রাউজানে মৃত্তিকা শিল্প বিলুপ্ত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৪:২৬ অপরাহ্ণ

মৃত্তিকা শিল্পিরা তাদের পুর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত
নিউজচিটাগাং২৪.কম
মাটির জিনিসরাউজানে মৃত্তিকা শিল্প বিলুপ্ত, মৃত্তিকা শিল্পিরা তাদের পুর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশা নিয়োজিত হয়ে পড়েছে । চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর, ৭নং ইউনিয়নের কেউটিয়া, রাউজান পৌর এলকার বাইন্যা পুকুর, ডাবুয়া ইউনিয়নের কলমপতি, পৌর এলাকার বেরুলিয়া, সহ রাউজানের কয়েকটি এলাকায় এক সময়ে মাটি দিয়ে তৈয়ারী করা হতো হাড়িঁ, পাতিল, পিঠা তৈয়ারীর পইন, কলসী, ঘরের ছাউনিতে ব্যবহারের জন্য হারবা,হাড়ীঁর ঢাকনা (অরবা) পাতিলের ঢাকনা (বরুনা) গজি, পুজার ঘট, মোটকা, ফুলের টব। এক সময়ে মাটির তৈয়ারী আসবাব পত্র ব্যবহার করে প্রতিটি পরিবারের রান্না করা হতো। মাটির তৈয়ারী কলসীতে খাওয়ার পানি রাখার পর সেই পানি পরিবারের সদস্যরা পান করতো । মেজবান অনুষ্টানে মাটির তৈয়ারী সানকিতে করে মেজবানের খাওয়া পরিবেশন করতো । রাউজান ফকির হাট বাজার সহ সকল বাজারে মৃত্তিকা শিল্পিরা তাদের তৈয়ারী মাটির আসবাব পত্র কাধেঁ ভার করে বহন করে এনে বিক্রয় করতো । এছাড়া ও রাউজানের প্রতিটি এলাকায় বাড়ী ঘরে মাটির তৈয়ারী আসবাব পত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করতো মৃত্তিকা শিল্পীরা তাদের তৈয়ারী আসবাব পত্র । ্আধুনিকতার ছোয়ায় মাটির তৈয়ারী আসবাব পত্রের পরিবর্তে প্রতিটি পরিবারের মধ্যে এ্যলমুনিয়ামের তৈয়ারী হাড়ি^, পাতিল, কলসী সহ আসবাব পত্র ব্যবহার করার ফলে , মৃত্তিকা শিল্পিদের মাটির তৈয়ারী আসবাব পত্র ব্যবহার না থাকায় মৃত্তিকা শিল্পিরা এখন আর মাটি দিয়ে তৈয়ারী করছেনা আসবাব পত্র । রাউজান থেকে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে মৃত্তিকা শিল্প । বর্তমানে মাটির তৈয়ারী ফুলের টব, চায়ের দোকানে রুটি তেয়ার করার তুন্দলে ব্যবহার করার জন্য মোটকা, সনাতন ধর্মীয় অনুসারীদের পুজার ঘট এর চাহিদা রয়েছে । রাউজানের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার কয়েকটি পরিবার এখনো তাদের পুর্ব পুরুষের পেশা আকড়েঁ ধরে রেখেছে। তারা ফুলের টব, পুঁজার ঘট তৈয়ারী করেন। তা বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজনের কাছে বিক্রয় করে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করছেন । শুস্ক মৌসুমে মাটি সংগ্রহ করে তা যতœ করে বাড়ীতে রেখে সেই মাটি দিয়ে তৈয়ারী করা হয় ফুলের টব, মোটকা, পুঁজার ঘট, রাউজান ফকির হাট বাজারের পুর্ব পার্শ্বে কয়েকটি দোকান রয়েছে । দোকানগুলোতে মাটির তৈয়ারী হাড়িঁ, পাতিল, ফুলের টব, মোটকা, গজি বিক্রয় করা হয় । ব্যবসায়ী দুলাল জানান, মাটির তৈয়ারী ফুলের টব, পুঁজার ঘট এর চাহিদা রয়েছে । তারা রাউজান ও ফটিকছড়ি এলাকার মৃত্তিকা শিল্পিদের বাড়ী থেকে ক্রয় করে এন বাজারে বিক্রয় করেন । রাউজানের ডাবুয়া ইউনিয়নের কলমপতি কুলাল পাড়া এলাকার হরিপদ রুদ্র পাল জানান, তার এলাকায় ২০ টি পরিবার রয়েছে । ২০ টি পরিবারের মহিলা ও পুরুষ এক সময়ে মাটি দিয়ে আসবাব পত্র তৈয়ারী করে জীবিকা নির্বাহ করতো । গত কয়েক বৎসর ধরে এলাকার সব পরিবারের সদস্যরা তাদেও পুর্র্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে কৃষিকাজ, দিনমজুরের কাজ করছে । এখনো পুর্ব পুরুষের পেশা আকড়েঁ ধরে রেখেছে হরিপদ রুদ্র পাল। হরিপদ রুদ্র পাল জানান, শুস্ক মৌসুমে অন্যেও জমি থেকে মাটি ক্রয় করে ঘরে আনা বাবদ খরচ হয় বার হাজার টাকা । ঐ মাটি থেকে হাড়িঁ, পাতিল তৈয়ারী করে তা বিক্রয় করে আয় করছে দশ হাজার টাকা। আরো যে পরিমাণ মাটি রয়েছে তা থেকে দুর্গাপুঁজার সময়ে পুজাঁর ঘট তৈয়ারী করে আয় করা যাবে দশ হাজার টাকার মতো । হরিপদ রুদ্র পাল এই পেশার পাশাপাশি বর্গা জমি নিয়ে চাষাবাদ, দিনমজুরের কাজ করেন বলে জানান ।