মোটরযান চালাতে ১৮ বছর বয়স হওয়া যতটুকু জরুরী,

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩১ মে , ২০১৬ সময় ১১:২১ অপরাহ্ণ

 তার চেয়ে বেশি জরুরী অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

 

মোস্তফা হায়দার || সন্দ্বীপে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনা একটি ক্যানসারের মতো রুপ নিয়েছে। সন্দ্বীপে মোটর সাইকেল ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি খারাপকাজও বেড়ে চলেছে। যেমন–
১. অল্পবয়স্ক ছেলেরা এটা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হতে গিয়ে পিতা মাতার অবাধ্য হতে চলেছে। পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে খারাপ পথে ধাবিত হচ্ছে।
২. নেশার পন্য ক্রয় করাটা অল্পবয়স্কদের জন্য সহজলব্য হয়ে উঠছে।
৩. লাইসেন্সবিহীন গাড়ী ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ যেমন হচ্ছে, তেমনি এর ব্যবহারের নিয়ম সে জানতে পারে না।
৪. চোরাইগাড়ী আমদানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এর সিন্ডিকেটও বেড়ে চলেছে।
৫. চোরাইগাড়ী জায়েজ করার জন্য থানাকে মাসিক অথবা এককালিন মাসোয়ারা দিতে হয় ভাড়ায় চালিত বাইক মালিকের ক্ষেত্রে।
৬. গাড়ী প্রতি মাসিক ৩০০/- টাকা অথবা তার কম বেশ আদায়কৃত টাকাগুলো থানা রিসিভ করলেও রাজনৈতিক গডফাদারদের পকেটেও যায়। অথচ রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিবেকবানরাও তা দেখে দেখে সতীনের মতো ভাবলেও কিছু বলছেনা।
৭. মোটরবাইকের চোরাই আমদনীর কারণে সন্ধীপ এখন চোরাইগাড়ীর স্বর্গরাজ্য। বেশকয়েকটি পথে চোরাইগাড়ী দেদরাছে আসে।
৮. রাজনৈতিক দাঙ্গাহাঙ্গামার ক্ষেত্রে এটার অপব্যাবহারে সুযোগ আছে এবং হচ্ছে।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর সাথে সবাই একমত হলেও প্রকাশে অনিহা আছে। তবে আজ ৩১ মে রোজ মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের বর্ধিত সভায় ১৮ বছর বয়সের নিচে কেউ মোটর সাইকেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্বান্ত নিলেও সেটাকে সাধুবাদ জানাতে পারলাম না বলে দুঃখিত। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া যতটুকুনই না জরুরী, তার চেয়ে বেশি জরুরী অবৈধ কিংবা লাইসেন্সবিহীন মোটর সাইকেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। যদি বৈধতার বিষয়ে একমত হতেন ভালো লাগতো। তাছাড়া যে বিষয়টিতে সিদ্বান্ত হয়েছে সেটা এদেশের জন্য সহজ। কারণ এ দেশে নকল করা সহজ কিন্তু!
তাই এ বিষয়ে আরো গভীরভাবে বিবেচনা করার আহবান জানাচ্ছি সন্দ্বীপ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা পরিষদকে।

নিরাপদ ও বৈধ যানবাহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হই, প্রাণ হানি ও বিকলাঙ্গ হতে মুক্ত রই।
এ শ্লোগানে সবাই সামিল হোন।

লেখক- কবি ও সমাজ সচেতন কর্মী