যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শহীদ জননীর আন্দোলনের ফল

প্রকাশ:| বুধবার, ২৬ জুন , ২০১৩ সময় ১১:১৫ অপরাহ্ণ

সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার হচ্ছে তা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সূচিত গণআন্দোলনের ফসল।  শহীদ জননীর দুর্নিবার আন্দোলন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনামুখি করেছে। যা গণজাগরণ jahanara-bg20130626085204মঞ্চ তৈরি করতে সাহস জুগিয়েছে।’

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম-এর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম একাডেমি মিলনায়তনে ‘সাম্প্রতিক মৌলবাদী কর্মকাণ্ড : নাগরিক সমাজের করণীয় ও আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক এ  আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।

সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য মো. জোবায়েরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী,  দীপংকর চৌধুরী কাজল, স্বপন সেন, শফিকুল হাসান, শিকিক্ষা ও সংস্কৃতিসেবী বৃজেট ডায়েস, অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, নির্মূল কমিটি জেলা নেতা মো. অলীদ চৌধুরী, সাহাব উদ্দিন মজুমদার, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, মাউসুফ উদ্দীন মাসুম, অমিত নন্দী, সাব্বির হোসাইন প্রমুখ।

শহীদ জননীকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মিলি চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধে লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে পেছনে ফেলে যে অজগরটি সামনে মাথাচাড়া দিচ্ছে সেটি হেফাতজে ইসলাম। নামে হেফাজত হলেও এটির চালিকাশক্তি কিন্তু জামায়াত। শুধুমাত্র সময়ের কারণে রাজনৈতিক দলটি অন্য জায়গায় নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে অন্য নামে। শুধু তাই নয়, এসব জামাতি নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নিজের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদেরও অস্বীকার করতে দ্বিধা করেনা।

এদিকে আবৃত্তি সংগঠন প্রমার আয়োজনে চট্টগ্রামের ষ্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আলাদা ভাবে পালিত হয়।

প্রমা সভাপতি রাশেদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. অনুপম সেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফী, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান ও প্রমার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গণজাগরণ মঞ্চ, চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান, প্রজন্ম ’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক সলিল চৌধুরীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ জননীর জীবনী পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী শর্মিষ্ঠা বড়ুয়া এবং কংকন দাশ, মোহিত বিশ্বাস, সাইফুর রহমান এবং নাজমুল আলীম সুমন কবিতা পাঠ করেন।