মেয়র পদ থেকে মনজুর পদত্যাগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৮:০০ অপরাহ্ণ

মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে আবারো চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলম।

শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে রিটার্নিং অফিসার আব্দুল বাতেনের কাছ থেকে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

শুক্রবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সিটি কর্পোরেশনের কে বি আব্দুস সাত্তার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ হোসেনের কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন মনজুর আলম। এসময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শফিউল আলম, সচিব রশিদ আহমদসহ কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

Screenshot_50শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহ আমানত (র.) মাজারে জেয়ারত করতে যান মনজুর আলম। সেখান থেকে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ীতে করে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে নগর ভবনে আসেন তিনি। বিকেল তিনটা ৩৫ মিনিটে পতাকাবিহীন ব্যক্তিগত গাড়ীতে করে পুলিশ প্রটোকল ছাড়া নগর ভবন ত্যাগ করেন মনজুর আলম। মেয়র পদে লড়তে তিনি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে আসেন।

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম বলেন, ‘বিগত ২০১০ সালের ১৭ জুন নির্বাচনে জয়লাভ করে আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলাম। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া গত পাঁচ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি নগরবাসীকে সেবা দিয়েছি। নগবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা বিগত সময়ে তারা আমাকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেছেন। আশা করছি আগামীতেও তারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে পুন:রায় মনোনয়ন দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থনে আমি মেয়র পদে আজকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছি। আগামী ২৯ মার্চ মনোনয়ন পত্র জমা দেবো। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

বিএনপির সর্মথনের ব্যাপারে বিদায়ী মেয়র বলেন, ‘বিএনপি সর্ব বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। গতবারও দল থেকে আমাকে সমর্থন দিয়েছিল। এবারও দলের সমর্থন নিয়ে আমি নির্বাচন করছি।’

এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আজকের এই শুভদিনে মনজুর আলম সাহেবের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ তা জমা দেওয়া হবে। গত নির্বাচনে ভোট না দিতে পারায় জনগণের যে ক্ষোভ তা মনজুর আলমের পক্ষে ব্যালেট পেপারে রায় দিয়ে জনগণ তাদের প্রতিবাদ জানাবে। সরকারের শাসনের প্রতিবাদ হিসেবে নগরবাসী আমাদের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে আগের বারের চেয়েও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী করবে ইনশাল্লাহ।’

গত ২০১০ সালের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মনুজর আলমের রাজনৈতিক গুরুর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহিউদ্দিন চৌধুরে ৯৫ হাজারের অধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন কাউন্সিলর থেকে মেয়র হওয়া মনজুর।

ctg2নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর উপ-ধারা (২) (ঙ) অনুযায়ী, মেয়র পদে অধিষ্ঠিত কোন ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তাকে প্রার্থী হতে হলে পদত্যাগ করে তা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত কপি মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাউন্সিলরগণ এবং প্যানেল মেয়র পদত্যাগ না করেও নির্বাচন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, সিটি কর্পোরশেন নির্বাচনে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপর ২ ও ৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই শেষে ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরপ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবে। প্রচারণা শেষে আগামী ২৮ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

[one_third_last]