রাইফা খানের মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ জুন , ২০১৮ সময় ০৮:১৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশু রাইফা খানের মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ, চিকিৎসক ও নার্সকে জোরপুর্বক ছাড়িয়ে নিতে বিএমএ নেতা ফয়সাল ইকবালের হস্তক্ষেপ এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাব চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
ক্যাব চট্টগ্রামের প্রতিবাদে বলা হয়, চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী ক্লিনিকে দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খানের মেয়ে রাইফা ভুল চিকিৎসায় মারা যায়। ক্লিনিক চত্বরে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদের মূখে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সকে থানায় নিয়ে যান পুলিশ।

চট্টগ্রামের বেসরকারী ক্লিনিকগুলির দায়িত্বহীন আচরণ, ভূল চিকিৎসার কারনে প্রতিনিয়তই সাধারন মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু আগেও এক চিকিৎসক দম্পতির সন্তানকে মৃত বলে ঘোষনা করেছিলো এবং পরবর্তীতে আর একজন দম্পতির নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়াসহ এ ধরনের নানা অপকর্মে জড়িত হলেও সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব প্রতিপত্তিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিএমএ নেতৃবৃন্দ এ সমস্ত অপরাধের কোন সুষ্ঠু বিচার করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করছে। রোগীরা ভূল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবেহেলায় রোগী মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার প্রতিকার ও ক্ষতিপুরণ পাওয়া মৌলিক অধিকার, যা রাস্ট্র একজন নাগরিককে দিয়েছে। সেখানে একজন নাগরিকের সে অধিকার খর্ব করার হীন প্রয়াস শুধু মাত্র নিন্দনীয় নয় এটা চরম বর্বরতার সামিল এবং আদিমযুগে “জোর যার মল্লুক তার” সে যুগে প্রত্যাবর্তনের সামিল। এ অবস্থায় রাইফা খানের ভূল চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রকৃত কারন অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্ঠান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন এবং মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করার প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও নগর কমিটি। চট্টগ্রামে বেসরকারী ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু পরবর্তীতে চিকিৎসককে থানায় আটক ও সেখান থেকে বিএমএ নেতার হস্তক্ষেপ এ জোরপুর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে আসার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বেসরকারী ক্লিনিকগুলির দৌরাত্ত্য এমন পর্যায়ে চলে গেছে যেখানে কোন রোগী বা তার আত্¥ীয় স্বজন কোন বিষয়ে প্রতিবাদ বা প্রতিকার চাইতে পারে না। কারন ক্লিনিকগুলি পরিচালিত হয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন(বিএমএ)র তত্ত্বাবধানে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারী স্বাস্থ্য বিভাগের কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নাই। যাবতীয় হকুম তালিম করেন বিএমএ। আর স্বাস্থ্য খাতে যাবতীয় ব্যবসা বানিজ্য ও নিয়ন্ত্রন তাদেরই হাতে। সে কারনে সাধারন জনগন তাদের কাছে পুরোপুরি ভাবে জিম্মি। নেতৃবৃন্দ বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মহান সেবা ধর্মী পেশা হলেও বর্তমানে কিছু কিছু চিকিৎসক এ মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে দিনে দিনে কোটিপতি হবার বাসনায় লিপ্ত। সেকারনে রোগীর সেবা, মানবতার সেবার চেয়ে অর্থই তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁিড়য়েছে। ফলে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসক ও সুযোগ সুবিধা থাকলেও রোগীরা সেখানে নুন্যতম চিকিৎসা সেবা পায় না। রোগীদেরকে ক্লিনিক ও চেম্বারে যেতে পারমর্শ প্রদান করা হয়। আর যে কোন মানুষ রোগাক্রান্ত হলেই রোগী হলেই আগে পরামর্শ দেয়া হয় প্যাথলজিকাল টেস্ট ও অপারেশন। কারন এতে তাদের লাভ বেশী। যার কারনে প্যাথলজিকাল ল্যাব গুলি ব্যাঙের ছাতার মতো শহর, গ্রাম সর্বত্র ছাড়িয়ে পড়েছে। আর ক্লিনিকগুলি নাম মাত্র সেবা দিয়ে গলা কাটা বিল আদায় করছে। বিএমএসহ সরকার ও বিরোধীদলের সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবি সংগঠনগুলির দৌরাত্ত্য, একচেটিয়া প্রভাবের কারনে এখানে রোগীদের মানম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কোন প্রকার নজরদারি করার সাহস পর্যন্ত নেই। ফলে মানুষ অসহায় হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।

নেতৃবন্দ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেক্টরে এ ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের জন্য বেসরকারী ক্লিনিক, প্যাথলজিকাল ল্যাবসহ স্ব্াস্থ্য বিভাগের সকল প্রতিষ্ঠানে বিএমএ এর হস্তক্ষেপ এর বাইরে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থার দাবী জানান। স্বাস্থ্য সেক্টরে কমিশন প্রথা, উপহার প্রথা বাতিলসহ, চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের পরিবর্তে, সত্যিকারের রোগী সুরক্ষায় কঠোর আইনী প্রতিকার এবং সিবিএ সংগঠনের মতো বিএমএর অযাচিত হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন বিএমএর এর দাবির প্রেক্ষিতে বিগত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বপালনকালীন সময় থেকে বেসরকারী ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এমনকি ফামের্সীগুলিতে পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অঘোষিত ভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে এ সমস্ত খাতে নাগরিক ভোগান্তির কোন প্রতিকার দেশে সম্ভব হচ্ছে না। সাধারন জনগন পুরোপুরি স্বাস্থ্য খাতে তাদের হাতে জিম্মি। সভ্য সমাজে এ ধরনের ঘটনা বিস্তার পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খানের শিশুকন্যা রাইফা খানের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ বাইজিদ ইমন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা খানকে নগরীর বেসরকারি ম্যাক্স হাসসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ৯টার দিকেও হাসিখুশী ছিল রাইফা। রাত ১১টার দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ভুল ইনজেকশন দেয় নার্স। এরপরই অস্বাভাবিক খিচুনি দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশু রাইফা।’

সমিতির নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের অনুরোধে চকবাজার থানা পুলিশ ঘাতক চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের সুপারভাইজারকে আটক করে। কিন্তু রাত সাড়ে তিনটার দিকে একজন চিকিৎসক নেতা লোকজন নিয়ে এসে ক্রমাগত হুমকি দিতে থাকে। ওই প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতা বলেন, তিনি চাইলে বাংলাদেশের সব হাসপাতাল একঘন্টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে পারেন। সাংবাদিকদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেয়া হয়।’

সমিতির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ‘ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যুকে নিছক মৃত্যু বলা যাবে না।
এটি হত্যাকা-! বারবার ভুল চিকিৎসা এই পেশার মহতি নষ্ট করছে। চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের এমন উদ্বর্ত পূর্ণ আচরণ এমন ঘটনার পুনঃরাবৃত্ত হতে উৎসাহিত করে। তাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানাচ্ছি।’

রাইফার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে চবি সাংবাদিক সমিতি।