মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে মন জুড়িয়ে যায়

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ , ২০১৭ সময় ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি: কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ২ হাজার ৯৬১ একর ও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ১৩ হাজার ১৫৮ একর বনভুমিতে রোপিত হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে নীরব সবুজ বিপ্লব। যতদুর চোখ যায় ঐ দূর নীলিমায় চোখ দুটি ভরে যায় সবুজের সমারোহে। দৃষ্টি জুড়ে যায় বন অধিদপ্তরের সৃজিত সামাজিক বনায়ন।
সুত্র মতে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি, ফাসিয়াখালী, রাজঘাট, ঈদগাঁও, ঈদগড়, মেহেরঘোনা, বাঁকখালী, জোয়ারিয়ানালা ও সদর রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে ২ হাজার ৯৬১ একর বনভুমিতে বনায়ন সৃজন করা হয়। তৎমধ্যে ৭০১ একর বনভুমিতে পুনঃবনায়ন (দ্বীয় আর্বত বাগান) করা হয়েছে। নিয়োগ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৬৫ জন উপকারভোগী। এসব বনাঞ্চলে ১৯৫২-৫৩ সাল থেকে শুরু করে এখনও অব্যাহত রয়েছে বনায়ন সৃজনের কাজ। একই সঙ্গে চলছে বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষরাজি রক্ষায় বনকর্মী ও বন জায়গীরদারদের প্রাণপণ প্রচেষ্টাও। বন নির্ভরশীলদের বননির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প জীবিকায়নের কাজ করছে বেশ কয়েকটি এনজিও।
সুত্র মতে, ইতোপূর্বে সৃজিত বনায়নের গাছ পরিপূর্ণতা লাভ করায় গাছ কেটে আয়লব্দ অর্থ ৪৫% সরকার ও ৪৫% উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের পর অবশিষ্ট জমা ১০% টাকা স্বীয় আর্বত বাগান সৃজন করা হয়েছে।
বিশেষ করে, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধা কচ্ছপিয়া ন্যাশনালপার্ক এর দৃশ্যটা চোখে পড়ার মতো। মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে যে কারো নজর কাড়ছে এ উদ্যানটি। পর্যটকদের সুবিধার্থে উদ্যানের ফাঁকে ফাঁকে নির্মিত হয়েছে বিশ্রামাগার তথা টহলশেড। নিরাপত্তায় সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কো-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যরা। এখানে ‘মাদার ট্রী’ গাছের পাতা ও আবর্জনা মুক্ত পরিবেশে যে কারো মন আকৃষ্ট করবে। সবুজ গাছ গাছালি-গ্রামের মেঠোপথে নৈসর্গিক এই বাগান কতই না সুন্দর!! মন জুড়িয়ে যায় মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান। এটা একদিন হবে বাংলাদেশে নৈসর্গিক পর্যটন কেন্দ্র। ‘ন্যাশনালপার্ক পিকনিক স্পট’ দেশের শ্রেষ্টত্বের গৌরব আর্জন করবে- এমনটাই আশা স্থানীয় শিক্ষিত সমাজের।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) কেরামত আলী মল্লিক বলেন, আমাদের কর্মকর্তা, বন প্রহরীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত সংরক্ষিত বন পাহারা দিচ্ছেন। প্রাণপন চেষ্টায় ন্যাশনাল পার্কের সবুজ অরণ্য রক্ষা সম্ভব হয়েছে। আরো নতুন গাছ রোপন করে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য অক্ষুন্ন রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মেধাকচ্ছপিয়া ও ফাঁসিয়াখালী বনবিট এলাকায় ১০০ হেক্টর করে মোট ২০০ হেক্টর জায়গায় এএনআর (গাছ থেকে বীজ পড়ে স্বাভাবিক পন্থায় যে চারা তৈরী হয়) বাগান সৃজনের মাধ্যমে অভয়ারণ্য তৈরী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সমস্ত এলাকার বাইরের জায়গাতেও এএনআর বাগান সৃজনের মাধ্যমে বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য তৈরী করা প্রয়োজন।
সুত্র জানায়, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বনবিভাগে গত অর্থ বছরে ১৬ হাজার একর বন ভুমিতে সৃজন করা হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ। সামাজিক বনায়নের বিপরীতে ১৬ হাজার ৬১৩ জন উপকারভোগী নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে সবুজে সমারোহে ভরে উঠেছে বনায়নগুলো।
মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠা দৃষ্টিনন্দন বনায়ন এখন পর্যটক-দর্শণার্থীদের কাছে বিনোদনের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকে চলন্ত গাড়ী থামিয়ে সড়কের উভয় পাশের সবুজ বনায়নে কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির অপার স্বাদ ও ছবি ধারণ করে নিচ্ছেন নিয়মিত। বেত বাগান, মেধাকচ্ছপিয়ায় প্রাকৃতিক গর্জন বাগানে সবুজ সমারোহ দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ হচ্ছে।
কক্সবাজার-চট্রগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়ি রেঞ্জের মেধাকচ্ছপিয়া বনবিটের ৩৯৫ দশমিক ৯২ হেক্টর বা ৯৭৮একর বনাঞ্চলকে ২০০৪ সালের ৪ এপ্রিল পরিবেশ ও বন মন্ত্রানালয়ের মাধ্যমে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ন্যাশনাল পার্ক ঘোষনা করেন সরকার। পার্কটি ঘোষনার সময় বাগানে স্থিত মাদার গর্জন গাছের সংখ্যা দেখানো হয় ১০হাজার ৩৩৭টি।
অন্যদিকে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের অধীনে গত ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ১৩ হাজার ১৫৮ একর বনভুমিতে চারা রোপন করা হয়েছে ৯০ লাখ। এর মধ্যে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর রেঞ্জের আওতাধীন বনবিটগুলোর উচ্ছেদকৃত ২১০ একর বনভুমিতে রোপন করা হয় ২৯ লাখ ৭৫ হাজারটি চারা গাছ। রামু দু’ছড়ি এলাকায় ৮’শ একর বন ভুমিতেও অনুরূপ চারা রোপন করা হয়। এসব বনায়নের বিপরীতে ১৪ হাজার ৪৮ জন উপকারভোগী নিয়োগ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, তের কিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠা দৃষ্টিনন্দন বনায়ন এখনপর্যটক-দর্শণার্থীদের কাছে বিনোদনের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকে চলন্ত গাড়ী থামিয়ে সড়কের উভয় পাশের সবুজ বনায়নে কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির অপার স্বাদ ও ছবিধারণ করে নিচ্ছেন নিয়মিত। বেত বাগান, মেধাকচ্ছপিয়ায় প্রাকৃতিক গর্জন বাগানে সবুজ সমারোহ দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ হচ্ছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আলী কবির জানান, স্থানীয় দরিদ্র জনগণকে উপকারভোগী হিসেবে স¤পৃক্ত করে পরিচালিত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে সুফল পাচ্ছে উপকারভোগীরা। তিনি বলেন, সামাজিক বনায়নের ফলে অংশীদার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ভূমিহীন, দরিদ্র, বিধবা ও দুর্দশাগ্রস্থ গ্রামীণ জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে।