মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন’র একগুচ্ছ ছড়া

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট , ২০১৮ সময় ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ছড়া: ১
মশা

মশা তুই বড় বেয়াদব
নাম যে তোর মশা।
তোর কারণে রাত-দুপুরে
যায় না কোথাও বসা।
সময়-অসময়ে বিরক্ত করিস
নাম যে তোর মশা।
ছোট-বড় মান্য করিস না
নাম যে তোর মশা।
ঘুমের সময় শন্তিতেও ঘুমাতে দিস না।
নাম যে তোর মশা।
তাইতো তুই বড় বেয়াদব
নাম যে তোর মশা।

ছড়া: ২
পাপ

ওরা সবাই গালি দেয়
তাইতো আমার ভয়।
ওদের সাথে মিশতে গিয়ে
পাপ যদি হয়।
মা সেদিন বললো ডেকে
পাপ যদি করো
মিলবে তোমায় দোযখের স্বাদ।
তবুও যারা গালি দেয়
আমার এতে ভয়।
ওদের সাথে মিশতে গিয়ে
জীবন হবে ক্ষয়।

ছড়া: ৩
বেয়াদব ছেলে

পাড়ার এক দুষ্টু ছেলে
করত শুধু বেয়াদবি।
পড়ত না একটু খানি
করত শুধু খেলা।
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে
ঘুরত সারা বেলা।
পড়ার কথা বললে সে
করত শুধু গালাগালি।
তাই পরীক্ষায় ফেল করে
হল সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজি।

ছড়া: ৪
সাফল্য

সাফল্য যদি পেতে চাও
মা-বাবা ও মুরাব্বীদের দুআ নাও।
সাফল্য যদি পেতে চাও
হও কঠোর পরিশ্রমী।
সাফল্য যদি পেতে চাও
রাস্তা ঘাঠে আড্ডা না দিয়ে
মনযোগী হও জ্ঞান-বিজ্ঞানে পড়াশুনায়।
সাফল্য যদি পেতে চাও
অস্ত্রগুলি ফেলে দিয়ে, কলম হাতে নাও।

ছড়া: ৫
যদি মানুষ হও

মানুষকে করেছে খোদা তাআলা
সৃষ্টির সেরা জীব।
মানুষের প্রতি সদয় নন যে জন
খোদা তাআলাও তার প্রতি সদয় নন।
যদি মানুষ হও
মানুষের বিপদ আপদে যাও এগিয়ে।
যদি মানুষ হও
দুঃখী মানুষের পাশে মানব সেবায় নিয়োজিত হও।
যদি মানুষ হও
সন্ত্রাসী-টেন্ডারবাজ ছেড়ে দিয়ে
কলম হাতে নাও।
আর জীবনটাকে গড়ে তোল ফুলের মত।

ছড়া: ৬
বই

বই পড়ে কেউ আনন্দ পায়
কেউ আবার বর্ষায় ফুটবল খেলতে।
বই পড়া কত মজা
আমি শুধু জানি।
বই পড়ে রঙিন স্বপ্ন
আমি শুধু দেখি।
বই পড়েছেন প্রচুর যারা
সফল মানুষ হয়েছেন তারা।
বই ছাড়া হওয়া যায় না
জ্ঞান-বিজ্ঞানী কোন কিছুই।
বইকে তাই ভালোবেসে
আপন করে নিই।
বইকে আমি সবার সেরা
বন্ধু মনে করি।

ছড়া: ৭
স্বপ্ন দেখি

আমি শুধু স্বপ্ন দেখি
সত্য ও ন্যায়ের পথ খুজতে।
আমি শুধু স্বপ্ন দেখি
হৃদয় দিয়ে ইসলামকে ভালোবাসতে।
আমি শুধু স্বপ্ন দেখি
জীবন দিয়েও খোদার পথে লড়তে।
আমি শুধু স্বপ্ন দেখি
আল্লাহর আইনে ইসলামী সমাজ গড়তে।
আমি শুধু স্বপ্ন দেখি
মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত জীবন গড়তে।

ছড়া: ৮
ক্যাম্পাস

গ্রুপ গ্রুপ হানাহানি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবনতি।
অস্ত্র হাতে রাজনীতি
ক্যাম্পাসে মারামারি।
কত শিক্ষকের মানহানি
ছাত্রীদের সম্ভ্রমহানি।
ছাত্র নামে রাজনীতি
সারা বেলা করে তারা
টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি।
এই আমাদের পরিস্থিতি।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি :
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন ২৮শে সেপ্টম্বর ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার নির্গত মাওলানা মন্জিলে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।তার পিতার নাম মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন রহ: (তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সাবেক মুহাদ্দিস,সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় সাবেক অধ্যক্ষ,চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শায়খুল হাদীস পদে নিয়োজিত ছিলেন।)মাতার নাম ফাতেমা বতুল। তিনি ৩ভাই ২বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বংশ পরিক্রমা হল- মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন বিন মোহাম্মদ ফখর উদ্দীন বিন শফিউর রহমান বিন সৈয়্যদ হাসান মিয়াজি বিন নুরুদ্দীন।
তিনি ২০০৬ সালে দাখিল, ২০০৮ আলিম, ২০১১ সালে ফাজিল এবং ২০১৩ সালে কামিল (এম.এ) পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তাছাড়া ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স ও মাস্টার্স যথাক্রমে পাশ করেন। তিনি দেশ সেবার লক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাবস্থায় B.N.C.C তে ভর্তি হই।আর বর্তমানে অত্যাধিক অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীনকে “কণিকা- একটি রক্তদাতা সংগঠন” হতে ২০১৬ সাল ও ২০১৭ সালে যথাক্রমে সুপার ডোনার সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আর ২০১৭ সালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে আজীবন রক্তদাতা সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাছাড়া ২০১৫ সালে ওয়ার্কস ফর গ্রীণ বাংলাদেশ (ডব্লিউ জি বি) সংগঠন হতে বেস্ট ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। ২০১৩ সালে “জীবনবাতি” সংগঠন থেকে বেস্ট অর্গানাইজার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
কিশোরকাল থেকে দেয়ালিখায় দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন।বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পাক্ষিক পত্রিকা, মাসিক পত্রিকা ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় পত্রিকায় তার প্রবন্ধ-নিবন্ধ, গবেষণা ধর্মী লেখা, ছড়া ও কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।