যে কোন মূল্যে লালদিঘী মাঠে সমাবেশ হবে: বিএনপি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৯:৩৩ অপরাহ্ণ

bnpবিএনপিসরকার অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে অভিযোগ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক কোন আইন জনগণ মানবে না।

জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। তাদের সাথে নিয়েই আমরা লালদিঘী মাঠে সমাবেশ করবো।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর যে যেখান থেকে যেভাবে পারেন সমাবেশে উপস্থিত হবেন- নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে বেলা ৩টায় নগরীর ওয়াসা মোড়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশি বাধায় সমাবেশ করতে পারেনি তারা। এর প্রতিবাদে নাসিমন ভবনের সামনে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে সরকার প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে অভিযোগ করে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে গণজোয়ার শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এ জোয়ারে ভেসে যাবে।

বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ বিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে জন জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করার সাধ্য কারো নাই।

‘সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার জনগণের ভোটের ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়। গণবিরোধী সরকারের আইন জনগণ মানবেনা।’

যে কোন মূল্যে লালদিঘী মাঠের সমাবেশ করা হবে জানিয়ে তিনি সকল নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

বিএনপি সিনিয়র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার কথা থাকলেও তারা সরকারের পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এজন্য জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কেউ মানবে উল্লেখ করে বলেন, এখন থেকে সভা সমাবেশ হবে। প্রশাসনের আইন কেউ আর মানবে না।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি। এজন্য নেত্রী রূপরেখা দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সে রূপরেখা বাস্তবায়ন না করে নানা টালবাহানা শুরু করেছে।

লালদিঘী মাঠের সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে সভা-সমাবেশের উপর পুলিশের নিষেধাজ্ঞা জারি পরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে এমন অনেক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ হয়েছে। আগমীকালও হবে।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা.খুরশিদ জামিল বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠান জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তাই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আমরা আইন ভঙ্গ করে সমাবেশ করছি।

তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দাঁড়িয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করতে দেয়নি।

সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অারও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইসকান্দার আলী চৌধুরী, ডা. জসীম উদ্দিন, প্রফেসর নসরুল কদীর, কাজী আকবর, ডাঃ ইসা চৌধুরী, সাংবাদিক শাহ নেওয়াজ, ডাঃ আব্দুর রব, মোস্তফা নাঈম, সাংবাদিক মোহাম্মদ আরিফ, ডাঃ সরওয়ার কামাল, ডাঃ ইমরান আহমেদ, ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, নগর যুবদল সভাপতি কাজী বেলাল, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন দিপ্তী, নগর বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী, আহমেদুল আলম রাসেল ও আব্দুল মান্নানসহ বিপুল সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ