মৌসুমি ফলে অতিরিক্ত টোল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন , ২০১৭ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

শংকর চৌধুরী খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত আমসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল পরিবহনে অতিরিক্ত টোল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে ফলদ বাগান মালিকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাব হলরুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করে খাগড়াছড়ি জেলা ফলদ বাগান মালিক সমবায় সমিতি।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সহ-সভাপতি দীপাকর চাকমা। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ, জেএসএস ও পুলিশের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা পৌরসভা, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও বাজার ফাণ্ডের অজুহাতে খাগড়াছড়ির বাগানে উৎপাদিত আমসহ অন্যান্য ফল পরিবহনে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কের বিভিন্ন টোল আদায় কেন্দ্রে। সরকার নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত আদায়ের প্রতিবাদ করলে বাগান মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে দুর্ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বিগত ৮-৯ বছর ধরে খাগড়াছড়ির তিনটি পৌরসভা, বাজার ফাণ্ড ও জেলা পরিষদের টোল পয়েন্টগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আসছে কয়েকটি সিন্ডিকেট গ্র“প। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে খাগড়াছড়ি জেলার সকল ব্যবসায়ীরা । অবিলম্বে সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।

সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সমির হোসেন সুজন বলেন, সড়ক পরিবহনে আঞ্চলিক সংগঠন ও পুলিশদের চাঁদা দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সংস্থা পৌরসভা, বাজার ফাণ্ড ও জেলা পরিষদের টোল কেন্দ্রগুলোতে নির্ধারিত ফি’র বাইরে বিনা রশিদে টোল নেয়া হচ্ছে। এতে করে পাহাড়ের পাদদেশে উদপাদিত সুমিষ্ট আম্রপালি, মল্লিকা, রাঙ্গুইনসহ প্রিতি কেজি আম জেলার বাইরে নিতে খরচ পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা খাগড়াছড়িতে ব্যবসায় করতে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলার ২৫০০ বৃহৎ ও ক্ষুদ্র বাগানিরা ।

সমিতির অর্থ সম্পাদক নিহার বিন্দু চাকমা বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির কারণে খাগড়াছড়ি আসতে চাইছে না বহিরের কোন ব্যবসায়ী । ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। বাগান মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোঃ শাহাজ উদ্দিনসহ ভুক্তভোগী বাগান মালিকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, এবছর খাগড়াছড়িতে ২৭০০ হেক্টর জমিতে আম্রপালিসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষ হয়েছে। এখানে কোন কল কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে যদি চাষীরা উৎপাদিত এসব ফল বিক্রী করতে পারে তাহলে খাগড়াছড়ির অর্থনীতি হবে চাঙ্গা ।

এদিকে, অভিযোগের ব্যাপারে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, পরিষদের নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত কেউ যদি আদায় করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রামগড়ের সোনাইপুল টোল কেন্দ্রে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।