ছাত্রলীগ-যুবলীগের যুদ্ধে শিশুসহ নিহত ২,লিমন বহিষ্কার,গ্রেপ্তার ৫২

প্রকাশ:| সোমবার, ২৪ জুন , ২০১৩ সময় ০৩:০৫ অপরাহ্ণ

নিহত আরমানের মায়ের আহাজারী

চট্টগ্রামে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে সোমবার ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে।যুবলীগের বন্দুকযুদ্ধে শিশুসহ নিহত ২catroনিহতরা হলো- আরমান (৮) ও সাজু (২৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সিআরবি (রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সদরদফতর) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোস্তাক আহমেদ দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, গুলিতে আরমান ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুলিবিদ্ধ সাজুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, আজ ফেনী রেলস্টেশনসহ তিনটি কাজের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিদারুল আলমের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমন ও অন্যরা দরপত্র জমা দিতে নগরীর সিআরবির রেলভবনে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত যুবলীগের নেতা হেলালের অনুসারী অজিত, খোকন ও পিন্টু তাঁদের বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে দুই পক্ষই গুলি ছুড়তে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রিমন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সাজু বাবর গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।এসময় আরমান রাস্তায় খেলছিল।গুলিতে আরমান ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তারা জানান, বন্দুকযুদ্ধের সময় হেলাল আকবর বাবর গ্রুপের সাজু প্রতিপক্ষের গুলিতে গুরুতর আহত হন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গঠনতন্ত্র-বহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ায় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাইফুল আলম ওরফে লিমনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল এ তথ্য জানান।নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রিয় নেতা নিউজ চিটাগাং ২৪ডটকমকে বলেন ছাত্রলীগের কিছু সদস্যের কারনে সরকার বারবার বিব্রত আবস্হায় পড়ছে,আমরা নিজেদের পরিচয় দিলে অনেকে বিরুপ মন্তব্য করে । তাই এখন থেকে আর কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা ।

চট্টগ্রামে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংঘর্ষে দু’জন নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেজাম উদ্দিন মঙ্গলবার বাংলানিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

কোতয়ালী থানার সেকেন্ড অফিসার উৎপল বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামীদের সবাইকে চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে তাদের হাজির করা হবে। সেখানে রিমান্ড আবেদনের শুনানির সম্ভাবনা আছে।

এর আগে সোমবার রাতে নগরীর কোতয়ালী থানার এস আই মহিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর (৫৫)।

এতে গ্রেপ্তার থাকা ৫২ জনসহ ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ১৪৬, ১৪৮, ১৪৯‍, ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রায় দেড়কোটি টাকার তিনটি কাজের টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ দিনে টেন্ডার জমা দিতে আসে বাবর গ্রুপ ও লিমন গ্রুপ। তবে ঘটনাস্থলে লিমন উপস্থিত থাকলেও বাবর অনুপস্থিত ছিল।

সূত্র জানায়, টেন্ডার জমা দিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর থেকে লিমনসহ অন্যান্যদের চা খাওয়ার কথা বলে বাবর গ্রুপের লোকজন সাত রাস্তার মাথায় নিয়ে যায়। সেখানে উভয় পক্ষের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে।

পরে উভয় পক্ষ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরকে হামলা করলে সাজু পালিত (২৮) ও আরমান হোসেন (৮) নামের দুইজন নিহত হন।

মামলায় যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম লিমনকেও আসামী করা হয়েছে। এছাড়া টেন্ডারবাজির হোতা কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিদারুল আলমকেও আসামী করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনার পর লিমনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আর বাবরের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।


আরোও সংবাদ