মৎস চাষ বদলে দিয়েছে শত শত মানুষের ভাগ্য

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

আবু সাঈদ ভূঁইয়া, মিরসরাই
টগবগে যুবক ফিরোজ শাহ, বেকারত্ব ছিল তার জীবনের জন্য অভিশাপ। এইচ এসসি পাশ করার পর পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে পড়া-লেখাও আর হয়নি। তার উপর পিতাহারা পরিবারের ৬ সদস্যদের দায়িত্বও উঠে তার কাঁধে। এদিক, ওদিক ছুটেও চাকুরী জোটেনি তার কপালে। তখন তার সামনে ঘোর অন্ধকার। ঠিক তখনি বাড়ির পাশের এক লোকের পরামর্শে তিন একর জায়গা নিয়ে শুরু করেন মৎস্য চাষ। সেই শুরু আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি। এখন সে ওসমানপুর এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত মৎস্যচাষী। তার মৎস্য চাষ হচ্ছে অর্ধশত একরেরও বেশি।
এ শুধু একজন ফিরোজ শাহ‘র গল্প। শুধু ফিরোজ শাহ নয় এভাবে শত শত বেকার যুবক মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় মৎস্য চাষ করে আজ কোটিপতি।
চট্টগ্রাম জেলার ৭০ ভাগ মৎস্য চাহিদা পুরণ করা হয় মুহুরী চরের শত শত মৎস্য প্রকল্প থেকে। একসময় যেসব যুবকরা বেকারত্বের অভিশাপে অভিশপ্ত ছিল আজ তারা বানিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। এভাবে মৎস্য চাষের মাধ্যমে বদলে গেছে কয়েক শত বেকার যুবকের ভাগ্যের চাকা। মুখে হাসি ফুটেছে হাজার হাজার লোকের। সোনালী মাছে ভরে উঠছে এক একটি মৎস্য প্রকল্প।
উপজেলার শত শত যুবকের জীবন বদলে দেওয়ার উৎস মৎস্য চাষ। ইতিমধ্যে দেশের সবচে বড় মৎস্য জোন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এ প্রকল্প এলাকা। উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ বাজার থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মুহুরী প্রজেক্ট সেচ প্রকল্প। ১৯৮৪ সালে সরকার ফেনী নদীর মিরসরাই অংশে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধ নির্মাণের পর প্রায় ৫০ হাজার একরেরও অধিক জমি জেগে উঠেছে উপকূলীয় বঙ্গোপসাগরের মোহনায়। এই বাঁধ দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে বাঁধের দক্ষিন পার্শ্বে যতদূর চোখ যাবে ততদূর পর্যন্ত হাজার হাজার একর চরের জমিতে দেখা যাবে মৎস্য প্রকল্প।
প্রথমে সরকার থেকে জমি লীজ নিয়ে শৌখিন মৎস্য চাষীরা মৎস্য চাষের নিরব বিপ্লব শুরু করে। এরপর তাদের দেখাদেখি মৎস্যচাষীরা শত শত মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলেন। ১৯৯৬ সালে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম ৯ একর