মোবাইল ফোনে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০২:৫১ অপরাহ্ণ

মোবাইল ফোনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রায় khaleda-ershad_19090আধ ঘণ্টা সময় ধরে চলা আলাপচারিতায় চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে থাকবে জাতীয় পার্টি (জাপা)।

আরও জানা যায়, আলোচনার বড় অংশজুড়েই ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন প্রসঙ্গে। এক্ষেত্রে ১৮ দলের সঙ্গে পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষভাবে জোট করা নিয়ে নীতিগত অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন এরশাদ।

তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এরশাদের অবস্থান কি হবে- তা নিয়েও প্রাথমিকভাবে ফোনে কথা হয় তাদের। এ সময় মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তাকে রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের আশ্বাসের কথাও বিরোধীদলীয় নেতাকে স্মরণ করিয়ে দেন এরশাদ। বেগম জিয়া এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত তখন জানাননি। ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র কথোপকথনের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, গত রোববার রাত ৯টার দিকে ওই টেলিকথন হয়। জাপা চেয়ারম্যানকে এ সময় সরাসরি ১৮ দলীয় জোটে আসার আমন্ত্রণ জানান বেগম জিয়া। তবে এরশাদ প্রস্তাবটি সরাসরি গ্রহণ না করে দলীয় ফোরামে আলোচনার পর জানাবেন বলে বেগম জিয়াকে নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে এই বলে আশ্বস্ত করেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির দাবির সঙ্গে তিনি একমত। এ কারণে এই ইস্যুতে আন্দোলনেও পাশে থাকবে জাপা। একইসঙ্গে বেগম জিয়াকে এটাও সাফ জানিয়ে দেন, আগামীতে আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে না তার দল।

জানা যায়, আলাপকালে এরশাদ তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিয়ে সরকারের দোলাচল অবস্থানের কথাও বিএনপি প্রধানকে জানান। এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গত সাড়ে চার বছরেও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলা প্রত্যাহার হয়নি। বরং তার মামলা নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। বৃদ্ধ বয়সে নতুন করে মামলার বেড়াজালে কারাগারে যেতে হবে_ এমন আশঙ্কার কথাও জানান বেগম জিয়াকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ নিয়ে অবস্থান কি হবে_ সে ব্যাপারেও প্রাথমিক আলোচনা হয় দুই নেতার মধ্যে।

জানা যায়, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সাম্প্রতিক ঐক্যের বন্ধন তৈরি করতে জাতীয় পার্টির নেতা কাজী জাফর আহমদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, রুহুল আমিন হাওলাদার ও রওশন এরশাদের ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়ে গত রমজানের আগ থেকেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির নেতাদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। এরই অংশ হিসেবে জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও এরশাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই সম্পর্কোন্নয়নের অংশ হিসেবেই জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে কাজী জাফরের গুলশানের বাসভবনে যান তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানও কাজী জাফরের বাসায় যান।

জানা যায়, রমজান মাসজুড়েই জাপা নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন বিএনপির একাধিক নেতা। সরাসরি এরশাদের সঙ্গেও একাধিক স্থানে বিএনপির নেতারা বৈঠক করেন। ঈদের পরও দুই দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে শুধু জাতীয় পার্টিই নয় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও যোগাযোগ হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে জাপা নেতাদের সঙ্গেও তাদের কথাবার্তা চলছে।

যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি-জাতীয় পার্টি কাছাকাছি পর্যায়ে চলে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দলের সর্বোচ্চ উচ্চপর্যায়ের নেতাদের মধ্যেও ফোনালাপ হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি জোটের পরিধি বাড়ানোর নীতিগত অবস্থান নিয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ যদি আমাদের জোটে আসেন তাহলে অবশ্যই তাকে ওয়েলকাম জানাব। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে বিএনপির সঙ্গে এরশাদও একমত। ইতোমধ্যেই এরশাদ নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে এরশাদের ফোনালাপের বিষয়টি আমি জানি না।

জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘বিষয়টি আমারও জানা নেই। আমাদের চেয়ারম্যান সিঙ্গাপুরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।’

তবে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির ব্যাপারে মহাসচিব বলেন,“এ সরকার ব্যবস্থার দাবি গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক। সেক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল গঠনতান্ত্রিক আন্দোলন করলে জাপা তাতে অবশ্যই সমর্থন জানাবে।”

তবে খালেদা এরশাদের ঐক্য ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে মহাজোট সরকার। জাতীয় পার্টির আল্টিমেটাম দেওয়ার পর যেন ঘুম ভাঙলো মহাজোটের। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মামলা প্রত্যাহারে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের। মঙ্গলবার সকালে এরশাদের সাথে জি এম কাদের কথা বলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মামলা প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত রোববার রাজধানীর তোপখানা রোডের কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের নিয়ে জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এরশাদের মামলা প্রত্যাহার না হলে জাতীয় পার্টি রাজপথে নামবে বলে সরকারকে আলটিমেটাম দেন।