মোদির জীবন পরিবর্তনের পেছনে সন্ন্যাসী!

প্রকাশ:| সোমবার, ৪ মে , ২০১৫ সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ৯ মে কলকতা ভ্রমণের সময় যখন ৯৫ বছর বয়সী সন্ন্যাসীর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তার (সন্ন্যাসী) ‘উপদেশ’ তাকে রাজনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীত্বে পরিচালিত করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই সফরে নগরে নামামাত্রই কলকাতার নিকটবর্তী বালুর মঠে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান সন্ন্যাসী স্বামী আত্মস্থনান্দ মোদিকে বৈঠকে আহ্বান করবেন- এমনটিই প্রত্যাশা ছিল।

২০১৩ সালে তিনি সর্বশেষ বালুর মাঠ ভ্রমণ করেছিলেন, যখন মোদি গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ফিরবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অনেকেই জানে না যে, গত ২৬ মে ২০১৪ সালে মোদি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, তখন তার জ্যাকেট পকেটে ছিল ‘প্রসাদি’ ফুল। ভারতের সদ্য প্রধানমন্ত্রীকে ‘নরেন্দ্র ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি চিঠি সংবলিত এই প্রসাদি ফুল বালুর মাঠ থেকে পাঠিয়েছিলেন স্বামী আত্মস্থনান্দ।

১৯৬৬ সালে স্বামী আত্মস্থনান্দ গুজারাটের রাজকোটে এসেছিলেন নগরের আরকেএম আশ্রমের প্রধানের কাছে।

মোদিরাজকোটে তার সংযমনের সময় যুবক মোদি স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে অনুপ্রাণিত হন। তিনি নিজেকে গড়তে ইতোমধ্যে তার জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যায় করেছেন আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য।

আশ্রমে আত্মস্থনান্দের অভিভাবকত্বে কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, মোদি তাকে বলেছিলেন তিনি একজন সন্ন্যাসী হতে চান। কিন্তু প্রধান সন্ন্যাসী উত্তরে বলেন, সন্ন্যাসব্রত তার জন্য নয়।

রাজকোট আশ্রম মোদিকে সন্ন্যাসী হিসেবে গ্রহণ করেনি। পরে মোদি তার ইচ্ছা অন্বেষণ করতে আরকেএমের সদরদপ্তর বেলুরে যান।

পরবর্তীতে আত্মস্থনান্দ আরকেএমের সভাপতি স্বামী মাধভনান্দকে একটি চিঠি লিখে দিয়ে মোদিকে তার কাছে বেলুর পাঠান।

তবে মাধভনান্দও মোদির সন্ন্যাসী হওয়ার আগ্রহ আমলে নেয়নি। ‘নির্জনতা’ নয় বরং জনগণের মাঝেই তার কাজ বলে মোদিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। মোদি গুজরাটে ফিরেন এবং তার গুরু আত্মস্থনান্দের সাথে রাজকোটে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। কিছু সময় বিরতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘতে তিনি যোগদান করেন।

গত সময়ে মোদি আত্মস্থনান্দের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে সহিত সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং এই সময় মোদিতে তিনি আশীর্বাদ করেছিলেন।