যুবলীগ নেতার গাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি মিনি ট্রাকে (ডাম্পার) গত ১২ মার্চ রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে পেকুয়া থানার এস আই বিমল কান্তি দেব বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন। যার মামলা নং পেকুয়া থানা ০৮।

এ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ, মো. মিয়া (১৯), মো. হুমায়ন কবির (৩০), ছাত্রদল কর্মী মো. রাসেলকে। গ্রেফতারকৃতদের আজ শনিবার আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। মামলায় ১ নং আসামী করা হয়েছে পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. বাহাদুর শাহকে।

মামলার অপরাপর আসামী হলেন, পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা যুবদলের সাংগঠিনক সম্পাদক ইউসুফ রুবেল, বিএনপি নেতা মাহবুবুল করিম মেম্বার, যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আহসান উল্লাহ, বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ মেম্বার, বিএনপি কর্মী নুরুল আবছার, ছাত্রদল কর্মী মো. রাসেল, মো. মিয়া, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ, মো. হুমায়ন কবির, বিএনপি কর্মী নুরুল হক, মো. কফিল উদ্দিন, মোস্তাফা কামাল, মো. জাফর মিয়া, উপজেলা জামায়াতের সেক্রটারী ও বারবাকিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, জামায়াত নেতা মৌলভী লিয়াকত আলী, উপজেলা যুবদল নেতা মো, সাজ্জাদ, আবু ছালেক, মো. এরশাদ, শীলখালী যুবদল সভাপতি ও স্বাস্থ্য সহকারী রাশেদুল কবির, বাহার উদ্দিন, মো. আজিজ, মো. সারোয়ার, সালাহ উদ্দিন, পারভেজ উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মো. লেদু, আব্বাস উদ্দিনসহ আরো ১৫/২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

পুলিশ মামলার এজাহারে বাদী পেকুয়া থানার এস আই বিমল কান্তি দেব উল্লেখ করেছেন, গত ১২ মার্চ রাতে বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের আটকের গুজবের খবরে পেকুয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা পয়েন্টে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বালু বস্তা ও গাছ ফেলে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে গাড়ী ভাংচুরসহ গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে। এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো, জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন একটি ডাম্পার ট্রাক পোড়া অবস্থায় রাস্তার উপর থেকে উদ্ধার করে।

মামলার বাদী পেকুয়া থানার এসআই বিমল নাথ জানান, গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ৩০ জনের নামে থানায় তিনি মামলা করেছেন। আর এঘটনায় পেকুয়া জামায়াতের আমীরসহ ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানালেন।

পেকুয়া থানার ওসি মো. আবদুর রকিব জানান, পেকুয়ায় নাশকতা সৃষ্টিাকারীদের কোনভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা। পেকুয়া গাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় পৃথক ২টি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কামরান জাদীদ মুকুট মোবাইলে এ প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িত নাই। আক্রোশের বশত: পেকুয়ার নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ঘটনায় এ ছাত্রদল নেতা নিন্দা জানিয়ে সকল নেতাকর্মীর নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবী করেেেছন।