রাউজানে আমনের বাম্পার ফলন : কৃষকের মূখে হাসি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

পাকা ধানশফিউল আলম, রাউজান প্রতিনিধি
রাউজানে এবার রোপা আমন তোলার মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক ও নৌপথ গুলোতে লোকজন আসা যাওয়ার সময় চোখ জুড়ে যাচ্ছে দু’পাশের জমিতে সোনালী রংয়ের রোপা আমন ধানের গুচ্ছ দেখে। উপজেলার সব এলাকার জমি গুলোতে এখন শোভা পাচ্ছে সাড়ি সাড়ি ভাড়ি সোনালী ধানের গুচ্ছ ও কৃষক-কৃষাণীর ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে নবান্নের উৎসব। এবারের ধানের ফলন দেখে খুশি হবে না এমন কৃষকতো দূরের কথা লোকজনও পাওয়া যাবে না। উপজেলার উত্তরাংশে প্রায় ঘরে ঘরে চলছে আমন তোলার ব্যস্ততা। তবে দক্ষিণাংশেও একটু দেরিতে শুরু হয়েছে ধান কাটা। তবে এ সপ্তাহের মধ্যই দক্ষিণাংশে এসব ধান কাঠা পুরোদমে শুরু হবে বলে জানান, স্থানীয় নব্য ধানচাষী ও ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ। তিনি আরো জানান, এবারই প্রথম তিনি ২৪০ শতক (৬ খানী) জমিতে আমন চাষ করে। এতে আমন ধানের ফসলে তিনি দারুন খুশি।
কৃষি অফিস সূত্রমতে রাউজানে ৬ লক্ষ জনসাধারনের প্রধান ফসল ধান ও রাবার। তার মধ্য কৃষক পরিবার হচ্ছে ৪০ হাজার। ২৪৩ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনের এ উপজেলায় আবাদি জমির পরিমান হচ্ছে ২০ হাজার হেক্টর। তার মধ্য আমনের চাষাবাদ হয় ১১ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে। তবে এক ফসলি জমির পরিমান হচ্ছে ৪ হাজার ৩’শ ১০ হে, দুই ফসলি জমির পরিমান৭৬ হাজার হে. তিন ফসলি জমির পরিমান ২৫০ হে.। তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ধারাবাহিকভাবে ধানের আশাতিত ফলন হচ্ছে। তবে উপজেলার রাউজান পৌরসভা, হলদিয়া, ডাবুয়া, নোয়াজিষপুর, চিকদাইর, গহিরা, কদলপুর, বিনাজুরী, চিকদাইর, পাহাড়তলী, বাগোয়ান, পশ্চিম গুজরা, পূর্ব গুজরা, উরকিরচর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বেশ কিছু ধানি জমি অনাবাধি রয়ে যায়। এসব উৎপাধিত জমি গুলোকে যদি চাষাবাদের আওয়ায় আনা যেতো তাহলে আরো বেশি মাত্রায় ফলন হতো বলে মনে করেন পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাব উদ্দিন আরিফ। তিনি আরো জানান, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি কর্তৃক সরকার কর্তৃক সঠিক সময়ে কৃষি উপরকরন, সার বিতরণ এবং উপজেলা কৃষি অফিসকে তদারকিতে এবারও আমনের বাম্পার ফলন হচ্ছে বলে জানান।
উপজেলা অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানান, প্রতি বছর ধান চাষে লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হচ্ছে। চলতি মাসে বড় কোন দুর্যোগ না হলে কৃষকরা সঠিকভাবে সব আমন ধান ঘরে তুলতে পারবে। যার কারনে আগামিতেও কৃষকরা আরো উৎসাহিত হয়ে চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি অন্যরাও চাষাবাদে এগিয়ে আসবে। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.জসীম উদ্দিন জানান, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা ও কৃষকদের যথাযত পরামর্শদানে এবারও উৎপাদনে প্রতি বছরের ন্যায় বোরোর পাশাপাশি রোপা আমনেরও বাম্পার ফলন হয়। এছাড়াও তিনি আরো জানান, বিগত ৫ বছর ধরে আমন ও বোরো মৌশুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।