মূল্যস্ফীতি কমানোর নতুন মুদ্রানীতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:২৩ অপরাহ্ণ

বেসরকারি ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ গতিশীল ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য bbankjpg‘ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।মূল্যস্ফীতি কমানোর নতুন মুদ্রানীতি

এতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আগের মতোই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আতিউর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ষান্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “অর্থনীতির সাম্প্রতিক গতিধারা বিবেচনায় রেখে আগামী ছয় মাসের মুদ্রানীতি ভঙ্গিতে আগের ছয় মাসের মুদ্রানীতি ভঙ্গিরই ধারবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ মুদ্রানীতির লক্ষ্য গড় বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা এবং পাশাপাশি অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য উৎপাদনশীল খাতগুলোয় প্রয়োজনীয় ঋণ যোগান পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা।”

এজন্য কৃষি ও এসএমই ঋণ যোগানের ওপর বিশেষ নজর থাকবে বলে জানান গভর্নর।

নতুন মুদ্রানীতিতে রিজার্ভ মুদ্রা ও ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৫.৫ শতাংশ ও ১৭.২ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫.৫ শতাংশ ধরা হয়েছে এবং জুন ২০১৪-এর মধ্যে তা ১৬.৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে।

এ মুদ্রানীতিকে ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি অভিহিত করে তিনি বলেন, “এটি হলো দু’পায়ে হাটার মতো। এতে প্রবৃদ্ধি সহায়ক নীতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যা যা করা দরকার সেসব কৌশল থাকছে।”

আতিউর রহমান বলেন, “অবকাঠামো খাতে ও অন্যবিধ বিনিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের গতিশীলতা না আনা গেলে প্রবৃদ্ধির বাস্তব অর্জন বিগত দশ বছরের গড় প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশের চেয়ে খুব একটা বেশি হবার সম্ভাবনা কম। এ বিষয়টি বেশকিছু নিয়ামক যেমন বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, রফতানি, আমদানি, প্রবাসী আয় ইত্যাদির চলতি ও সম্ভাব্য গতিধারার ওপর নির্ভরশীল।”

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো অর্থবছর জুড়ে নিয়মিতভাবে প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস হালনাগাদ করবে এবং পূর্বাভাসে যে কোনো ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মুদ্রানীতি প্রোগামও নমনীয় করবে বলে জানান তিনি।

আগামী ছয় মাস নির্বাচনী আবহাওয়ার মধ্যে টাকার যোগান সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে কি-না – এ প্রশ্নের জবাবে গভর্নরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক পরামর্শক আল্লাহ মালিক কাজমী বলেন, “বাজারে মুদ্রা যোগানের ভার আমাদের ওপর। আমরা চাইলে মুদ্রা যোগান সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারিত্বের কারণে এক উদ্দেশ্যে ঋণ নিয়ে অন্যত্র খরচ করার সুযোগ নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আশা করতে পারি নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেও টাকার যোগান সীমিত পর্যায়ে থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজী হাসান, এস কে সূর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা, প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামান, অর্থনৈতিক পরামর্শক ড. আখতারুজ্জামানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।