রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৪:০০ অপরাহ্ণ

চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সদ্যবিদায়ী ৩০ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলারঅর্থবছরের তুলনায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয়েছে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলবে। বর্তমান সরকারের আমলে বিগত বছরগুলোতেও রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সভায় আশা প্রকাশ করা হয় আগামীতেও এ প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকবে। এজন্য তিনি রফতানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রফতানিকারকদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অবকাঠামো সংস্কার, পোর্ট ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধি করা, ওভেন এবং নিট খাতের মান উন্নয়নে কর্মী প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং সেন্টার ও কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থা, চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য দেশের প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল উৎপাদন ব্যবস্থা করা, কৃষিজাত পণ্য রফতানি বাড়াতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা, চিংড়ি চাষের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও রফতানি বাড়াতে চলমান প্রণোদনা চালু রাখা।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক পণ্যের ক্ষেত্রে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে হিমায়িত খাদ্যের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭৮.৭৭ মিলিয়ন ডলার। হিমায়িত মাছ ৬০.৮৯ মিলিয়ন ডলার। চিংড়ি ৪৭৭.৬৮ মিলিয়ন ডলার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ধরা হয়েছে ৪০.২০ মিলিয়ন ডলার। কৃষিভিত্তিক পণ্যের ক্ষেত্রে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৪৩.৭৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চা ২.৫৬ মিলিয়ন ডলার, তরিতরকারি ১৩২.৪১ মিলিয়ন ডলার, তামাকজাত ৬৪.৯৯ মিলিয়ন ডলার, ফুল ৪৩.৫০ মিলিয়ন ডলার, ফল ৮৬.২৭ মিলিয়ন ডলার, মসলা ২৫.৩৬ মিলিয়ন ডলার, শুকনা খাবার ৫০.৬৭ মিলিয়ন ডলার ও অন্যান্য ২৩৮.০২ মিলিয়ন ডলার। মেনুফ্যাকচারিং পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বমোট রফতানি আয় ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ২৭৭.৪৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সিমেন্ট, লবণ ও পাথরের ক্ষেত্রে ধরা হয়েছে ৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি আয় ধরা হয়েছে ৩৭৬.৭৪ মিলিয়ন ডলার। রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে রফতানি আয় ধরা হয়েছে ১২৪.২৬ মিলিয়ন ডলার। ফার্মাসিউটিক্যাল ৭১.৭৮ মিলিয়ন ডলার, রাসায়নিক সার ১৭.৬১ মিলিয়ন ডলার, প্রসাধনী ০.৮০ মিলিয়ন ডলার ও অন্যান্য ২৪.০৭ মিলিয়ন ডলার। প্লাস্টিক পণ্যের ক্ষেত্রে রফতানি আয় ধরা হয়েছে ৮৯.৪৬ মিলিয়ন ডলার।

চামড়ার ক্ষেত্রে রফতানি আয় ধরা হয়েছে ৪৫৯.৬৯ মিলিয়ন ডলার। চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে রফতানি আয় ধরা হয়েছে ২১০.১১ মিলিয়ন ডলার। কাঠ ও কাঠজাত পণ্যের রফতানি আয় ধরা হয়েছে ২.১৪ মিলিয়ন ডলার। হস্তশিল্প ৬.৭৮ মিলিয়ন ডলার।

পাট ও পাট জাত পণ্যের রফতানি আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬৩.৪৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কাঁচা পাট ২৪১.৪২ মিলিয়ন ডলার। জুট ইয়ার্ন ৫৫৭.৪১ মিলিয়ন ডলার। পাটের ব্যাগ ২৯৬.৭৮ মিলিয়ন ডলার, কার্পেট ১০.৫৮ মিলিয়ন ডলার।

ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের ক্ষেত্রে লৌহজাত ইস্টিল ৫৮.৫১ মিলিয়ন ডলার, ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রপাতি ৫১.১৭ মিলিয়ন ডলার, ইলেকট্রনিক পণ্য ৬৫.৬১ মিলিয়ন ডলার, বাইসাইকেল ১১০.৩৩ মিলিয়ন ডলার, ফার্নিচার ৩৭.৬৯ মিলিয়ন ডলার। কম্পিউটার সার্ভিসের ক্ষেত্রে ১৫৪.৪৫ মিলিয়ন ডলার। এদিকে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে সব পণ্যের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার মিলিয়ন ডলার। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ২৭ হাজার ২৮.৭ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩.৪৭ শতাংশ অর্জন কম হয়েছে।


আরোও সংবাদ