রফিক হত্যাকান্ডের পাচঁদিনও গ্রেফতার নেই

প্রকাশ:| সোমবার, ৩১ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৯:২২ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান ঃ রাউজানের কদলপুরে রফিক আলম হত্যাকান্ডের পাচঁদিন অতিবাহিত হলে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ । রাউজানের কদলপুরে গত ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে পাকা ভবনে কে বা কারা রফিক আলম চৌধুরী প্রকাশ ছুট্ট মিয়াকে হাত, পা, মুখ বেধে কুপিয়ে ও শ্বাসরুদ্ব করে হত্যা করে তার লাশ শয়ন কক্ষের মধ্যে ফেলে রেখে । গত ২৮ জুলাই শুক্রবার সকালে রফিক আলম চৌধুরীর ঘরের নির্মান কাজের শ্রমিকেরা এসে রফিক আলম চৌধুরী প্রকাশ ছুট্ট মিয়ার লাশ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে নিহত রফিক আলম চৌধুরীর ভাতিজা কদলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরীকে সংবাদ দেয় । স্থানীয় চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চৌধুরী এলাকার লোকজন সহ তার বাড়ী থেকে চাচা রফিক আলম চৌধুরীর পাকা ঘরে গিয়ে চাচা রফিক আলম চৌধুরীর লাশ দেখে রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্যাহকে সংবাদ দেয় । ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাউজান রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্ল্যাহ সহ রাউজান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশঁ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন । গত ২৯ জুলাই শনিবার নিহত রফিক আলম চৌধুরীর লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় । নিহত রফিক আলম চৌধুরীর পুত্র মঈন উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে রাউজান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন । মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন রাউজান থানার এস আই টুটুন মজুমদার । গত ৩০ জুলাই রবিবার র‌্যাবের একটি দল, পি আই, বি, রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থার টিম সহ রাউজান থানার পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন । এই সময়ে নিহত রফিক আলম চৌধুরীর পুত্র মামলার বাদী মঈনউদ্দিন চৌধুরী স্ত্রী নাসরিন আকতারের সাথে কথা বলেন । হত্যাকান্ডের সময়ে ৩ একর জমিতে নির্মিত বিশাল পাকা ভবনে রফিক আলম চৌধুরী একা ছিলেন । নিহত রফিক আলম চৌধুরীর পুত্র মঈন উদ্দিন তার মাতা নাসরিন আকতার রফিক আলম চৌধুরীর কনিষ্ট পুত্র প্রতিবন্দ্বী আজিম উদ্দিনকেত নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন । রফিক আলম চৌধুরী বিশাল আয়তনের এই বাড়ীতে একা থাকতো ও নিজেই রান্না করে খেতেন বলে এলাকার লোকজন ও নিহত রফিক আলম চৌধুরীর ভাতিজা সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান । নিহত রফিক আলম চৌধুরীর পুত্র মামলার বাদী মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন ঘর থেকে মালামাল চুরি করার জন্য চোরের দল ঘরে প্রবেশ করলে বাবা চোরদের দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে ঘর থেকে মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে । পুর্বে ও দুইবার ঘরে চোর প্রবেশ করে ঘরের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে । এলাকার লোকজন জানান নিহত রফিক আলম চৌধুরীর সাথে বসত ভিটা নিয়ে এলাকার কয়েকজন লোকের সাথে বিরোধ রয়েছে । বসত ভিটা বিরোধের জের ধরে ও তাকে হত্যা করতে পারে বলে এলাকার লোকজন সন্দেহ করছেন । রফিক আলম চৌধুরী হত্যাকান্ডের ঘটনার মামলার তদন্তকারী অফিসার রাউজান থানার এস আই টুটুন মজুমদার বলেন রফিক আলম চৌধুরীর হত্যাকান্ডের ঘটনায় অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে । হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ । হত্যাকান্ডের দিন রফিক আলম চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যে সব মোবাইল ফোন থেকে ফোন এসেছে ও যে সব মোবাইল ফোনে রফিক আলম চৌধুরী ফোন করেছে তা কল লিষ্ট বের করে দেখা হচ্ছে বলে মামলার তদন্তকারী অফিসার রাউজান থানার এস আই টুটুন মজুমদার জানান ।