যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ ২১ বছরেও হারানো চাকুরী ফিরে পায়নি!

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১০:০৫ অপরাহ্ণ

আবদুর রশিদনজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই
২১ বছরেও মিথ্যা অভিযোগে চাকুরীচ্যুত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ (৮২) হারানো চাকুরী ফিরে পায়নি। চাকুরী ফিরে পেতে একের পর এক মামলা চালাতে গিয়ে তিনি আজ সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে আট জনের পরিবার নিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অথচ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বা অন্য কোন সহযোগীতা পায়নি। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলাধীন সুধারাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি এলাকায় বসবাস করছেন।
আবদুর রশিদ জানান, ১৯৫৯ সালে তিনি ২নং ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে সিপাহী পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। ১৯৬৩ সনে তিনি ল্যান্স নায়েক (নং-৩৯৩২৫১৭ টিএস নং-১৮৫৩) পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। এরপর সিলেট জেলাধীন শ্যামপুর নগর এয়ারপোর্ট সার্কিট হাউজে কর্মরত অবস্থায় ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহিত সক্রিয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণকালীন কসবা, আখাউড়া চেকপোষ্টের কাছে তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনীর চাকুরী থেকে অবসর প্রাপ্ত হন।
অবসর নেওয়ার পর ১৯৭৫ সালেই তিনি কাপ্তাইয়ের বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফআইডিসি) নিরাপত্তা প্রহরী পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে সুনামের সাথে এ সংস্থায় চাকুরীরত অবস্থায় তৎকালীন কাপ্তাই বিএআইডিসি কর্তৃপক্ষ ১৯৯২ সালে মিথ্যা চুরির অভিযোগে তাকে চাকুরীচ্যুত করে। চাকুরী ফিরে পেতে তিনি রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের আদালতে ওই বছরেই একটি মামলা দায়ের করেন। এখানে মামলার রায় তার পক্ষে যায়। এভাবে চারবার তিনি রায় পেলেও বিএফআইডিসি কর্তৃপক্ষ পুনরায় আপিল করলে বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বারবার রায় পাওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর মামলা চালাতে গিয়ে আবদুর রশিদের পরিবার সব হারিয়ে আজ পথে বসেছে। হাইকোর্টে আপিল মামলা চালানোর মত তার সাধ্য নেই। প্রতিটি মামলায় বিএফআইডিসি কর্তৃপক্ষ হেরে গেলেও উচ্চ আদালতে আপিল করে তারা সময়ক্ষেপন করছেন। মামলা চালানোর কারণে ১৬ বছর চাকুরী করলেও আজ পর্যন্ত জমা টাকা গুলোও তারা দেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ সরকারিভাবে কোন মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র নেয়নি। কিন্তু ১৯৭১ সালে ২নং সেক্টরের অধীন ৪নং ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় সক্রিয়ভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন বলে চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে ২০০২ সালে একটি মুক্তিযোদ্ধা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এর পূর্বে তিনি ২০০০ সালে ক্রমিক নং- ২৭৯৫৭১ মূলে রাষ্ট্রিয় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য একটি আবেদন করেন। সর্বশেষ গত ১৩ই জুন ২০১০ নোয়াখালী সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে একটি প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়। সমস্ত কাগজ পত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। বর্তমানে আর্থিক অনটনে পড়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের পরিবার চরম দুঃখ কষ্টে দিন যাপন করছে। উল্লেখ্য, য্দ্ধুাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদকে প্রতি বছর ১৬ই ডিসেম্বরে উপজেলা থেকে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় সংবর্ধনা সহ সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়।