মেহনতি মানুষের নিজেদের দিন আজ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১ মে , ২০১৪ সময় ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

নিউজচিটাগাং২৪.কমমে দিবস5মেহনতি মানুষের নিজেদের দিন আজ। আজ মহান মে দিবস। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান মে দিবস আজ । বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগের এক সংগ্রামী ইতিহাস। মালিকদের অমানবিক আচরণ, নির্যাতন-নিপীড়ন, যখন-তখন ছাঁটাই, কম মজুরির মাধ্যমে শ্রমিকদের শ্রম-শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ ওঠে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ১৮৮৬ সালে। শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ, কাজের সময় নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিক-অধিকার আদায়ের প্রথম সংগ্রামে, মিটিং-মিছিল-বিক্ষোভ করায় নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে কয়েক শ্রমিক নেতাকে দেওয়া হয় মৃত্যুদ-, দ- কার্যকর করা হয় প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়ে। বলা বাহুল্য, সেসব শ্রমিক-নেতাদের আত্মদান বৃথা যায়নি। তাদের দেখানো পথ ধরেই আসে শ্রমিক আন্দোলনের সাফল্য। তাদের ত্যাগের স্বীকৃতি আসে বিরামহীন আন্দোলনের পথ ধরে। পহেলা মে স্বীকৃতি পায় শ্রমিক দিবস হিসেবে। শ্রমিক-মেহনতি মানুষের যতটুকু অধিকার আজ স্বীকৃত তা শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিক আন্দোলন, নেতাদের আত্মত্যাগের পথ ধরে পর্যায়ক্রমিক আন্দোলনের ফসল।
তবে স্বীকার করতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয় যে, প্রায় ১২৮ বছর পরও শ্রমিকরা, মেহনতি মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকারের নীতিগত স্বীকৃতি পেলেও স্বীকৃত অধিকারের সামান্য অংশও পায় না কর্মক্ষেত্রে। শুধু বাংলাদেশ নয়_ বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশে মালিকদের কায়েমী স্বার্থে যখন আঘাত লাগে শ্রমিকদের স্বীকৃত অধিকারের অনেকটাই হয় তখন ভূলুণ্ঠিত। প্রত্যেকটি দেশের শ্রম আইনে অনেক কিছুই আছে শ্রমিকদের জন্যে; কিন্তু মাঠ পর্যায়ে শ্রমিকরা তার ক্ষুদ্রাংশও পায় না। মালিক-শ্রমিকের অবস্থানগত দূরত্ব এখনো যোজন-যোজন, মনোভাবে, কাজে-উভয়ক্ষেত্রেই। তবে কিছুটা স্বস্তি এখানে যে, স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইনের বলে রাষ্ট্র-সরকার শত বছর আগের মতো শুধু মালিকদের নয় এখন শ্রমিকদেরও। আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্র-সরকার সুযোগ করে দিচ্ছে বঞ্চিত, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিককে তার ন্যায্য পাওনা আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের অধিকার যেমন নতুন নতুন মাত্রা পাচ্ছে, সরকারি শ্রম আইনেও আসছে তদনুযায়ী পরিবর্তন। শ্রমজীবী, মেহনতি মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে এখনো শ্রম-শোষণ চলছে না মালিক পক্ষের তা জোর দিয়ে বলা যাবে না। তবে মালিক পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন যে আসছে সেটি আইনের বলে কিংবা মানবতার দাবিতে যাই হোক_ সেটি সত্য।
উন্নয়নে প্রতিটি ধাপে শ্রমিকের ঘামের শ্বেত জমে আছে। ব্যক্তি পর্যায়ে বাস্তব অনুভব ততটা গভীর না হলেও সমষ্টিগত, জাতীয় অনুভব কিন্তু তাই। যে কারণে শ্রমিকরা এখন সম্মান এবং মর্যাদা পাচ্ছে। বাংলাদেশের বহু সেক্টরে শ্রমিকদের বঞ্চনা, অধিকারের কোনো পূর্ণ স্বীকৃতি, ন্যায্য এবং নিয়ম মতো মজুরির নিশ্চয়তায় ঘাটতি আছে সত্য; কিন্তু শ্রমিকের এসব পাওনার ন্যায্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এ কথা ঠিক যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিদ্যমান শ্রম আইনে গলদ ধরা পড়ছে, কোনো কোনো খাতের শ্রমিক শ্রেণী শ্রম আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কল-কারখানায় কর্মরত শিশু শ্রমিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকলেও স্বল্প মজুরিতে ৮ ঘণ্টার অধিক সময় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। গৃহকর্মী, শিশু-নারী নির্বিশেষে বঞ্চিত শ্রম বিনিয়োগের বিধিবদ্ধ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে। মেহনতি মানুষের পূর্ণ অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন দাবি কিছুতেই করা চলে না। কারণ সময়ের চাহিদা, বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকারও নতুন মাত্রা পাচ্ছে যেসব পূরণ হতে সময় অবশ্যই প্রয়োজন। তবে মেহনতি মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ তাদের অধিকারের রক্ষাকবচ অনেকটাই হাতে পেয়েছে। স্বীকৃতি পেয়েছে তারা শিল্প কারখানার মালিক নয়_ কিন্তু দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশীদার।