যৌতুক প্রথা বন্ধে আলেম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ৬ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ১০:১০ অপরাহ্ণ

লালদীঘি মাঠে যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশে প্রতিমন্ত্রী জাবেদ

যৌতুক বিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কন্যাদায়গ্রস্থ পরিবারগুলোকে বাঁচাতে হবে-আল্লামা নূরী

আনজুমানে রজভিয়া নূরীয়া বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ১০ম যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশ আজ ৬ জানুয়ারী শনিবার বিকেলে নগরীর লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়ার সভাপতি পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী (মু.জি.আ) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তিনি বলেন, যৌতুক একটি সামাজিক ব্যাধি ও দুষ্টক্ষত। যৌতুকের কারণে প্রতিদিন শত শত পরিবারে নেমে আসছে দুর্ভোগ-দুর্যোগ। যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় প্রতিনিয়ত গরিবের সংসার ভাঙ্গছে। যৌতুকের গ্লানি ও অভিশাপ থেকে দেশ ও সমাজকে বাঁচাতে আলেম-উলামা ও ইমাম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। প্রতিমন্ত্রী যৌতুক বিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এই দুষ্টক্ষত থেকে গরিব পরিবারগুলোকে বাঁচানোর তাগিদ দেন। পীরে তরিকত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী সূচিত এই আন্দোলনকে সারা দেশে প্রসারিত করে যৌতুকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি। মহাসমাবেশে উদ্বোধক ছিলেন চউক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুদচ ছালাম। তিনি বলেন, যৌতুক দেয়া-নেয়া বন্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই। নারী প্রতি সহিংসতা থামাতে ও যৌতুক প্রথা বন্ধে আলেম সমাজ ও মসজিদের ইমাম-খতিবদের সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন। তিনি বলেন, আলেম ও ইসলাম সমাজ চাইলে বড় কিছু কাজ করা যায়। এ বড় দৃষ্টান্ত আল্লামা নূরীর যৌতুক বিরোধী আন্দোলন। দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায় ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি যৌতুক বিরোধী ও নারী নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিচ্ছেন। সরকার, রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে যৌতুকবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, রূপালী ব্যাংকের পরিচালক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। মাহমুবুল আলম বলেন, যৌতুক নেয়াকে একটি ঘৃণ্য কাজ হিসেবে গণ্য করতে হবে। কোনো আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন যুবক যৌতুক দাবি করতে পারে না। সাংবাদিক আবু সুফিয়ান বলেন, যৌতুক দিতে না পারায় গরিব পরিবারগুলোতে আজ নেমে এসেছে দূর্ভোগের কালো ছায়া। যৌতুকমুক্ত বিয়ের জন্য যুবকদেরকে সহজ শর্তে বিনা সূদে ঋণ প্রদান এবং ম্যারেজ ফান্ড গঠনের মাধ্যমে যৌতুকমুক্ত বিয়ের খরচ জোগাতে সরকারের প্রতি দাবী জানান। ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী বলেন, যৌতুক দেবোনা এবং যৌতুক নেবোনা-যুবকদের মধ্যে এই চেতনাকে জাগ্রত করতে পারলে যৌতুকের অভিশাপ থেকে পরিত্রাণ মিলবে। সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আবুল কাশেম নূরী বলেন, ঈমানি চেতনা ও মানবতাবোধ থেকেই আমি যৌতুকবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছি। এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনসহ বোদ্ধ সমাজকে আমি পাশে পেতে চাই। যৌতুকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি যৌতুকবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানান। প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি বলেন, শুধু সরকার একার পক্ষে নারী নির্যাতন ও যৌতুক বিরোধী আন্দোলন সফল করা সম্ভব নয়। এই দুষ্টক্ষয় নির্মূলে সবাইকে সোচ্ছার হতে হবে। প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ সেলিম ও শায়ের মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরীর এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসেন। যৌতুক বিরোধী প্রস্তাবনা পাঠ করেন সদস্য সচিব মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান রুবায়েত। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.পি, উদ্বোধক ছিলেন সিডিএ এর চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ আলহাজ্ব মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এর মহাসচিব জননেতা আলহাজ্ব আল্লামা এম.এ মতিন। আলোচনায় অংশনেন চবি’র ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক মুজাদ্দেদী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিধ ও কলামিস্ট ড. মুহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি’র ড. মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল আযহারী, মাসিক আর-রেযার সম্পাদক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তালেব বেলাল, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক কামাল উদ্দীন আহমদ, আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ নুরুল হক, আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশের অর্থ সচিব এড. আবদুর রশিদ দৌলতি, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সাধারণ সম্পাদক সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবু আজম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. শহীদুল্লাহ। বাদে মাগরিব হতে ২য় অধিবেশন তাফসীরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমানে আহলে সুন্নাত, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা কাযী মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম হাশেমী (মু.জি.আ), উদ্বোধক ছিলেন পীরে তরিক্বত, সৈয়্যদ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী (মু.জি.আ)। তাফসীর পেশ করেন-ভারত থেকে আগত আল্লামা নাবিল আখতার মুজাদ্দেদী, শায়খুল হাদিস আল্লামা কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী (মু.জি.আ), আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার, হযরতুলহাজ্ব আল্লামা ড. সৈয়্যদ এরশাদ আহমদ আল বোখারী (মু.জি.আ), অধ্যক্ষ হযরতুলহাজ্ব আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ (মু.জি.আ), আল্লামা কাযী মুহাম্মদ ইউনুচ রজভী, প্রভাষক হযরতুলহাজ্ব আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রেজভী (মু.জি.আ)। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সচিব কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম কারাপরিদর্শক এডভোকেট জিন্নাত সোহানা চৌধুরী, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, আলহাজ্ব নাঈম উল ইসলাম, আবু ছালেহ আঙ্গুর, মুহাম্মদ মিয়া জুনায়েদ, মাওলানা আবদুল কাদের রজবী, ছাত্রনেতা ফরিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফরিদুল আলম, মুহাম্মদ আবদুল কাদের রুবেল, মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন, মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম কাদেরী, মুহাম্মদ মফিজুর রহমান, মুহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। সালাত সালাম শেষে দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-কল্যাণ এবং নিপড়িত মানতার পরিত্রাণ কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন পীরে তরিক্বত আল্লামা আবুল কাশেম নূরী (মু.জি.আ)।