মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশ:| শনিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:২৫ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ ১০ বছর পর ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার রোটনসহ সাবেক তিন নেতার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও করেছেন পদবঞ্চিতরা।

পাশপাশি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে ২ দিনের (৪ নভেম্বর) আল্টিমেটাম দিয়ে পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শনিবার সকাল ১১টায় ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদবঞ্চিত নেতারা এসব অভিযোগ করেন।

এছাড়া, পদ বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক তিন নেতা, নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তারা চট্টগ্রামে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা অমিতাভ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘দলের ত্যাগী, মেধাবী ছাত্র ছাত্রদের বাদ দিয়ে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ও এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এ পদ বাণিজ্য করেছেন। আমাদের হাতে টাকা লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। তারা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে বিলবোর্ড ব্যবসা করার জন্য সরকার বিরোধী আন্দোলনকে নির্বিঘ্ন করতে আঁতাতের এ কমিটি করেছে।’

তবে টাকা লেনদেনের স্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। ২৪ জনের কমিটিতে আটজনই বাচ্চুর অনুসারী রয়েছে। তারা টাকা দিয়ে পদ নিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য বোখারী আজম বলেন, ‘ঘোষিত কমিটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু একজন বিবাহিত ও চাকুরিজীবী। তার ছাত্রত্ব নেই। তার স্ত্রীর নাম নুসরাত জাহান রুমি। আর সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রণি একজন চাঁদাবাজ, চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।’

তবে রণির নামে থানায় কোনো মামলা আছে কিনা সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

ছাত্রলীগ নেতা বোখারী বলেন, ‘বিতর্কিত এ কমিটি যদি আগামী দুই দিনের মধ্যে (৪ নভেম্বর) বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করা না হয়, তাহলে ৫ নভেম্বর আমরাও পাল্টা কমিটি গঠন করবো। আমাদের নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী, মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন ও আ জ ম নাছিরের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা সেই পথেই যাবো।’

পদ বাণিজ্যে অভিযুক্ত নগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও এমইএস কলেজের জিএস আরশেদুল আলম বাচ্চু বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতারা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শেই এ কমিটি করেছেন। এখানে আমার নামে মিথ্যা কথা রটানোর কোনো কারণ নেই। কমিটি গঠনে পদ বাণিজ্যের প্রশ্নই ওঠে না।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে নগর ছাত্রলীগের নব গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি বলেন, ‘যারা সংবাদ সম্মেলন করে এসব মিথ্যা করছে, তারা সংবাদ সম্মেলন না করে একটি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করুক। আমি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করবো। অভিযোগ দুই নেত্রীর বিরুদ্ধেও থাকতে পারে, তবে সেটা প্রমাণ করতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন বাবু, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস, মেহেদী হোসেন জুয়েল, এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহীম খলিল, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোহাম্মদ আরিফসহ বিভিন্ন কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারা।