মৃত রাব্বীকে’ই খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৪ জুন , ২০১৫ সময় ০৮:৪৩ অপরাহ্ণ

রাব্বিনগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীণ ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া ২০/২২ বছর বয়সী এক যুবকের লাশ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে পুলিশ। খুনের শিকার যুবককে জনৈক হেলাল মণ্ডল নিজের নিখোঁজ ছেলে ‘ফজলে রাব্বী’ দাবি করে ইতোমধ্যে বগুড়ায় নিয়ে দাফনও করেছেন।

তবে একই সাথে নিখোঁজ হওয়া রাব্বীর বন্ধু খোকনের পরিবার উদ্ধার হওয়া বিকৃত লাশটিকে বারবারই খোকনের লাশ দাবি করে আসছিলেন। এনিয়ে গোলকধাঁধায় পড়ে যায় খুলশী থানা পুলিশ। এখন লাশের আসল পরিচয় উদঘাটনে আদালতের মাধ্যমে লাশ উত্তেলন করে ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদনই একমাত্র ভরসা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ‘দাফন হওয়া রাব্বীকেই’ গ্রেপ্তারে খুঁজছে পুলিশ।

তবে বুধবার নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই হত্যকাণ্ডে জড়িত চার যুবককে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর আরেক তথ্য। পুলিশ দাফন হওয়া যুববকে রাব্বীর লাশ হিসেবে তদন্ত কাজ চালিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হওয়া যুবকরা বলছে, নিহত যুবকটি তাদের বন্ধু খোকনই। আর হত্যকাণ্ডে স্বয়ং উপস্থিত ছিল রাব্বী দাবি করে যাকে দাফন করা হয়েছে সেই ফজলে রাব্বীও। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বর্তমানে পলাতক রয়েছে ‘দাফন হওয়া ফজলে রাব্বী।’

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার কুসুম দেওয়ান বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৩০ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর লালখান বাজারের গ্রিন ডেল্টা হাউজিংয়ের নির্মাণাধীন ভবনের পাশ থেকে আনুমানিক ২০-২১ বছর বয়সী যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর লাশটি জনৈক হেলাল মণ্ডল নিজের নিখোঁজ ছেলে ফললে রাব্বী দাবি করে ময়না তদন্ত শেষে লাশ বগুড়ায় নিয়ে দাফন করেন। তবে একই এলাকার ভাড়াটিয়া ও রাব্বীর বন্ধু খোকনও একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে উল্লেখ করে দু’জনের পরিবার খুলশী থানায় দুটি জিডি করেছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে গত বুধবার রাতে লালখান বাজার পোড়া কলোনি থেকে রেজাউল করিম রাজুকে (২৫) গ্রেপ্তার করে ডিবি। এরপর তার স্বীকারোক্তি মতে বৃহস্পতিবার সকালে সদরঘাট থানার শাজাহান হোটেলের সামনে থেকে শরীফ আহম্মেদ প্রকাশ টেম্পু শরীফ (২৩), শরীফুল রহমান প্রকাশ সুন্দরী শরীফ (২৩) ও সোহাগকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

গ্রেপ্তার হওয়া চার যুবক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, রাব্বী দাবি করে যাকে তার বাবা বগুড়ায় নিয়ে দাফন করেছেন সে রাব্বী নয়। সে হচ্ছে তাদেরই আরেক বন্ধু খোকন। যাকে তারা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে বালি চাপা দিয়ে যে যার মত করে গা ঢাকা দেয়। তাদের এই বক্তব্যের পর বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রাথমিকভাবে দাফন হওয়া লাশটিকে খোকনের ধরে নিয়ে এখন সেই রাব্বীর খোঁজে নামছে পুলিশ।

কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘যেহেতু লাশ নিয়ে একটা কথা উঠেছে। সেক্ষেত্রে লাশের পরিচয় নিশ্চিত হতে আদালতের অনুমতি নিয়ে লাশের ডিএনএ টেস্ট করাব। তারপর খোকনের বলে নিশ্চিত হলে লাশটি বগুড়ায় কবর থেকে উত্তোলন করে তার পরিবারকে হস্তান্তর করব।’

রাব্বীর বাবা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হেলাল মণ্ডল কেন লাশটি নিজের ছেলে রাব্বীর বলে দাফন করলো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তিনি যদি ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সে নজরদারিতে থাকলেও তাকে আটক করা হয়নি এখনো।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অভিযুক্ত চার হত্যাকারীর মধ্যে রাজু জানান, খোকন, রাজু, টেম্পু শরিফ, সুন্দরী শরীফ, সোহাগ, রাব্বি, আলী, বাবলু ড্রাইভার পরস্পরের বন্ধু। তার একই গ্রুপে থেকে এলাকায় ছিনতাই কাজ করতো। গত ২৮ মে রাত সাড়ে ১১টার সময় তারা লালখান বাজার পোড়া কলোনি এলাকায় বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় অভ্যন্তরীণ আধিপত্য নিয়ে খোকনের সঙ্গে টেম্পু শরিফের কথা কাটাকাটি হয়।

খোকন তার কাছে থাকা ছুরি নিয়ে টেম্পু শরীফকে মারতে উদ্যাত হলে সুন্দরী শরীফ পেছন থেকে খোকনের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। খোকন তাদের গ্রুপে প্রভাবশালী ও দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাকে বাঁচিয়ে রাখলে তারা বাঁচতে পারবেনা। আর তখনই সিদ্ধান্ত হয় খোকনকে তারা হত্যা করবে। এসময় খোকন মাটিতে পড়ে গেলে অন্যান্যরা সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এরপর খোকনকে বালিচাপা দিয়ে সবাই যে যার মত করে চলে যায়। এই হত্যকাণ্ডে দাফন হওয়া সেই রাব্বীও ছিল বলে জানান গ্রেপ্তার হওয়া রাজু।

নগর গোয়েন্দা পুুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘এই হত্যা মামলাটি এখন একটু জটিল হয়ে যাবে। লাশের পরিচয় সনাক্তের পর যদি নিশ্চিত হই দাফন হওয়া লাশটি আসলেই খোকনের। তখন ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেবে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এখন রাব্বীকেই আমরা খুঁজছি। এছাড়া তার পরিবারকেও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।’


আরোও সংবাদ