রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭১তম মহাপ্রয়াণ দিবসে…

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

আজ শ্রাবণ মাসের ২২ দিন । আজ বাংলা সাহিত্যের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭১তম মহাপ্রয়াণ দিবস।রবি ঠাকুর

কবিগুরুকে স্মরণ করতে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ দিন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বিশ্বকবি ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্মণ পরিবার ঠাকুর পরিবারে জন্ম নেন। পরে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এ দিন (৭ আগস্ট, ১৯৪১) ইহধাম ত্যাগ করেন তিনি।

মাত্র আট বছর বয়সে তিনি প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে তত্ত্বাবোধিনী পত্রিকায় তার ‘অভিলাষ’ কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল কবির প্রথম প্রকাশিত রচনা।

১৮৭৮ সালে মাত্র সতের বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। পরে ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন ও সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার স্ত্রী মৃণালিনী দেবী মারা যান।

১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন। তবে ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।

১৯২১ সালে গ্রামন্নোয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন ও সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালির কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে মনে করা হয় বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক।

রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন রয়েছে। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কবিগুরুর যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তার যাবতীয় পত্রসাহিত্য ১৯ খণ্ডে চিঠিপত্র ও ৪টি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। তার রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তিনি সাহিত্যচর্চার জন্য নানা পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে ছিল নোবেল পুরস্কারও । ১৯১৩ সালে গীতা কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।