রাউজানে আ’লীগের একক প্রার্থী ফজলে করিম, বিএনপির একাধিক প্রার্থী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩১ আগস্ট , ২০১৮ সময় ১০:২৬ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ রাউজান আসনটি ধরে রাখতে চাই, বিএনপি তাদের হারানো আসনটি ফিরিয়ে পেতে মরিয়া
শফিউল আলম, রাউজান : চট্টগ্রাম -৬ রাউজান সংসদীয় আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি।, ্এ আসনেবিএনপির একাধিক প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে । প্রতিনিয়ত রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সভা সমাবেশ,বিবাহ, মেজবান, সামাজিক অনুষ্টানে উপস্থিত হয়ে রাউজানে যে সব উন্নয়ন কাজ করেছে তার ফিরিস্থি এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরছেন এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । এলাকার সভা সমাবেশে আগামী সংসদ নির্বাচনে জনগনের সমর্থন লাভের জন্য এলাকার মানুষের কাছে আগাম ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন । রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চলছে উঠান বৈঠক । চট্টগ্রাম -৬ রাউজান আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন যুদ্বপরাধীরর মামলায় মৃত্যুদন্ড হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ও পুত্র হুমাম কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার । চট্টগ্রাম -৬ রাউজান আসন গত ২০০১ সাল থেকে সাকা পরিবারের হাত ছাড়া হয় । ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগের শাসন আমলে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করে রাউজানের সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে । চট্টগ্রাম – ৬ রাউজান আসন থেকে বৃটিশ সরকারের আমল থেকে যে সব রাজনৈতিক নেতার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন,রাউজানের পশ্চিম গহিরার খান বাহাদুর ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী । ১৯৬৪ সালের নির্বাচনে বৃটিশ ভারতের বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নিবাচিত হয় মরহুম খান বাহাদুর ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী ।১৯৬২ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৬৪ সালে সুধাংশু বিমল বড়–য়া সংখালঘু আসনে এম এন,এ নির্বাচিত হয় । ১৯৬৬ সালে আবুল খায়ের সিদ্দিকি রাউজান হাটহাজারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৬৮ সালে মরহুম একে এম,ফজলুল কবির চৌধুরী প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৭০ সাল ও ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে অধ্যাপক মোঃ খালেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৭০ সালে মরহুম আবদুল্ল্যাহ আল হারুন চৌধুরী প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, সালের নির্বাচনে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রদান কারী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তিনবার রাউজান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৭৯ সালের উপ নির্বাচনে মরহুম জহির উদ্দিন খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জিয়াউদ্দিন আহম্মদ বাবলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ট সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৬ সাল ও ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ২০০১ সাল থেকে পর পর চারটি সংসদ নিবার্চনে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । রাউজান সংসদীয় আসনে পর পর চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক সময়ের সন্ত্রাসের জনপদ রাউজানকে শান্তির জনপদে পরিনত করেছি । রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড করে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তিকে রাউজান বাসীর কাছে প্রশংসনীয় করে তোলা হয়েছে । রাউজানকে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে গড়ে তোলেছি । রাউজানকে একটি ফুলের বাগানের মতো করে সাজিয়েছি । আমার করা ফুলের বাগানের ফুলের সৌরভ দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে । রাউজান আমার করা ফুলের বাগানের মালী হিসাবে দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে । আমার এই দায়িত্ব পালন করার জন্য দল আমাকে আবারো মনোনয়ন দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার বাবুল বলেন,রাউজান আসনে আওয়ামী লীগের এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী একক প্রার্থী । আগামী সংসদ নির্বাচনে ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী আবরো জয়লাভ করবে । রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে রাউজান বাসী আবারো ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে রাউজানের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবে । রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রাউজান পৌরসভার ২য় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, রাউজানে অনেক নেতা সংসদ সদস্য হয়েছে । তারা রাউজানের কোন উন্নয়ন করেনি । এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী সংসদ সদস্য হয়ে রাউজানের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে রাউজানকে সন্ত্রাসের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে রাউজানকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছে । রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের এয়াসিন নগর এলাকার বাসিন্দ্বা মফজল আহম্মদ বলেন এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানে যে উন্নয়ন কাজ করেছে তা আর কোন সংসদ সদস্য মন্ত্রী করেনি । এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী রাউজানের সাধারন মানুষের কাছে একজন প্রিয় নেতা হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে । তাকে আগামী নির্বাচনে ও দেখতে চাই । রাউজানে বিএনপির কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই বললে চলে । গত কোরবানীর ঈদের সময়ে বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বাড়ীতে এসে নেতা কর্মী ও এলাকার লোকজনের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিণিময় করেন । বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন দল যদি আমাকে প্রার্থী দেয় আমি রাউজান আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করবো। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোঃ জসিম বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি যে নেতাকে মানোয়ন দেবে তার পক্ষে রাউজান উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ব ভাবে কাজ করবেন । রাউজানের বিএনপির নেতা কর্মীরা চট্টগ্রাম শহরে বসে আগামী সংসদ নিবাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডকে সক্রিয় করে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে কয়েকজন বিএনপির সর্মথক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান ।