মোরশেদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবীতে মানববন্ধন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিনিধি::
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামে গত মাসের ৮ জানুয়ারী প্রতিপক্ষের বর্বর হামলায় ডান পা হারানো যুবক মোরশেদ আলমের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রে“য়ারী) বিকালে পেকুয়া উপজেলার শাকুরপাড় ষ্টেশনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীরা এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা যুবক মোরশেদের উপর হামলাকারী আবদু রাজ্জাক গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে নানা ধরনের শ্লোগান দেন।

জানা যায়, গত মাসের ৮জানুয়ারী দুপুর ২ঘটিকার দিকে পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামের রহমত আলীর বসতভিটায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ধারালো দা-কিরিচ নিয়ে এসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল একই গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ৪ পুত্রসহ আরো কয়েজন। পরে খবর পেয়ে রহমত আলীর পুত্র আলমগীর এগিয়ে তাদের বসত ভিটা থেকে গাছ কাটতে বাধা দেন। এসময় মৃত নুর মোহাম্মদের চার পুত্র যথাক্রমে আবদু রাজ্জাক (৪৪), জসিম উদ্দিন (৪০), নেজাম উদ্দিন (৩৫), জামার উদ্দিন (৫০) সহ আরো কয়েকজন লোক ধারালো দা-কিরিচ নিয়ে আলমগীরের উপর মধ্যযুগীয় পৈশাচিক কায়দায় ঝাপিয়ে পড়ে। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আলমগীরকে কুপিয়ে গুরুতর মোরশেজখম করে। এরপরেও থেমে খাকেনি তাদের তান্ডব। আলমগীরকে বাঁচাতে এগিযে আসেন তার ভাই মোরশেদ আলম এগিয়ে আসলে তার ডান পায়ে আবদু রাজ্জাক ধারালো দিয়ে কোপ মারে। সঙ্গে আবদুর রাজ্জাকের অপর তিন ভাইও মোরশেদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতেই মাঠিতে লুঠিয়ে পড়ে মোরশেদ আলম। মারাতœক জখম হয় তার ডান পা। এরপর আবদু রাজ্জাক গং ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত মোরশেদ ও তার ভাইকে উদ্ধার চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চমেকে রেফার করে হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

মোরশেদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও মোরশেদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার ঢাকায় পাঠিয়ে দেন চমেক কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মক্কা-মদিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদু রাজ্জাক গংয়ের দায়ের কোপে গুরুতর জখম মোরশেদের ডান পায়ে পচন ধরায় সেখানকার চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলে। এরপর থেকে মোরশেদ চিরদিনের জন্য ডান পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যান।

এদিকে মোরশেদের বৃদ্ধা মা মোতাহেরা বেগম গত ১৯ জানুয়ারী চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তার পুত্রদের উপর হামলাকারী শীলখালী সবুজ পাড়া গ্রামের মৃত নুর আহামদের চার পুত্র আবদু রাজ্জাক মাষ্টারকে প্রধান আসামী করে তার ভাই জসিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আবদু রাজ্জাকের স্ত্রী শরীফাবেগমসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করে একটি ফৌজদারী ধরখাস্ত দায়ের করেন। আর আদালতে মামলার শুনানী শেষে ওই দিনই আদালতের বিচারক মো: বাহা উদ্দিন কাজী পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে নথিভূক্ত করতে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি মামলাটি থানায় রেকর্ড করেন। যার মামলা নং ১১। ধারা ১৪৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩৪ দ:বি।

মোরশেদের বৃদ্ধা মা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ আদালতের নির্দেশে মামলা নিলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি। তিনি অবিলম্বে তার পুত্র মোরশেদের বর্বর হামলাকারী আবদু রাজ্জাক গংয়ের গ্রেফতার করার জন্য কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নিকট জোরালো হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।