রবির ১৮২ কোটি টাকা কর ফাঁকি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ০৮:২০ অপরাহ্ণ

রবির ১৮২ কোটি টাকা কর ফাঁকির ঘটনা উন্মোচনে পুনরায় মাঠে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্থানীয় রাজস্ব অডিট অধিদফতরের আপত্তির বিষয়গুলো মাথায় রেখে এগুচ্ছে এনবিআর। অডিট শেষ হওয়ার পর রবির বিরুদ্ধে দাবিনামা জারি করতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারেটকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারেটের চোখে বড় অঙ্কের কর ফাঁকির বিষয়টি ধরা না পড়লেও ২০১৪ সালে স্থানীয় রাজস্ব অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ বিষয়টি ধরা পড়ে। এর পর টনক নড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। নতুন করে কোম্পানিটিকে অডিটের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১২-১৩ করবর্ষে ৮২বিবি ধারায় সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে রবি আজিয়াটা। টিআইএন নং- ১৭৫-২০০-৬৯৫২। দাখিল করা রিটার্ন, বার্ষিক প্রতিবেদন, ট্যাক্স কম্পিউটেশন সিটসহ নথি পরীক্ষা করে স্থানীয় রাজস্ব অডিট অধিদফতরের রাজস্ব শাখা।
নথি নিরীক্ষার পর দেখা যায়, আর্থিক প্রতিবেদনে লাভক্ষতির হিসেবে সিম কার্ড বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কের যে সাবসিডি দেওয়া হয়েছে তা পুনরায় খরচ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, ব্যবসা সম্প্রসারণে নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে সিম কার্ড বিক্রয় করে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ যে সাবসিডি দেওয়া হয়েছে তা আয়কর আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়িক খরচযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের মতামত জানতে ফোন করা হলে প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া মুখপাত্র মহিউদ্দিন বাবর দ্য রিপোর্টকে বলেন, এনবিআরের পক্ষ থেকে ১৮২ কোটি টাকার কর ফাঁকির কোনো ক্লেইম সম্পর্কে রবি অবগত নয়।

এ বিষয়ে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (আয়কর) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় রাজস্ব অডিট অধিদফতরের আপত্তির পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু রবি রাজস্ব বোর্ডের ৮২বিবি (৩) ধারায় অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, সেহেতু চূড়ান্ত রিপোর্টে এ সব স্থানীয় অডিটের আপত্তিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়া রবি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনের ২৪ ও ২৫ অনুচ্ছেদে যানবাহন ভাড়া, ডিলার্স কমিশন, বিশেষজ্ঞ ফি এবং সিকিউরিটি গার্ড বাবদ যে খরচ দাবি করা হয়েছে তার ওপর উৎসে কর ও উৎসে মূসক (মূল্য সংযোজন কর) আদায় করেনি। পাশাপাশি তা আয়কর অধ্যাদেশের ৩০(এএ) ধারা অনুযায়ী অগ্রাহ্য করা হয়নি। ব্যবসা বহির্ভূত এবং অননুমোদনযোগ্য খরচকে মোট আয়ের সাথে যোগ না করে আয় কম দেখিয়েছে কোম্পানিটি। এতে মোট ১৮২ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ১৫ টাকা ফাঁকি দিয়েছে রবি আজিয়াটা।

এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে মহিউদ্দীন বাবর বলেন, এ রকম হতেই পারে না। কারণ রবি একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠান। এখানে সব কিছুই অডিট করা হয়। শুধু দেশে নয়, বিদেশ থেকেও অডিট করা হয়।

এনবিআরের অডিট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোবাইল অপারেটর রবির ফাইল পুনরায় উন্মোচন করা হয়েছে। স্থানীয় রাজস্ব অডিট অধিদফতরের আপত্তিগুলো মাথায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অডিট শেষ হওয়ার পর কোম্পানিটির বিরুদ্ধে দাবিনামা জারি করতে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারেটকে নির্দেশ দেওয়া হবে।