মুফতি হারুন ইজহারকে করাগারে পাঠিয়েছেন আদালত

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

মুফতি হারুন ইজহার হেফাজতের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারের লালখান বাজার মাদ্রাসায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মুফতি হারুন ইজহারকে করাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুর সাড়ে তিনটায় মহানগর হাকিম আহমেদ সাঈদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মাদ্রসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় খুলশী থানায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক মামলায় ৫ দিন পুলিশ হেফাজতে ছিল মুফতি হারুন।

বিস্ফোরক মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার দুপুরে পুলিশ হারুন ইজহারকে আদালতে হাজির করলে তার আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তার বিরুদ্ধে খুলশী থানার এসিড মামলায় আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর আছে। কোরবানীর ঈদের পর তাকে ওই মামলার রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই লোকমান হোসেন।

তিনি বলেন, ‘মুফতি হারুন ইজহার দুই মামলায় ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ডে থাকলেও তাকে প্রথম দফায় বিস্ফোরক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঈদের পর তাকে এসিড মামলায় আদালতের মঞ্জুরকৃত ৫ দিনের রিমান্ডে আনা হবে। আমরা তাকে নিজ হেফাজতে নেয়ার আবেদন না করায় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।’

তবে রিমান্ডে মুফতি হারুন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে জানালেও এই তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত বলতে উপরের নিষেধ আছে বলে জানান।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘মুফতি ইজহারকে সন্ধ্যা ৬টার সময় কারাগারে আনা হয়েছে। তাকে কারাগারের তারেকশ্বর ভবনে রাখা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজারে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জমিয়তুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার এবতা ছাত্রাবাসের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন ছাত্র আহত হয়। এরমধ্যে দু’জন মারা যান।

ঘটনার পর বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি হারুন ইজহার দাবি করে বলেছিলেন, ‘ল্যাপটপ চার্জার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।’

তবে বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ওই কক্ষ তল্লাশি করে চারটি তাজা গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। রাতে মুফতি ইজহারের শয়নকক্ষে তল্লাশি করে মুম্বাইয়ের তৈরী করা ১৮ বোতল এসিড পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে নগরীর খুলশী থানায় বিস্ফোরক ও এসিড আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলাতেই মুফতি ইজহার ও ছেলে হারুনকে আসামী করা হয়। ওই রাতেই মাদ্রাসা থেকে আটক করা হয় ৫ জনকে।

এর পরে ১০ অক্টোবর মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে ঘটনায় তিন ছাত্র নিহতের ঘটনায় মুফতি ইজাহার ও তার ছেলে হারুন ইজহারসহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

একই দিন বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামের জানালী চৌধুরীর বাড়ী থেকে মুফতি হারুন ও তার দেহরক্ষী জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।