রাউজানে আগামী সংসদ নির্বাচন

প্রকাশ:| রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:০৭ অপরাহ্ণ

al-bnpরাউজানে আগামী সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড সক্রিয় করছে, বিএনপি নিরব
শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বর্তমান ক্ষমতায় অধিষ্টিত আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার করেছে । আওয়ামী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাউজানের ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১২৬ টি ওয়ার্ডে, রাউজান পৌরসভা ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগের সম্মেলন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছে । প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এলাকায় নেই। চট্টগ্রাম শহরে দলীয় কর্মসুচি পালন করার মাধ্যমে বি এনপি দলীয় নেতা কর্র্মীদের চাঙ্গাঁ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রতিটি ইউনিয়নে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সংগঠনকে প্রস্তুত করছে আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য । ইতিমধ্যে রাউজানের ১৪ টি ইউনিয়ন ও ১২৬ টি ওয়ার্ডে, রাউজান পৌরসভা ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, ওলামা লীগের সম্মেলন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছে বলে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে রাউজানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা রাউজানে কোন সংগঠনিক কর্মকান্ডে নিস্ক্রিয় হলে ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের হারানো আসন ফিরিয়ে আনতে চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে অবস্থান নিয়ে রাউজানের প্রতিটি এলাকার বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা সমাবেশ করে নতুন করে সংগঠনকে সাজানোর চেষ্টা করছেন বলে রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মদ বলেন বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে পুর্বের চেয়ে অনেক শক্তিশালী রাউজানে শুধু জনগনকে সংঘাত থেকে দুরে রাখতে রাউজানে বিএনপির কোন কর্মসুচি পালন না করলে ও চট্টগ্রাম শহরে রাউজান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকান্ড চলছে । দলের প্রতিটি কর্মসুচি পালন করে আসছে । আগামী সংসদ নির্বাচনে রাউজানের জনগণ বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মদ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন । রাউজানে বিএনপি ও যুবদল, ছাত্রদলের নেতা কর্র্মীরা দলের আদর্শের প্রতি ঐক্যবদ্ব। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তথা ১৮ দল যাকে প্রার্থী দেবে দলের দেওয়া প্রার্থীর পক্ষে নেতা কর্মীরা কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মদ । রাউজান উপজেলা বিএনপি যুবদল, ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড রাউজানে না হলে ও চট্টগ্রাম শহরের গুডস হিলস্থ উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবণে ও উত্তর জেলা বি এন পির অফিসে রাউজানের বিএনপি যুবদল, ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত সভা সমাবেশ করছেন উত্তর জেলা বি এনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। আগামী সংসদ নির্বাচনে রাউজান সংসদীয় আসন থেকে বিজয়ী হওযার জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজ নিজ দলের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আওয়ামী লীগ রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত সভা সমাবেশ করে সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখলে ও বিরোধী দল বিএনপি রাউজানে কোন সভা সমাবেশ ও দলীয় কর্মসুচি পালন করছেনা না। ফলে বিএনপির সমর্থক ও নেতাকর্মীরা হতাশার মধ্যে রয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড না থাকায় রাউজানে অনেক বিএনপির নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করছেন। আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় পদে অধিষ্টিত করেছে আওয়ামী লীগ । নব্য আওযামী লীগে যোগদান কারী নেতাদের মধ্যে রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ,সাবেক মেম্বার সোলায়মান, মেম্বার জামাল উদ্দিন, মাওলানা আবদুল মান্নান, মনো সওদাগর, রফিকুল ইসলাম তালুকদার, মাওলানা আবুল কালাম, নুরুল আলম, সাহালম, আজিজুল হক কোম্পানী, সৈয়দ হোসেন কোম্পানি, আবদুল মন্নান, নুর মিয়া, মোঃ ইউছুপ,
নবাগত আওয়ামী লীগের নেতাদের উপর এখনো আস্থা রাখতে পারছেনা প্রবীন আওয়ামী লেিগর নেতারা। প্রবীন নেতাদের কেউ কেউ বলছে আগামী নির্বাচনের সময়ে নবাগত আওয়ামী লীগ নেতারা উল্টে গিয়ে পুণরায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরোদ্বে অবস্থান নেবে। নবাগত আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ গোপনে বি এনপির নেতাদের সাথে যোগাযোগ করছে বলে একাধিক সুত্র জানায় । রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন খান জানান, রাউজানের প্রতিটি এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, ওলামালীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড শক্তিশালী । বর্তমান সরকারের শাসন আমলে জাতীয় সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী ২৬ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, রাউজান ফায়ার ষ্টেশন, রাউজান থানা ভবণ, রাউজান ডাকবাংলো ভবণ, রাউজান পাবলিক হল ,অটেডেরিয়াম ভবণ, রাউজান পৌরসভা ভবণ, মুক্তিযোদ্বা স্মৃতি স্তম্ব, পুর্বগুজরা ভুমি অফিস, পুর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত ফাড়ি, ৯টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাউজানে দুইটি উপশহর নির্মান, রাউজানের শিক্ষা প্রতিষ্টানের অবকাঠামো উন্নয়ন,এলাকার সড়ক, রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মান ও বিট্রিশ বিরোধী আন্দেলনের অগ্রনায়ক মাষ্টার দা সুর্যসেনেকে রাউজানের তরুণ প্রজ্জমের কাছে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সুর্যসেন তরুণ ও সুর্যসেন চত্বর নির্মান কাজ সহ রাউজানে এক হাজার দুইশত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন । বর্তমান সরকারের শাসণ আমলের মতো রাউজানে আর কোন উন্নয়ন হয়নি । একারনে রাউজানের সর্বস্তরের মানুষের আস্থা বেড়েছে সংসদ সদস্য এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রতি। রাউজানের উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাথতে রাউজানের সাধারণ মানুষ আগামী সংসদ নির্বাচনে এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন খান আশা প্রকাশ করেন । চট্টগ্রাম -৫ রাউজান আসনে ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মরহুম অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। এর পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের রাউজান আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে মরহুম আবদুল্লাহ আল হারুন, সাবেক সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের রাউজান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় কারাগারে আটক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একই সময়ে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে ও নির্বাচিত হয় । রাঙ্গুনিয়া আসন রেখে রাউজান আসনটি ছেড়ে দেয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী । পরবর্তী উপ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিল্প মন্ত্রী মরহুম জহির উদ্দিন খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতীয় পাটির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক জালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জিয়াউদ্দিন আহাম্মদ বাবলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এনপির প্রার্থী হয়ে রাউজান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বি এনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার বিনা প্রতিদন্দিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে সংসদ ভেঙ্গেঁ দেয় বিএনপি । পরবর্তী ৯৬ সালে অনুষ্টিত সংসদ নির্বাচনে বর্তাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । এই আসন থেকে গত ২০০১ ও ২০০৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুরানো আসন ফিরিয়ে আনেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে রাউজানের উন্নয়ন কর্মকান্ড এলাকার শান্তিপুর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এলাকার মানুষ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে ভোট দিয়ে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে বলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী দাবী করেন।


আরোও সংবাদ