যশোরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান মিন্টু নিহত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:২৬ অপরাহ্ণ

জিল্লুর রহমানযশোরের চৌগাছায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে উপজেলার সিংহঝুলি ইউপি চেয়ারম্যান ও যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টু (৪৮) নিহত হয়েছেন। তিনি চৌগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিউর রহমানের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে চেয়ারম্যান মিন্টু ইউনিয়ন পরিষদের পাশে হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং শেষে হেঁটে ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় দু’জন হেলমেট পরা সন্ত্রাসী মোটর সাইকেলে এসে তার মাথায় ও বুকে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে দ্রুত মোটর সাইকেলে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন তার ব্যবহূত ব্যক্তিগত জিপে করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোরের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, হামলাকারীরা তরুণ এবং তাদের সকলের মাথায় হেলমেট পরা ছিল বলে স্থানীয়রা তাদের চিনতে পারেনি। তিনি জানান, পাইপগান, ওয়ান বা নাইন শ্যুটারে ব্যবহূত হয় এমন ধরনের ছররা গুলি হত্যায় ব্যবহূত হয়েছে। হত্যাকারীরা শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ৩টি গুলি করেছে। এ ধরনের একটি গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত হয় না তাই পরপর ৩টি গুলি করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, হত্যার মোটিভ এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে যুবদল কর্মী আতিয়ার হত্যা, বিএনপি কিংবা দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সাথে হত্যার যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মিন্টুর বাড়িতে আহাজারি: বিকালে মিন্টুর শহরের পুরাতন কসবার বাসায় গিয়ে দেখা যায় মা, স্ত্রী, মেয়েসহ স্বজনদের আহাজারিতে হূদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধা মা মাজেদা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘তোমরা লিখে নাও এসএম (চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএস হাবিব) আর শামীম (কুখ্যাত সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত) আমার ছেলেরে খুন করেছে। ওরা আরও খুন করবে।’ নিহতের স্ত্রী মিতার ‘আমার মিন্টুরে ফিরিয়ে দাও’ আহাজারিকে সান্ত্বনা দিতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিজেরাই আহাজারিতে মেতে ওঠেন। পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া বড় মেয়ে অথৈকে সান্ত্বনা দেয়ারও ভাষা ছিল না কারও।

হাসপাতালের দৃশ্য: লাশ যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আনার পর মানুষের ঢল নামে। সেখানে উপস্থিত নিহতের ভাই রেজাউর রহমান রেন্দু ইত্তেফাককে জানান, ‘গত বছর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার ভাই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এসএস হাবীব প্রার্থী হবার পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রেজা রাজু পরবর্তী বার আমার ভাইকে প্রার্থী করা হবে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। সেই নির্বাচনের পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলার জন্যই আমার ভাইকে হাবীব হত্যা করেছে।’ মামলায় তাকে আসামি করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

বিক্ষোভ মিছিল: জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিল্লুর রহমান মিন্টু হত্যার প্রতিবাদে বিকালে যশোর জেলা ছাত্রলীগ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত মিন্টুর প্রয়াত পিতা আতিউর রহমান এরশাদ শাসনামলে চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ইংরেজি দৈনিকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত আতিউর রহমান এলাকায় ছিলেন জনপ্রিয়। সজ্জন হিসেবেও তার সুনাম ছিল।

চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের দোকানপাট এবং চৌগাছার সকল রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের একাংশ চৌগাছা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এক মাসে তিন খুন: চলতি মাসেই চৌগাছায় তিনটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। ৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ নেতা আমিরুল, ২৪ সেপ্টেম্বর যুবদল নেতা আতিয়ারের পর গতকাল ঘটল চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যার ঘটনা। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গ্রুপ আজ শুক্রবার থেকে চৌগাছায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতাল আহ্বান করেছে। চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগ দু’ভাগে বিভক্ত হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না ।