মৃধার বিরুদ্ধে আরও দু’মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ:| সোমবার, ২১ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৮:১২ অপরাহ্ণ

বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আলোচিত রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বরখাস্ত হওয়া মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আরও দু’টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

টুল কিপার ও টিকেট ইস্যুয়ার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার অভিযোগ পত্র গ্রহণ শেষে সোমবার পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ এস এম মুজিবুর রহমান।

ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো.ফুয়াদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত সব আসামী পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ৪ ডিসেম্বর মামলার শুনানির দিন সিএমএম আদালত থেকে নির্ধারিত আছে।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দু’টি মামলাতেই আসামী হিসেবে থাকা ইউসুফ আলী মৃধা এবং রেলওয়ের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার গোলাম কিবরিয়া ও অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

টিকেট ইস্যুয়ার পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলার অভিযোগ পত্রে তিন কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া চার প্রার্থীকেও আসামী করা হয়। পলাতক থাকায় ‍আদালত তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এরা হল, আজিজুল হক, রবিউল ইসলাম, সাইফুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম।

টুল কিপার পদে নিয়োগে দুর্নীতির মামলার অভিযোগপত্রে আছেন তিন কর্মকর্তাসহ চারজন। আদালত অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া মো.শাহীন নামে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

গত ২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মশিউর রহমানের আদালতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী পরিচালক এস এম রাশিদুর রেজা অভিযোগপত্র দু’টি দাখিল করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিএমএম অভিযোগপত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করে ওইদিনই সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠিয়ে দেন। এরপর সোমবার অভিযোগপত্রগুলোর গ্রহণযোগ্যতার উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের টুল কিপার ও টিকেট ইস্যুয়ার পদে দুর্নীতির মাধ্যমে ফেল করা প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নগরীর কোতয়ালী থানায় ২টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

ইউসুফ আলী মৃধামামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দণ্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ৪৭৭ (ক), ২১৭ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখ্য ২০১০ সালে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এসব পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

গত বছরের ৯ এপ্রিল রাতে পদত্যাগ করা রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বরখাস্তকৃত এপিএস ওমর ফারুক তালুকদারের গাড়িতে ৭০ ল টাকা পাওয়া যায়। এসময় ফারুকের সঙ্গে ছিলেন ইউসুফ আলী মৃধা ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট (ঢাকা) এনামুল হক।

অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনার পর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঘটনা তদন্তে উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করে নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেন।

এ নিয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলায় মৃধাসহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তিন কর্মকর্তা এবং অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল আদালত।

গত ৬ অক্টোবর রেলওয়ের ট্রেন টিকেট চেকার পদে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় মৃধাসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

২০ অক্টোবর ফুয়েল চেকার এবং সহকারী কেমিস্ট পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হওয়া দু’টি মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত মৃধাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।