের আমেজ পায়নি উপজেলার জনসাধারণ। তাই আগামি উপজেলা নির্বাচনকে কাজে লাগাতে চাই ভোটাররা। বিগত সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়াম্যানরা অনেকে এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা না করার অভিযোগ তোলেন একাধিক ভোটাররা। এতে আগামি নির্বাচনে এবার নির্বাচনে খেসারত দিতে হবে বলেও মনে করেন সচেতন মহল। তবে কে হবে আগামী উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়াম্যান এ বিষয়ে এখনো কোথাও কোন সারা শব্দ শোনা না গেলেও আগামি দিনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাই ভোটাররা। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আ.লীগের ও বিএনপির প্রার্থীদের বিভিন্ন ব্যক্তির নাম শুনা যাচ্ছে । আওয়ামীলীগের হয়ে যারা লড়বে তাদের মধ্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন উত্তর জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আবুল কালাম আজাদ, উত্তর জেলা আ.লীগের অর্থ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এহেছানুল হায়দার চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান, বিশিষ্ট শিল্পপতি এস.এ.এম হোসেন, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক জেলা এডিশনাল পিপি এডভোকেট দীপক দত্ত, ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়াম্যান আলহাজ নুর মোহাম্মদ, উপজেলা আ.লীগের সাবেক প্যানেল মেয়র জানে আলম জনি, জাতীয পাটি নেতা শফিকুল আলম, রাউজান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো.আবদুস সবুর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফৌজিয়া খানম মিনা,সাবেক পৌর মহিলা কাউন্সিলর আইরুন নিছা নিলু, পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৪,৫.৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মহিলা মেম্বার রুবিনা ইয়াসমিন রুজি, এছাড়াও অনেক প্রার্থী এখনো মাঠে নামছে না। পরিস্থিতি বুঝে মাঠে নামবেন। তাদের নাম এখনো শুনা যাচ্ছে না। এদের মধ্য অনেকে স্থানীয় জনপ্রিয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর আশিবার্দের জন্য নিজের গ্রহনযোগ্যাতা তুলে ধরছে। যার মধ্য এখন যোগাযোগর্ ক্ষা করে চলেছে। অপরদিকে রাউজানে বিএনপির সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড নেই দীর্ঘদিন ধরে । বিএনপি আগামী উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সিদ্বান্ত নেওয়ার ফলে আগামী রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকার সংগঠনকে সক্রিয় করে তোলার প্রচেষ্টায় মেতে উঠেছে । রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তার হলেন রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক ছালামত আলী, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক জসিম উৃদ্দিন সিকাদার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এহসানুল হক, রাউজান উপজেলা শান্তির দ্বীপ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান আবু মনসুর চৌধুরী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফারহানা আকতার ।
রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের ষভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগামী উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে যাকে প্রার্থী দেওয়া হবে দলের প্রার্থীর পক্ষে এলাকার নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্বভাবে কাজ করবেন ।
গত ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারী উপজেলা জানুয়ারী অনুষ্টিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রাউজান উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বচিত হয় । পুর্বে এরশাদ সরকারের শাসন আমলে রাউজানর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়া পাড়ার বাসিন্দ্বা ভালিকা উলেন মিলসের সাবেক জিএম এম আবদুল্ল্যাহ ও রাউজানের হাজী পাড়া এলাকার বাসিন্দ্বা বর্তমান এনজিও সংস্থা পেইজের পরিচালক অধ্যাপক লোকমান হাকিম রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় । উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল মান্নান পাঠান । উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবদুল মান্নান পাঠান বলেন , রাউজানের ১৪ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সর্বমোট ভোটার দুই লক্ষ ছত্রিশ হাজার আটশত বিরানব্বই জন । ভোটারের মধ্যে এক লক্ষ উনিশ হাজার সাতশত উনচল্লিশ জন পুরুষ, এক লক্ষ সতর হাজার একশত তিপান্ন জন মহিলা ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী উপজেলা নির্বাচনে । রাউজান উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র হলো তিরাশি টি । মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা চারশত পাচাঁন্নটি ।