রাইফার মৃত্যু: কাল প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৪ জুলাই , ২০১৮ সময় ১০:০৪ অপরাহ্ণ

ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় সাংবাদিকের শিশুকন্যা রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির চার দিন গত হচ্ছে আজ।

আগামীকাল পঞ্চম দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। আর এই তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরই দায়ী চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা রয়েছে।

এদিকে, নিহত রাইফার বাবা দৈনিক সমকাল পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার (ক্রাইম ও স্পোর্টস) রুবেল খান জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে সিভিল সার্জন কী করছেন দেখি। এরপরই সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেব। এই মুহূর্তে প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি।
তদন্ত কমটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক আজাদীর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সবুর শুভ জানান, আমরা ইতোমধ্যে আমাদের তদন্ত শেষ করেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা আছে। ওখানেই সিদ্ধান্ত হবে কখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ তদন্ত এখনও চলমান। তাই এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কমিটির একজন সদস্য, কিন্তু এই কমিটির প্রধান হলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। উনিই সিদ্ধান্ত নিবেন কখন কিভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এছাড়া এই প্রতিবেদন তো সিভিল সার্জনের কাছেই থাকবে। তাই ওনার কাছ থেকেই বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে কথা বলা হয় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সাথে। তিনি বলেন, আরও একদিন সময় আছে। তবে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সব কিছু সংগ্রহ করেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আরও একদিন সময় আছে। আশা করছি এরপরে আর সময় লাগবে না। তদন্তের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা হাতে চলে এসেছে। কাল (বৃহস্পতিবার) তদন্ত কমিটির সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রাইফার মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে সেই ম্যাক্স হাসপাতাল রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। ক’দিন আগেও যে হাসপাতালে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকতো, সেখানে ১০ জনেরও কম রোগী ছিল গত তিন দিনে। ওই হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারেও রোগীর সিরিয়াল অনেকটা শূন্য। হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াতক এ কথাই জানালেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে।
তিনি বলেন, রাইফার মৃত্যুর পরের দিনই হাসপাতাল থেকে সিট কেটে চলে গেছেন প্রায় ত্রিশ রোগী। এরপর থেকে নতুন রোগী আর ভর্তি হচ্ছে না।
ম্যাক্স হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, নগরীর মেহেদীবাগে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল শয্যা আছে ১৫০টি। রাইফার মৃত্যুর পর সোম, মঙ্গল ও বুধবার তিন দিনই রোগী ভর্তি রয়েছে ১০ জনের কম। এরাও বাইরের অন্য হাসপাতালে সুযোগ পেলেই চলে যাবে। কিন্তু গত ৩০ জুনের আগে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী ভর্তি হতো এই হাসপাতালে।
একইভাবে এই হাসপাতালে বিভিন্ন চিকিৎসককে দেখানোর জন্য চেম্বারে আসা রোগীর সংখ্যাও কমেছে। গত জুনে প্রতিদিন চিকিৎসকদের চেম্বারে গড়ে ৫০০ রোগী চিকিৎসা সেবার জন্য ভিড় করতেন, সেখানে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ১০০ জনের নিচে।
গত ২৯ জুন দিনগত রাতে সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রাইফা খান ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। রাইফার মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সাংবাদিকরা চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ী চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পরে ১ জুলাই কমিটির প্রধান স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) কাজী ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল কাজ শুরু করে। ওই রাতেই নগরীর ম্যাক্স হাসপাতাল, বিএমএ চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও নিহত রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খানের বক্তব্য শুনেন পৃথক পৃথক বৈঠকে।
এদিকে, রাইফা হত্যার বিচার ও অবৈধ ম্যাক্স হাসপাতাল বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এই আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দেশের বাইরে অবস্থানকারীরাও। একই সঙ্গে চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যাক্স হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত বলেন, রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার কারণে রোগীরা ম্যাক্স মুখী হচ্ছেন না। এছাড়া মিছিল মিটিং ও বিরূপ প্রচারণায় রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।


আরোও সংবাদ