রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

মাদক ব্যবসায়ী ও মদ্যপায়ী মাতালদের হাতে লাঞ্চিত এক ব্যবসায়ী ।
মাদক ব্যবসা জমজমাটশফিউল আলম ,নিউজচিটাগাং২৪.কম।।রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট, মাদক ব্যবসায়ী ও মদ্যপায়ী মাতালদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছে এক ব্যবসায়ী । রাউজান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ও পৌর এলাকার শতাধিক স্পটে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাহাড়ী চোলাই মদ বিক্রয় করছে মাদক ব্যবসায়ীরা । মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড়ী চোলাই মদ বিক্রয় করে আসলে ও সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসন সম্পুর্ণ নিরকতা পালন করে আসছে । মাদক ব্যবসায়ী ও মদ্যপায়ী মাতালদের উৎপাতে এলাকার মানুষ স্কুল কলেজ এর শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে হয় চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে । গত ১৯ আগষ্ট সোমবার দিবাগত রাতে রাউজানের ফকির হাট বাজারের রহমান ডেকোরোর্টাস এর মালিক রহমান সওদাগর তার বাড়ী ছত্রপাড়া এলাকায় বাড়ীর অদুরে আত্বিয় বাড়ী থেকে দাওয়াত খেয়ে রাত ১২ টার সময় বাড়ী ফিরছিলো । এই সময়ে শহীদ জাফর সড়কের বেরুলিয়া উলু পুকুর নামক স্থানে মদ্যপায়ী মাতালেরা এলাকার অন্দ্ব বাদশার ১২ বৎসর বয়সের ছেলে করিম কে জোরপুর্বক বেবীটেক্সীতে করে তুলে নেওয়ার সময় ইকবাল বেবী টেক্সীর চালককে ধাক্কা দিলে বেবী টেক্সীটি সড়ক থেকে উল্টে জমিতে পড়ে যায় । ব্যবসায়ী রহমান সওদাগর তা দেখে দৌড়ে গেলে মদ্যপায়ী মাতালেরা রহমান সওদাগরকে প্রহার করে । এই সময়ে ফোনে সংবাদ পেয়ে হলদিয়ার এয়াসিন নগর এলাকার সন্ত্রাসী তসলিম তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে দশটি মোটর সাইকেল করে শহীদ জাফর সড়কের বেরুলিয়া উলু পুকুর পাড়ে এসে সন্ত্রাসী তসলিম নিজেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার বাবুলের পি এস পরিচয় দিয়ে রহমান সওদাগরকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন । রহমান সওদাগরের শোর চিৎকার শুণে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে অপহরণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে ব্যবসায়ী রহমান সওদাগর জানান । ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে সন্ত্রাসী তসলিম তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে চলে যায় । এই ঘটনার পর গত ২১ আগষ্ট বুধবার রাউজান পৌরসভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, পৌর কাউন্সিলর জমির উদ্দিন পারভেজ, আজাদ হোসেন, হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাউজান পৌরসভায় বসে ঘটনার ব্যাপারে সন্ত্রাসী তসলিমের কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে আপোষরফা করেন বলে ব্যবসায়ী রহমান সওদাগর জানান । হলদিয়া এয়াসিন নগর এলাকার বাসিন্দ্বা সন্ত্রাসী তসলিম নিজেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুলের পি এস পরিচয় দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মাদক ব্যবসা করে আসছে বীরদর্পে । সন্ত্রাসী তসলিমের অপকর্মের বিরুদ্বে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে হয়রানী করা হয় বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন । এই ব্যাপারে রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুলের কাছে ফোন কওে জানতে চাইলে তিনি জানান, তসলিম নামের কোন ব্যক্তি তার এ পি এস নেই । রাউজানের ছত্র পাড়া এলাকার বাসিন্দা নাসির অভিযোগ করে বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান রাউজান আসলে সন্ত্রাসী তসলিম সহ মাদক ব্যবসায়ীরা উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুলের সাথে দেখা যায় । রাউজান উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নে ও পৌর এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে । এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হলদিয়া আমির হাটের মানিকের চায়ের দোকানে মানিক, আমির হাটের পশ্চিমে সর্তা খালের পাড়ে সোহেল, গর্জনিয়ায় খোকন, ডাবুয়ার জগ্ননাথ হাটে চড়ই সওদাগরের দোকানের পেছনে সেলিম, মিয়া, চিকদাইর পাঠান পাড়া এলাকায় রহম আলী, রাউজান থানার পুর্বে থানা রোডের পার্শ্বে মোহাম্মদ আলী শুক্কুর, থানা রোডের এনু সওদাগরের দোকানের সামনে নাথ বাবু, জলিল নগর বাস ষ্টেশনে জসিম, বাইন্যা পুকুর এলাকায় হোসেন, ভাঙ্গা কানু, কলমপতি এলাকায় অধীর, রাউজান মুন্সির ঘাটায় সনজিৎ, দাশ পাড়া এলাকায় রফিক, আবছার, দাইয়্যার ঘাটা এলাকায় কানা জাহাঙ্গীর, নুরু, সরতের দোকান এলাকায় বিটু, রহমান, দিলীপ, কুন্ডেশ্বরী এলাকায় মনি, রমজান আলী হাট এলাকায় জাগের, নাতোয়ান বাগিচা এলাকায় আইয়ুব, এছাড়া রাউজানের কাগতিয়া বাজার, গহিরা মোবারক খীল জামতল, মগদাই, কদলপুর ঈশান ভট্টের হাট, উনসত্তর পাড়া, গৌরী শংকর হাট, পাহাড়তলী চৌমুহনী দাশ পাড়া, কোয়ে পাড়া, গশ্চি, লাম্বুর হাট, নোয়াপাড়া পথের হাট, নোয়াপাড়া চৌধুরী হাট ঘাটকুল, কেরানী হাট এলাকা সমুহে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সময়ে পাহাড়ী চোলাই মদ, গাজাঁ বিক্রয় করে আসছে বীরদর্পে মাদক ব্যবসায়ীরা । সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাউজান উপজেলার সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটি উপজেলার কাউখালী উপজেলার মনাই পাড়া, ডাইলা পাড়া, গোদার পাড়, ডাক্তার ছোলা, কচুপাড়া, চৌধুরী পাড়া, শুকনা ছড়ি, কালী ছড়ি, সোনাইছড়ি, সুগার মিল, লাইল্যাছড়ি, তালতল, এলাকা সমুহে রয়েছে পাহাড়ী চোলাইমদ তৈয়ারীর কারখানা । পার্বত্য জেলার কাউখালী উপজেলার মনাই পাড়া, ডাইলা পাড়া, গোদার পাড়, ডাক্তার ছোলা, কচুপাড়া, চৌধুরী পাড়া, শুকনা ছড়ি, কালী ছড়ি, সোনাইছড়ি, সুগার মিল, লাইল্যাছড়ি, তালতল এলাকার উৎপাদিত পাহাড়ী চোলাই মদ প্রতিদিন সিএনজি বেবী টেক্সী, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, এ্যম্বুলেন্স করে শহীদ জাফর সড়ক, ডাবুয়া রাবার বাগান সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী সড়ক, হলদিয়া ভিলেজ রোড, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক, চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়ক, চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক দিয়ে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় ও হাটহাজারী সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছে রাউজানের কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্র“প । এক শ্রেণীর যুবতী মহিলাদের মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক পাচারকারীরা ভাড়া করে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ী চোলাইমদ ভর্তি স্যালাইন রশি দিয়ে বেধেঁ মদভর্তি মহিলার শরীরের উপর শাড়ী ব্লাউজ পড়ে বোরকা পরিধান করানোর মাধ্যমে যাত্রীবাহী বাসে ও সিএনজি বেবী টেক্সী করে পাহাড়ী চোলাই মদ পাচার করছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা । মাদক পাচার কারী ও ব্যবসায়ীরা পুলিশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদক পাচার ও মাদক ব্যবসা করছে এলাকায় । এ ব্যাপারে রাউজান থানার ওসি এনামুল হকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য থানায় গেলে গতকাল সকাল ১১টায় তিনি চট্টগ্রাম শহরে সভায় থাকায় তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি । রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন রাউজান থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযাণ চালিয়ে যাচ্ছে । চলতি মাসে রাউজান থানায় তিনটি মাদক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে পাচঁ মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে ।


আরোও সংবাদ