মেয়রের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং থাইলেন্ডের রাষ্ট্রদূত’র সাক্ষাৎ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৬:২৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ষ্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট (গং.গধৎপরধ ঝঃবঢ়যবহং ইষড়ড়স ইবৎহরপধঃ) এবং থাইলেন্ডের রাষ্ট্রদূত গং. চধহঢ়রসড়হ ঝঁধিহহধঢ়ড়হমংব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে তাঁর দপ্তরে ১৬ জানুয়ারি ২০১৮ খ্রি. মঙ্গলবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ বৈঠকে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন উভয় দেশের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গুরুত্বের দিক থেকে চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী। চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দর সহ ব্যবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ৬০ বর্গমাইলের চট্টগ্রাম মহানগরীতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ নগরীর নাগরিকদের জীবন মান অনেকাংশে উন্নত। তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ সম্পন্ন হলে নগরীর জনসংখ্যা বেড়ে মেগাসিটিতে রূপ নিতে পারে। সে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে নগরবাসীর সেবার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সিটি মেয়র বলেন, নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষার অধিকার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নয়ন ও আলোকিত নগরীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সিটি কর্পোরেশন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ুর প্রভাবের কারনে বর্ষা মৌসুমে নগর জীবনে দূর্ভোগ নেমে আসে। এ সময় নগরীর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়। এছাড়াও অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল নগর জীবনের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, তাঁর নির্র্বাচনী অঙ্গিকার ও নগরবাসীর সেবার স্বার্থে নগরীকে মেগাসিটির আদলে ক্লীন ও গ্রীন সিটিতে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল অঙ্গিকার ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে শান্তি বিরাজমান। এখানে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবেও চট্টগ্রামে শান্তি বিরাজমান। তার কোন রাজনৈতিক দলের সাথে কোন বিরোধ নেই। রোহিঙ্গা ইস্যূতে চট্টগ্রাম নগরে তেমন কোন প্রভাব পরেনি। তবে দীর্ঘ মেয়াদে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করলে বিরূপ প্রভাব পরতে পারে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল হওয়ার কারণ নেই। এখানে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজ করছে। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমাত্রিক ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো গতিশীল হতে পারে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বন্দরের বহুমাত্রিক ব্যবহার চলছে। প্রসঙ্গক্রমে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের রয়েছে চমৎকার সু-সম্পর্ক । রোহিঙ্গা ইস্যুসহ জঙ্গী ও সস্ত্রাসবাদের বিষয়ে আমেরিকা বাংলাদেশের পাশে থাকায় এ দেশের জনগণ আমেরিকার কাছে কৃতজ্ঞ। গণতান্ত্রিক ও শান্তির দেশ বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী আমেরিকা। তাদের অব্যাহত সহযোগীতার জন্য মেয়র রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আমেরিকার সরকারকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রদূত মার্শা ষ্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট সিটি মেয়রের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে এসে তিনি অভিভূত। সিটি মেয়রের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে গৃহিত পরিকল্পনা সমূহ অবগত হয়ে তিনি তাঁর প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনারও প্রশংসা করেন। তিনি বার্মার রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গ তুলে ধরে অনুপ্রবেশের বিষয়টি সমস্যা কিনা জানতে চান। রাষ্ট্রদূত সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থের উৎস কি সে সম্পর্কেও মেয়রের নিকট জানতে চান। রাষ্ট্রদূতের অভিপ্রায় শুনে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে জানান, চট্টগ্রাম শহরে রোহিঙ্গা কোন শরনার্থী নেই। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন রাষ্ট্রদূতকে জানান যে, নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্সের উপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কর্মকান্ড ছাড়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করা সহ নানাবিদ খাতে মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করা হয়। থাইলেন্ডের রাষ্ট্রদূত গং. চধহঢ়রসড়হ ঝঁধিহহধঢ়ড়হমংব পাহাড়ধস রোধে থাইলেন্ডের রাজপুত্রের প্রজেক্ট ঠবঃরাবৎ এৎধংং অ ঐবফমব অমধরহংঃ ঊৎড়ংরড়হ চট্টগ্রামে এ ঘাস লাগানোর বিষয়ে মেয়রের অভিমত জানতে চান। মেয়র পত্রের মাধ্যমে প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করবেন বলে জানান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য মেলা আয়োজন এবং বজ্র থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করেন। মেয়র এ প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন। বৈঠকে প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মো. ইসমাইল বালী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, স্থপতি এ কে এম রেজাউল করিম, রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ষ্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট ও থাইলেন্ডের রাষ্ট্রদূত গং. চধহঢ়রসড়হ ঝঁধিহহধঢ়ড়হমংব সিটি কর্র্পোরেশনের মেয়র দপ্তরে পৌঁছলে উভয়কে কর্পোরেশনের মনোগ্রাম খচিত ক্রেষ্ট উপহার দেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন। উল্লেখ্য যে, থাইলেন্ডের রাষ্ট্রদূত গং. চধহঢ়রসড়হ ঝঁধিহহধঢ়ড়হমংব সকাল ১০ টায় মেয়র দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ষ্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট বিকেল ৩ টার পর মেয়র দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

 


আরোও সংবাদ