যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাতঃস্মরণীয়

প্রকাশ:| শনিবার, ২২ জুলাই , ২০১৭ সময় ০৮:৩০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের স্মরণ আলোচনায় বক্তারা
চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, কলকাতা সিটি কর্পেরোশনের ৫ বারের নির্বাচিত মেয়র দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে এক স্মরণ আলোচনা সভা গত ২১ জুলাই সন্ধা ৭টায় ঢাকার ধানমন্ডিস্থ ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বরেণ্য লেখক, গবেষক ও ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক এম. আর. মাহবুব। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও প্রকাশক স.ম. ইফতেখার মাহমুদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ফয়সাল বাপ্পাী, সংগঠক মিজানুর রহমান, সৈকত চৌধুরী, লেখক শরীফ হোসাইন, আজিজুর রহমান, বিপ্লব দাশ, মোঃ ইয়াসিন প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত বাঙালীর গর্ব ও অহংকারের বাতিঘর। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আলোকজ্জ্বল প্রাতঃস্মরণীয় মহামনীষীর নাম দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণকারী এই কৃতীপুরুষ আমাদেরকেও তার কর্মগুণে গৌরবান্বিত করেছে। একাধারে একজন সফল রাজনীতিবিদ ও সার্থক প্রশাসক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের মত একটি প্রাচীন সিটি কর্পোরেশনে ৫ বারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সহিত তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। যা ইতিহাসে খুবই কম উদাহরণ পাওয়া যাবে। এই মহামনীষী কলকাতা ও চট্টগ্রামে ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যা থেকে বর্তমানে হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের আলোকিত মানুষ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ভারতীয় কংগ্রেস দলের মত অতিপ্রাচীন ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত আজীবন বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। সমস্ত পদ পদবীর উর্ধ্বে উঠে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে নিজেকে এক ত্যাগী ও মহৎ মানুষ নিজেকে প্রাতঃস্মরণীয় রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বক্তারা এই মহামনীষীতুল্য রাজনীতিবিদদের জীবন চর্চা থেকে বর্তমান প্রজন্মের নেতৃত্বকে শিক্ষা অর্জন করার অনুরোধ জানান।

পূর্ববাংলার মুকুটহীন সম্রাট দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহনের ৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
চট্টগ্রামে শিক্ষা-সমাজ উন্নয়ন-রাজনীতি কিংবা সমাজ সংস্কারে
যাত্রামোহন-যতীন্দ্রমোহনকে ডিঙিয়ে এখনো কালজয়ী সমাজকর্মী তৈরি হয়নি

২২ জুলাই ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কালজয়ী মনীষী, পূর্ববাংলার মুকুটহীন সম্রাট, সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি, কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের পাঁচবারের নির্বাচিত মেয়র, চট্টগ্রামের সোনার মানুষখ্যাত দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সকালে আলোচনা সভা ও যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তে ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ মৃত্যুঞ্জয়ী যাত্রামোহন সেনগুপ্ত, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ ও চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক সোহেল মো. ফখরুদ-দীনের সভাপতিত্বে স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও রাজনীতিবিদ অমর কান্তি দত্তের পরিচালনায় উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও রাজনীতিবিদ সিদ্দিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ এ বি এম ফয়েজ উল্লাহ, প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবিদ বাবুল কান্তি দাশ, খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক সংগঠক ও ভাস্কর শিল্পী ডি কে দাশ মামুন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ কুতুবী, এ কে এম আবু ইউসুফ, মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক দিদারুল আলম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, তপন কান্তি দাশ, অনুকর বড়–য়া, হ্যাপী দাশ, সাংবাদিক শিবলী ছাদেক কফিল, শহীদুল ইসলাম সুমন, লায়ন এম. আইয়ুব, অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল আলম, ডা. অঞ্জন কুমার দাশ, কেশব কান্তি পাল, শিউলি খাতুন, কবি শাহনুর আলম, ডা. বিমল তালুকদার, ডা. শওকত জাহান রুম্মান, প্রাবন্ধিক এস এম ওসমান গণি প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেছেন, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ ও কলকাতায় শিক্ষা বিস্তার, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, সমাজ উন্নয়ন, রাজনীতি কিংবা সমাজ সংস্কারে মৃত্যুঞ্জয়ী যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত এর অবদান অতুলনীয়। কালজয়ী এই মনীষীদের সমাজ ও দেশের জন্য রেখে যাওয়া অবদান পর্বত সমতুল্য। মৃত্যুর এতটি বছর অতিবাহিত হলেও বর্তমান সময়ে এসে তাঁদের অবদানকে ডিঙিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী এখনো তৈরি হয়নি। আমরা সেই মহান সমাজ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে ব্যর্থ হচ্ছি বারেবারে। যাঁদের জীবন দেশের জন্য উৎসর্গীকৃত, সেই মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালিত হয় না। আমাদের জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে গর্বিত নাগরিক চট্টগ্রামের সোনার মানুষখ্যাত দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও মৃত্যুঞ্জয়ী যাত্রামোহন সেনগুপ্তের জীবনকর্ম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরী। বক্তারা আরো বলেছেন, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের পাঁচ পাঁচবার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে একসময়ের প্রাণকেন্দ্র জেএমসেন হল, কৃষ্ণকুমারী উচ্চ বিদ্যালয়, কুসুমকুমারী উচ্চ বিদ্যালয়, অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জেএমসেন স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কলেজ, বরমা ত্রাহিমেনকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিনোদিনী বালিকা বিদ্যাপীঠ, জেএমসেন দাতব্য চিকিৎসালয়সহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাঁর দানকৃত সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার শিক্ষার্থী হাতেকলমে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছে। এত বড় একজন গুণী ও মহৎ মানুষের জীবনকর্ম বর্তমান সমাজের প্রতিটি স্তরে ও প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব। গুণী মানুষের কদর না করলে সমাজে আরেকজন গুণী মানুষের জন্ম হবে না। সেই বাক্যকে কাজে লাগিয়ে গুণীজনদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব। বক্তারা আরো বলেছেন, এই আলোকিত মনীষী ১৯৩৩ সালের ২২ জুলাই ভারতের রাঁচিতে ব্রিটিশদের নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজবন্দী অবস্থায় পরলোকগমন করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, বাংলার ইতিহাসের সেরা কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব, দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ১৮৮৫ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রামের প্রাচীন জনপদ বর্তমান চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সেন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের পিতা ছিলেন বঙ্গীয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য দেশবিখ্যাত আইনবিদ যাত্রামোহন সেনগুপ্ত। যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ভারতীয় উপমহাদেশের কংগ্রেসের রাজনীতিতে সুবিশাল পরিচিত। দিনের শুরুতে ঐতিহাসিক জেএমসেন হলের সম্মুখে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ও মৃত্যুঞ্জয়ী যাত্রামোহন সেনগুপ্তের ভাস্কর্যে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।