মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ জুন , ২০১৩ সময় ০৬:২৯ অপরাহ্ণ

আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে সহিংসতায় এক মার্কিন নাগরিকসহ শুক্রবার কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকশ’ মানুষ। আজ রবিবার বিরোধীদের পূর্বঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এরকম সহিংস পরিস্থিতিতে দেশটিতে ‘গৃহযুদ্ধের’ আশংকার কথা বলছেন অনেকে।

মিসরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে শুক্রবার ব্যাপক বিক্ষোভ করে বিরোধীরা। এসময় তারা মুসলিম ব্রাদারহুডের বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আলেকজান্দ্রিয়ায় বিরোধীরা মুসলিম ব্রাদারহুডের অফিসের কাছে জড়ো হলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে ঐ মার্কিন নাগরিকসহ দু’জন নিহত হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলেকজান্দ্রিয়ায় সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ সামলাতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে হয়েছে। এদিকে, মার্কিনী নাগরিকের নিহত হওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পাওয়া গেছে। মিসরের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বুকে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন। অন্য খবরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সংঘর্ষের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার সময় তিনি নিহত হন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘটনার তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটন তার দেশের নাগরিকদের মিসর সফরের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

মিসরের ক্ষমতাসীন দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) আদর্শিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে,আলেকজান্দ্রিয়াসহ তাদের আটটি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বিরোধীদের রবিবারের পরিকল্পিত গণবিক্ষোভের দু’দিন আগেই ইসলামপন্থী দলগুলো তাদের সমর্থকদের তাহরির স্কোয়ারে তাঁবু ফেলে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে মিসরের প্রভাবশালী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আল-আজহার দেশে ‘গৃহযুদ্ধ’ শুরুর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মিসরে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিতে মুরসির হাজার হাজার সমর্থক যেমন মাঠে রয়েছে তেমনি তার বিরোধীরাও ব্যাপক সংখ্যায় সক্রিয়। উভয়পক্ষই শুক্রবার সারাদেশে সমাবেশ করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিসরের নাগরিকরা আরো সহিংসতার আশংকায় খাবার ও জ্বালানি মজুদ করছে।

ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ কার্যালয়ে গোপন নজরদারি চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক সি আই এ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিখ্যাত জার্মান ম্যাগাজিন ডার স্পেইগেল। এদিকে, মার্কিন নজরদারির বিষয়টি ফাঁস করে দেয়া স্নোডেনকে আশ্রয় না দেয়ার জন্য ইকুয়েডরের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে মার্কিন গোপন নজরদারির খবর। এরই সর্বশেষ হলো,ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং  জাতিসংঘ কার্যালয়ে নজরদারি। এটি প্রকাশ করেছে জার্মান ম্যাগাজিন ডার স্পেইগেল। এবং সূত্র যথারীতি স্নোডেন।

ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে গোপনে নজরদারি চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা। বাদ যায়নি নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরও।এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মাইকেল শুলজ।

এদিকে, স্নোডেনকে আশ্রয় না দেয়ার জন্য ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের প্রতি এক ফোনালাপে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া “তিনি আমাকে বলেছেন স্নোডেনকে যেন আশ্রয় দেয়া না  হয়। আমাদের দেশের পলাতক আসামিদের আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের কাছেও বৈধ পাসপোর্ট ছিল না। আইন সকলের জন্য একই হওয়া উচিত।”

ইকুয়েডরের মাটিতে পা রাখার আগে তাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট । হংকং থেকে পালিয়ে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মস্কো বিমানবন্দরের ট্রানজিট জোনে আছেন স্নোডেন।

– See more at: http://independent24.tv/?p=55466#sthash.bM9zYo40.dpuf