মেঘনায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব; হুমকির মুখে প্রকৃতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ মে , ২০১৪ সময় ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবহিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ঘেরা মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার ইজারা ছাড়াই কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে দুই উপজেলার প্রায় ২০ গ্রাম নদী ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা অাঁতাত করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে। বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু ইউসুফ মোঃ রেজাউর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, শর্তানুযায়ী নদী থেকে বালু উত্তোলন না করলে মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে কোনো ইজারা ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। আর এ বালু উত্তোলনকারী চক্রকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন। বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা শুরু না হলেও শুরু হয়ে গেছে মেঘনার চারপাশের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। এরই মধ্যে হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের সাওরা মৌজা, গঙ্গাচরণ কারিগাঁও মৌজা, সেকান্দারদলদী ও আলামপুর মৌজার কয়েক হাজার একর জমি ও শতশত বাড়ি ঘর প্রায় দুই যুগ আগে মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হিজলা উপজেলার ১০টি বালু মহাল মামলার কারণে বন্ধ থাকলেও সেখানে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা। জানা গেছে, হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়নে চারটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। মেসার্স হাসান হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামে ড্রেজারের সুপারভাইজার জাহিদ জানান, তারা অনুমোদন নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। বরিশাল জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পোমা মৌজায় বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা নিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। তবে কেন হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিক যেখানে বালু উত্তোলন করতে বলবে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করবে তারা। এদিকে মেহেন্দিগঞ্জের লঞ্চঘাট পয়েন্টে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু কাটার অভিযোগ রয়েছে। ফলে লঞ্চঘাট এলাকার বিশাল অংশ মেঘনারগর্ভে বিলিন হচ্ছে। একইভাবে মেহেন্দীগঞ্জসংলগ্ন মেঘনা নদীর একাধিক স্পট থেকে বালু উত্তোলন চলছে। ফলে এ উপজেলার অনেক গ্রাম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ ব্যাপারে জেলার বালু মহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম বলেন, ইজারাভুক্ত এলাকা ছাড়া কেউ অন্য এলাকায় বালু উত্তোলন করতে পারবে না। যদি কেউ ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে থাকে তাহলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরোও সংবাদ