মৌলভীবাজারে পানিবন্দিদের উদ্ধার করছে সেনাবাহিনী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ১৬ জুন , ২০১৮ সময় ০৯:৩৮ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজারেরর বন্যা পরিস্তিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। মৌলভীবাজার শহরে মাইকিং করে বলা হচ্ছে নিরাপদে থাকার জন্য। শহরের ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে রাখছেন। রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের পানি বন্দি মানুষ উদ্ধার করছে সেনা বাহিনী। এক্ষেত্রে তারা স্পীডবোট ব্যবহার করছে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যন নাজমুল হক সেলিম। স্থানীয় লোকজনও নৌকাদিয়ে পানি বন্দি মানুষ উদ্ধার করছে।

মনুনদীর পানি চাদনিঘাট পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬ টায় বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উপরে মনু ব্রীজ পয়েন্টে কমেছে ১১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি ধলাই ব্রীজের কাছে বিপদ সীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহি প্রকৌশলী বলছেন এটি ভাল লক্ষণ।   মৌলভীবাজার শহর রক্ষা ওয়ালের (ফ্লাডওয়াল) শীর্ষ ছুই ছুই করছে পানি। বালুর বস্তা দিয়ে মৌলভীবাজার পৌর শহরের অন্তত তিন স্থানে ওয়াল রক্ষার চেষ্টা চলছে। যে কোন সময় ফ্লাড ওয়াল টপকিয়ে পানি শহরে প্রবেশ করতে পারে। আতংকিত শহরের বাসা-বাড়ির একতলার বাসিন্দারা মালামাল নিরাপদে সরাতে শুরু করেছেন। মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের কয়েক স্থানে পানি উপছে পড়ছে। স্থানে কদমহাটার কাছে মনুনদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে রাজনগর উপজেলার মনসুরগর ইউনিয়নের ১২/১৩ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। সময় গরানোর সাথে সাথে বন্যা কবলিত গ্রামের সংখ্যা বাড়ছে। মানুষ নতুন আশ্রয়ের সন্ধ্যানে ছুটছে। ঈদের দিন মানুষের মধ্যে আনন্দের বদলে বন্যা আতংক বিরাজ করছে। সন্ধ্যায় দেখা গেছে শহরের এম সাইফুর রহমান সড়ক বন্ধ করে পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছেন। বিভিন্ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা ছোট ট্রলি দিয়ে বালুর বস্তা শহর প্রতিরক্ষা ওয়ালের পাশে রাখছেন। কোন কোন স্থানে ওয়াল বালুর বস্তা দিয়ে উচু করা হচ্ছে। কখন বাঁধ ভেঙ্গে শহরে পানি প্রবেশ করে এমন আতংকে বিরাজ করছে মানুষের মাঝে। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছা কমীরা মাইকে মানুষজনকে আতংকিত না হওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছে। এর আগে সবাইকে সতর্ক থাকা এবং ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিরাপদে রাখার জন্য মাইকে সতর্ক করা হয পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে। এদিকে বিকালে সেনাবাহিনীর একটি দল রাজনগরের সৈয়দনগর থেকে পানি এক নারী করফুল বিবি (৭০) কে উদ্ধার কওে হাসপাতালে পাঠানোর পর দিনি মারা গেছেন।