মুষ্টিমেয় নেতার বিরোধীতায় নারী সংসদ সদস্য থেকে বাদ পড়ছেন সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা!

প্রকাশ:| শনিবার, ৮ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৮:১৫ অপরাহ্ণ

বান্দরবান প্রতিনিধি ॥
মুষ্টিমেয় নেতার বিরোধীতায় বান্দরবান জেলা থেকে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন!। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরোধীতাকারী জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের এপিএস (ব্যক্তিগত একান্ত সহকারী) সাদেক হোসেন চৌধুরী। তিনি আরো জানান, আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারণী সভার সিদ্ধান্তমতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই বাদ দেয়ার বিষয়টি গৃহিত হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, উপজেলা নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় অংশ নেয়া, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে বিগত পাঁচ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সর্ম্পক না রাখা এবং দলীয় কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা’সহ সংগঠনের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা অঠুট রাখতে সুচিত্রা’র বিরোধীতা করেছেন জেলা আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনে নেতাকর্মীরা। তবে সুচিত্রা ছাড়া অন্য যে কাউকে নারী সংসদ সদস্য বানালে কারো আপত্তি থাকবে না।
অভিযোগুলো অস্বীকার করে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া বান্দরবানের নারী নেত্রী সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা বলেছেন, আওয়ামীলীগের সকলে নয়, বীর বাহাদুর দাদা’র এপিএস সাদেক হোসেন চৌধুরী, বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাজী মুজিবুর রহমান’সহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তি ইর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও বাদ দেয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
পৌর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রীর প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। নেত্রী যেমন কয়েকশ নারীদের মধ্যে বাছাই বিবোচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তেমনি অপপ্রচার ও অপতৎপরতাগুলোও নেত্রীর কাছে পাত্তা পাবেনা।
পাহাড়ী তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নাকি আওয়ামীলীগের কেউই না, কেউই না হলে কিভাবে ৬/৭ বছর জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ছিলাম, জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে কিভাবে সদস্য রাখা হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকার ভোটের জন্য বীর বাহাদুর দাদার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছি। এইসব রাজনৈতিক নোংরামী ছাড়া কিছুই নয়, বান্দরবানে ওরা ছাড়া অন্যকেউ যেন ক্ষমতা না পায় সেজন্য এই নোংরামী গুলো করছে। আমি তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের না হয়ে মারমা হলে এই বিরোধীতা হতো না বলে আমি মনে করি। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ক্যশৈ হ্লা’র মোবাইলফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য না জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত:-গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে নারী সংসদ সদস্য হিসেবে রাঙামাটির ফিরোজা বেগম চিনু ও বান্দরবানের সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা’কে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।