যানজট নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৩ মে , ২০১৮ সময় ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নগরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাতটি সুপারিশ
নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ মে) সকালে নগরভবনে সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠকে নগরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে ত্রিমূখী আলাপ-আলোচনা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বৈঠকে পেশকৃত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রতিনিধিদের সাথে নানামূখী আলাপ-আলোচনা করেন।

বৈঠকে নগর জুড়ে কমপ্রিহেনসিভ ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুকরণ, আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতিকে সমন্বিতকরণ, চলতি রমজান মাসে সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায় রেলগেইট বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মালবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা, ইষ্টার্ণ রিফাইনারি, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা অয়েল কোম্পানিসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ড্রাই ডকের সকল ধরণের পরিবহনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করণ, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মাটি অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং পোর্টকানেকটিং রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, আরকান সড়ক, হাটহাজারী সড়কসহ যে সকল সড়কে ওয়াসার পাইপ লাইনের কর্তন কাজ চলমান আছে সে সকল সড়কে অন্তত এক পাশ দুই লাইনে যান ও পরিবহন চলাচলে উপযোগী করাসহ ৭টি সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ঐক্যমত পোষণ করেন।

বৈঠকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে চলতি রমজানে যানজট সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে প্রত্যেককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়ন্ত্রণকারী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সড়ক মোড়গুলোতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি চসিকও নগরের যে সকল সড়কে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেখানে আপদকালিন ব্যবস্থা হিসেবে বিকল্পসড়ক চালুকরণ, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নিমতলা বিশ্বরোড থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত চলমান উন্নয়ন কাজে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মাটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অপসারণ করবে এবং পোর্টকানেক্টিং রোড অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার লক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।
মেয়র আরও বলেন, ড্রেন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট নালা বন্ধ রাখার কারণে যে সকল সড়ক স্থানে জলজট সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে আপাতত নালা অবমুক্ত করে দেয়াসহ চসিকের পক্ষ থেকে সুপারিশকৃত প্রস্তাবনা সমূহ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

বৈঠকে তিনি সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার রেলগেইট বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা, জাকির হোসেন রোডের রেলগেইট সংস্কারকরণে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ইতিবাচক সহযোগিতা কামনা করেন।

রমজানে মফস্বল এবং উপজেলা শহর থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ লাখ মানুষ নগরে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নগরে বেড়ে গেছে যানবাহন এবং পরিবহন সংখ্যা। প্রতিদিন বাইরে থেকে হাজারো যানবাহন ও পরিবহন নগরে প্রবেশ করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার ওপর যানবাহনের এ চাপ বেড়েই চলছে। যানজট নিরসনে একটি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুকরণে ইতিমধ্যে চসিক এবং সিএমপি ট্রাফিক বিভাগ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রস্তাবনাটি অনুমোদনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপিত করা হবে।

বৈঠকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল জিএম সৈয়দ ফারুক আহমেদ, সিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, বাংলাদেশ রেলওয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ, এসি ট্রাফিক (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান, টি আই কোতোয়ালি মুন্সী হাফিজুর রহমান, বন্দর টি আই প্রশাসন আবুল কাশেম চৌধুরী, চসিক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা, আনোয়ার হোসাইন, আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, বিপ্লব দাশ, অসিম বড়ুয়া, ফরহাদুল আলম, সুদীপ বসাক, আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

.