মোবাইল কোর্টে আইনজীবীকে সাজা: ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন সেই এসি ল্যান্ড

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৭:১৪ অপরাহ্ণ

ভবিষ্যতে যেন ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের অপব্যবহার না হয় সে ব্যাপারে তাকে সতর্কও করেছে আদালত।

বিরোদা রানী বুধবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের অবকাশকালীন হাই কোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। কিন্তু মৌখিকভাবে ক্ষমা চাওয়ায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করে লিখিতভাবে ক্ষমার আবেদন করার নির্দেশ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য রাখে।

সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাকে সতর্ক করে ক্ষমা করে দেয়।

আদালতে এসি ল্যান্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। ঘটনাটি আদালতের নজরে আনা আইনজীবী সৈয়দ মহিবুল কবির ও আইনজীবী কাজী হেলাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও মামলাটির শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ভ্রাম্যমাণ আদালতের অপব্যাহার রোধে হাই কোর্টের নির্দেশনা চান।

দুপুরে লিখিত বক্তব্য নিয়ে আদালতে হাজির হয়ে তা আদালতে দাখিল করেন বিরোদা রানীর আইনজীবী মামুন মাহবুব। আবেদনটি তিনি পড়ে শোনান।

আবেদনে বিরোদা রানী বলেছেন, “আমি ওই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত। নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”

এসময় আদালত বলে, “আপনি মোবাইল কোর্ট আইনের অপব্যবহার করেছেন। আপনি এ ঘটনার জন্য অনুতপ্ত? আপনি যে লিখেছেন তা কি বুঝে লিখেছেন?”

তখন বিরোদা রানী রায় হ্যাঁ সূচক জবাব দেন।

এরপর আদালত বলে, “আপনারা জনগণের করের টাকায় চলেন। একজন রিকসা চালকও কর দেয়। সবার করের টাকায় চলেন আপনারা। মনে রাখবেন আপনারা জনগণের সেবক। পাবলিক অফিস ট্যাকল দেওয়া কঠিন কাজ। সমস্যা হতেই পারে। আমরাও আইনি কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন পরলে সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নিই। অনেক সময় অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেই।

“আপনার উচিৎ ছিল সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া। সিনিয়রদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ছোটো হওয়ার কিছু নেই।”

আদালত বলে, “বাইরের লোক এসে তো আপনার উপর হামলা করেনি। নিরোদ বিহারী রায় একজন আইনজীবী। আপনি যে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বার কাউন্সিলে বলতে পারতেন। মন-মেজাজ কন্ট্রোল করতে হবে। আপনার আরও সংযত হওয়া উচিৎ ছিল। মনে রাখবেন এটা স্বাধীন দেশ।”

এসি ল্যান্ড বিরোদা রানী রায়কে ক্ষমার বিষয়ে আদালত বলে, “আপনার সার্ভিস রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। চাকরিতে আপনি একদম নতুন। আবেদনে আপনি নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বয়স, চাকরি এবং এই ঘটনায় অনুতপ্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আপনার নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদনটি গ্রহণ করলাম। মনে রাখবেন ভিবিষ্যতে বড় হতে চাইলে আপনাকে এসব সহ্য করতে হবে।”

পরে বিরোদা রানীর আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, “আদালতের নির্দেশ মত ওই ঘটনার জন্য অনুতপ্ত ও নিজের ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করেছিলেন। আদালত তাকে সতর্ক করে দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছে।”

গত ১২ ডিসেম্বর সকালে একটি নামজারির মামলায় শুনানি করতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এসি ল্যান্ড বিরোদা রানীর কক্ষে বসা নিয়ে বাগতিণ্ডা হয় আইনজীবী নিরোদ বিহারী রায়ের সঙ্গে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই আইনজীবীকে ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক দিনের করাদণ্ড দেন বিরোদা রানী রায়।

সাজা দেওয়ার সময় এসি ল্যান্ড ‘আমি আমার ক্ষমতা দেখালাম, পারলে আপনি আপনার ক্ষমতা দেখান’ মন্তব্য করেন বলে ভুক্তভোগী ওই আইনজীবীর অভিযোগ।

ওই ঘটনার পর বিরোদা রানীকে ভুরুঙ্গামারীতে বদলি করা হয়।

ঘটনাটি ১৪ ডিসেম্বর একটি দৈনিকে প্রকাশিত হলে ১৭ ডিসেম্বর তা আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির ও কাজী হেলাল উদ্দিন। ওইদিনই হাই কোর্ট বিরোদা রানী রায়কে ২৭ ডিসেম্বর হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে।

আইনজীবী নিরোদ বাহারী রায়কে সাজা দেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি হয়।


আরোও সংবাদ