মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাপ্লিকেশন – ক্যাশ-অন-কল :সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

প্রকাশ:| বুধবার, ৫ মার্চ , ২০১৪ সময় ১০:২১ অপরাহ্ণ

একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন ১৮, ১৯ এবং ২০ শতকের প্রথম ভাগে নতুন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের যে গতি ছিল তা বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এসে কমতে শুরু করে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে নতুন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে আরো হ্রাস পায়! তাহলে কি মানব সভ্যতা পিছিয়ে যাচ্ছে? মানুষের চিরন্তন অনুসন্ধিৎসা কি বিলীন হওয়ার পথে? নাকি মানুষ তার আবিস্কারের সর্বোচ্চ সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে? সত্যিকার অর্থে এর কোনটাই ঘটেনি। বরং বিশ শতকের শেষভাগে এসে বিজ্ঞানচর্চার নতুন একটি ধারনা বিকশিত হতে শুরু করে – “বিদ্যমান আবিস্কারের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে এর উপযোগ বৃদ্ধি”। গত প্রায় পাঁচ দশকে গুরুত্বপূর্ন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের প্রায়গিক ক্ষেত্র বাড়ানোর চ্যালেঞ্জটিই হয়ে উঠেছে বিজ্ঞানচর্চার পরিবর্তিত লক্ষ্যকেন্দ্র। জন্ম হয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের, যাকে আমরা বলছি জেনারেশন বা প্রজন্ম।

উপযোগ বাড়ানোর এই অবিরাম চেষ্টা অথবা বলা ভালো প্রতিযোগিতা বর্তমানে যে প্রযুক্তি পন্যটিকে ঘিরে রীতিমতো চরমে উঠেছে তা হচ্ছে মোবাইল বা সেলুলার ফোন। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল বহনযোগ্য মোবাইল ফোন (০ প্রজন্ম) থেকে মটোরোলার কর্মকর্তা মার্টিন কুপার প্রথম কলটি করার ৪০ বছরের মধ্যে আমরা ৪র্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোনের সাথে পরিচয় পর্বটিও শেষ করে ফেলেছি! মোবাইল-ফোন শব্দটিও বিবর্তিত হয়ে যৌক্তিক কারনেই স্মার্ট ফোনে রূপ নিয়েছে। স্মার্ট ফোনের অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে প্রতিযোগিতা মুলত সীমাবদ্ধ অ্যাপল এর IOS, গুগোল এর Android এবং মাইক্রোসফটের Windows Mobile এর মধ্যে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্তৃত, দ্রুতগতির এবং সৃজনশীল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি হচ্ছে Mobile Applications বা Apps Development. সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো নিশ্চিত করছে স্মার্ট ফোনের বহুমুখী ব্যাবহার বা উপযোগ।

স্মার্ট ফোনের অন্তর্ভুক্তি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে পন্যের বিপনন প্রক্রিয়ায়। বিজ্ঞাপনের প্রচলিত মাধ্যমগুলো এমনকি অনলাইন বিজ্ঞাপনের উপস্থিতিতেও দ্রুত নিজের জায়গা করে নিচ্ছে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং এর ধারনা। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশাবেল এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং এ বৈশ্বিক ব্যয় ছিল ১৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭ সাল নাগাদ এই খাতে ব্যয় বেড়ে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আভাস দিয়েছে ওয়েবসাইটটি। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং এর ধারনাটি একদম নতুন না হলেও আমাদের দেশে বিষয়টি এখনো একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। মাত্র কিছুদিন হলো বাংলাদেশের মোবাইল গ্রাহকদের ব্যবহার উপযোগী Cash On Call নামে একটি Android Mobile Advertising Application অবমুক্ত করেছে The Big Ad নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই অ্যাপ্লিকেশনটির একটি বৈশিষ্ঠ হলো এটি থেকে বিজ্ঞাপনদাতা এবং ব্যবহারকারী উভয়েরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যেকোন এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী যিনি বাংলাদেশের যেকোন একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সাবস্ক্রাইবার Google Play Store থেকে “ক্যাশ অন কল” অ্যাপ্লিকেশনটি ফ্রি ডাউনলোড এবং ইন্সটল করতে পারবেন (https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cashoncall). ইন্সটল করার সাথে সাথে ব্যবহারকারীর একাউন্টে ২৫ টাকা যোগ হয়ে যাবে। পরবর্তীতে তার মোবাইলে প্রতিটি ইনকামিং কলের সময় একটি বিজ্ঞাপন দেখানো হবে। কলগুলোর মধ্যে যেগুলো তিনি কমপক্ষে ৬ সেকেন্ড পর রিসিভ করবেন সে কলগুলোর প্রতিটির জন্য তাঁর একাউন্টে যোগ হবে ২৫ পয়সা। একাউন্টে নুন্যতম জমার পরিমান ১০০ টাকা হলেই ব্যবহারকারী প্রচলিত “মোবাইল মানি ট্রান্সফার” অথবা “মোবাইল রিচার্জ” ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের কাছে ক্যাশ অন কলের এই অফার ইতমধ্যেই যথেষ্ঠ আকর্ষনীয় উঠতে শুরু করেছে।

ক্যাশ অন কল বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য নিয়ে এসেছে কম খরচে সুনির্দৃষ্ট লক্ষ্যে বিজ্ঞাপন প্রচারের অনন্য উপায়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতা তাঁর ব্যায়কৃত অর্থের প্রতিটি অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা অনুসরন করতে পারবেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্র্যান্ড এর যেসমস্ত বিজ্ঞাপন গ্রাহকের কাছে নিশ্চিতভাবে পৌঁছাবে শুধুমাত্র সেসব বিজ্ঞাপনের জন্যই তাঁকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এমনকি লিঙ্গ, বয়স, ভৌগলিক অবস্থান, দিনের নির্দৃষ্ট সময় ইত্যাদি মাপকাঠির মাধ্যমে চাইলে বিজ্ঞাপনদাতা খুব সহজেই তাঁর অভিষ্ঠ গ্রাহকদের সীমারেখা নির্ধারন করে দিতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ একজন জুয়েলারী ব্যবসায়ী যদি চান যে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন শুধুমাত্র ঢাকা শহরে বসবাসকারী ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীদের কাছে দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৪ টার মধ্যে প্রদর্শিত হবে; ক্যাশ অন কলের মাধ্যমে অনায়াসেই তিনি সেটা পারবেন।

প্রত্যেক বিজ্ঞাপনদাতার জন্য ক্যাশ অন কল এর একটি Advertiser Interface থাকবে। সেখান থেকে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন আপলোড করতে পারবেন, প্রয়োজনে এডিট করতে পারবেন এবং নিচের তথ্যগুলো যেকোন সময় দেখতে পারবেনঃ

• কতজন ব্যাবহারকারী তাঁর বিজ্ঞাপন দেখেছেন
• কত সময় ধরে দেখেছেন
• বিজ্ঞাপন দেখার তারিখ ও সময়
• ব্যবহারকারীর IP Address
• বিজ্ঞাপন প্রদর্শন সময়ের ভিত্তিতে তালিকাটি সর্ট করা যাবে
• ব্যবহারকারী কোন মোবাইল অপেরেটর এর গ্রাহক তা দেখা যাবে
• শুধুমাত্র একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য অর্থাৎ ব্যবহারকারীর নাম, পূর্ন মোবাইল নাম্বার এবং মোবাইলের পূর্ন IMEI নাম্বার প্রদর্শিত হবে না।

বিজ্ঞাপনদাতা চাইলে যেকোনো সময় তাঁর বিজ্ঞাপনের সময়, অভিষ্ঠ গ্রাহকদের মাপকাঠি এমনকি বিজ্ঞাপনটিও পরিবর্তন করতে পারবেন।

বিশ্বব্যাপী মোবাইল অ্যাভার্টাইজমেন্ট এর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতার ইচ্ছা অনুযায়ী বিপনন কার্যক্রমকে নিশ্চিতভাবে নিয়ন্ত্রন করার যায়। ক্যাশ অন কল Application টিতেও এই সুবিধা পুরো মাত্রায় বিদ্যমান। এছাড়া গ্রাহকরাও প্রতিটি বিজ্ঞাপন দেখার জন্য নির্দৃষ্ট পরিমান অর্থ আয় করতে পারছেন। সুতরাং Application টির প্রতি গ্রাহক এবং বিক্রেতা উভয়ের যৌক্তিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুতই এর গ্রহনযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও যে খুব শীগ্রই মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং একটা স্বকীয় অবস্থান তৈরী করে নেবে এ ব্যপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে প্রথম পদচিহ্ন এঁকে দেয়ার কাজটি করেছে Cash On Call (https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cashoncall). Application টির Download Link http://www.cashoncall.mobi ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে।