রাউজানে শীত মৌসুমেও হালদা নদীর ভাঙ্গন তীব্র

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:২৮ অপরাহ্ণ

কয়েকটি গ্রাম নিশ্চিহ্নের পর এবার মোকামী পাড়া বিলীনের পথেমোকামী পাড়া
শফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজানে শীত মৌসুমেও নদীর ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। আগে দেখা যেত বর্ষায় নদী ভাঙ্গণ প্রবল হতো। আর একন বর্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমেও সমানতালে চলছে নদীর ভাঙ্গন। এ নদী পাড়ের বহু বাড়িঘরসহ ভূ-সম্পত্তি হারিয়েছে সাধারণ মানুষ । ইতিমধ্যে এ নদীতে সম্পুর্ন বিলীন হয়েছে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। তার মধ্যে সার্কদা ও পশ্চিম মোকামী পাড়া অন্যতম। সাকর্দা গ্রামটি সর্ম্পন নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে। এখন নিশ্চিন্ন হওয়ার পথে মোকামী গ্রাম। এ গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের বাপ-দাদার বাড়ী ভিটে হারিয়ে এখন নিস্ব যাযাবরেরমত দিন যাপন করছে। গত কয়েকমাস আগে ভাঙ্গন প্রতিরোধে প্রতিরক্ষাবাদ নির্মার্ণের জন্য বরাদ্ধ দেওয়ার কথা শোনা গেলেও এখনও পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন লক্ষ করা যাচ্ছেনা।
সরেজমিন পরিদশর্নে গিয়ে দেখা যায়, মোকামী পাড়া গ্রামের তফাজ্জল মাষ্টারের বাড়ী, চৌধুরী বাড়ী ও খলিল দফাদারের বাড়ী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। কিছুক্ষণ পর পর বিশাল আকারের ফাটল সৃষ্টি হয়ে ভিটেবাড়ী হালদা নদীতে গড়িয়ে পড়ছে। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে পুরো গ্রামের লোকজন।
মোকামী পাড়া হালদা ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ইউসুফ মিয়া বলেন, হালাদার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে আমাদের অনেক পূর্ব পুরুষের বাড়ি-ঘর। ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ে বসবাস করছি আমরাও।
হালদা নদী ভ্রমন করে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ও চরের মাটিকে উৎস করে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইটভাটা। নদীতে ইজারা বিহীন বালু মহালে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। তাই ভাঙ্গনের আকার নিয়েছে ভয়াবহ রুপ।
পরিদর্শনে আরো দেখা যায়, নদীর মোকামী পাড়া, পশ্চিম গহিরায়, আজিমের ঘাট, ডোমখালী, পশ্চিম ঢাকাখালী, মইশকরম, উরকিরচর, দেওয়াজিরঘাট, কচুখাইন গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
মোকামী পাড়া গ্রামের নদী পাড়ের বাসিন্দা নুরুদ্দীন বাবু বলেন, ভাঙ্গন কবলিত মোকামী পাড়া এলাকায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে কিছু পাথর দেয়া হলেও কাজে ত্র“টি থাকায় ভাঙ্গনে এসব পাথর নদী গর্ভে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় সংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী জানান, ‘হালদা নদীর তীরে রাউজানের যেসব পরিবার আছে তাদের রক্ষা করতে পাথর ফেলা হয়েছে। বাকী যেসব এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে সেসব এলাকায় ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।’