মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৯:২৮ অপরাহ্ণ

সারা দেশের মানুষের মতো সন্দ্বীপবাসীও বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে উল্লেখ করে সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেছেন, এখন তো মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ। বিদ্যুতের অভাবে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগেও সন্দ্বীপ পিছিয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সঙ্গে ঠেংগার চর পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে মাঝসমুদ্র থেকে ফিরে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। সন্দ্বীপের মানুষকে তিনি কথা দিয়েছিলেন, সারা দেশের মতো বিদ্যুৎ দেবেন।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে সাবমেরিন কেবলের সাহায্যে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৪৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেক, ক্রয় কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। টেন্ডারসহ ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। ২০১৮ সালের জুন নাগাদ সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ যাবে। এটি সন্দ্বীপের ইতিহাসে বৃহত্তম প্রকল্প। ইতিপূর্বে এত বড় প্রকল্প সন্দ্বীপে আসেনি।

তিনি বলেন, সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ গেলে মা-শিশুদের জন্য আধুনিক হাসপাতাল করা যাবে। সন্দ্বীপে অনেক মা’রা আছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে মাতৃত্বকালীন সেবা নিতে চট্টগ্রামে আসতে হয়। অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নতি হবে। অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। জাহাজশিল্প হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আছে। হিমায়িত ইন্ডাস্ট্রি হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে, যেহেতু আমরা মাছের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন খাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠেংগার চর প্রসঙ্গে সাংসদ মিতা বলেন, ঠেংগার চর যে অবস্থানে রয়েছে সন্দ্বীপ থেকে দুই মাইল দূরে, পক্ষান্তরে হাতিয়া থেকে ১৮-২০ মাইল। সন্দ্বীপ থেকে ট্রলারে যেতে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট, হাতিয়া থেকে লাগে দু-আড়াই ঘণ্টা। আমাদের সাবেক ৬০ মৌজা ছিল তার মধ্যে নেয়ামস্তি ইউনিয়নের অংশ ঠেংগার চর। যা ভেঙে আজ নতুন করে চর জেগেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জরিপের পর আমার বিশ্বাস এবং আস্থা রয়েছে ১৯১৩ সালের মানচিত্র-জরিপ অনুযায়ী এটি অবশ্যই সন্দ্বীপের অংশ হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা বঞ্চিত হবো না। ভূমি আন্দোলনে আমাদের মা-মাটি রক্ষার আন্দোলনে আমরা জয়ী হবো। সন্দ্বীপবাসী ভূমি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।

রোহিঙ্গা পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে আমাদের সীমানা নির্ধারণ হোক। আসলে ঠেংগার চর সম্পর্কে আমি নিজে যতটুকু জানি, এখনো বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। যদি রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে হয় তবে চরটিকে বসবাস উপযোগী করতে হলে চারদিকে বেড়িবাঁধ দিয়ে সরকারকে ‘বিগ ইনভেস্টমেন্ট’ করতে হবে। এটি সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করবে নাকি অন্য সংস্থাকে দেবে। তবে যেহেতু আমরা ইউনিয়ন ও চরটি দাবি করছি তাই আমাদের এক-দেড় লাখ লোক বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাই জননেত্রী শেখ হাসিনার জনগণের সরকার আগে সে বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।


আরোও সংবাদ