মুঠোফোনে বিপদমুক্তি

প্রকাশ:| সোমবার, ২১ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

টেলিনর ইয়ুথ সামিট চ্যাম্পিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের আইবিএর শিক্ষার্থী সামি ও সাফা। কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে সুমির পিছু নিল দুই বখাটে। উদ্ভট স্বরে গান গাইতে গাইতে আর শিস দিতে দিতে অনেক দূর চলে এল তারা। অন্য যুগের মেয়ে হলে সুমি তো ভয়েই অস্থির হয়ে পড়ত, কিন্তু বুদ্ধিমতী সুমি জানে কী করতে হবে। শুরুতেই সে তার মুঠোফোন থেকে ৭১-এ ডায়াল করে গ্রামীণফোনে পাঠিয়ে দিয়েছে ‘বিপদ বার্তা’। তারপর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে লাগল সে। একটু পরই পুলিশ চলে এল, আর সেই বখাটে দুটোকে এমন শাস্তি দিল যে তারা আর জীবনে কোনো দিন মেয়েদের বিরক্ত করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করল।
এটি একটি ধারণা। মুঠোফোনে এমন সুবিধার ধারণা দিয়ে এ বছর টেলিনর ন্যাশনাল ইয়ুথ সামিটের সেরা হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর দুই শিক্ষার্থী সাফা তাসনীম ও সামি তাহসিন। তাঁদের প্রকল্প ‘বিপদ বার্তা’ নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে তাঁরা যাচ্ছেন নোবেল পুরস্কারের দেশ নরওয়েতে। সেখানে বিশ্বের ১৩টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশকে তাঁরা পরিচয় করিয়ে দেবেন বিশ্ববাসীর কাছে। যে লাল-সবুজ পতাকা সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নরওয়েতে যাবেন, সেই পতাকার সম্মান তাঁরা রক্ষা করবেনই—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেন।সামি ও সাফা
সারা দেশে ৪০০টিরও বেশি প্রকল্প জমা পড়েছিল এবারের টেলিনর ইয়ুথ সামিটে। প্রকল্পের বিষয় নির্ধারিত ছিল মুঠোফোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন। সেখান থেকে সেরা ২৮টি দলকে মূল ক্যাম্পেইনের জন্য ডাকা হয় ঢাকার গ্রামীণফোন হাউসে। আরেক রাউন্ড প্রতিযোগিতার পর সেরা পাঁচটি দলকে বাছাই করা হয়। তার মধ্যে চারটিই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর দল, বাকি একটি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সবাইকে হারিয়ে সেরার মুকুটটি নিজেদের করে নেন দুই বোন সাফা তাসনীম ও সামি তাহসিন। ‘বিপদ বার্তা’-এর মাধ্যমে মুঠোফোনে যেকোনো বিপদের সংবাদ প্রিয়জন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আইনি সহায়তা চাওয়াটাই তাঁদের প্রকল্পের মূল ধারণা। এই প্রকল্পের জন্য তাঁরা স্পিড ডায়াল নাম্বার হিসেবে বেছে নেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিযুক্ত ৭১ সংখ্যাটিকে।
দুই বোনের মধ্যে বড় সাফা তাসনীম স্কলাস্টিকায় পড়ার সময় থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আইসিডিডিআরবির একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শিশুস্বাস্থ্য-সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে।
বিবিএ শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত এই স্বাপ্নিক সামাজিক ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখেন। সাফা তাসনীম বলেন, ‘করপোরেট দুনিয়া নয়, আমি কাজ করতে চাই দেশের কৃষিক্ষেত্রে। কৃষিপণ্যের বিপণন-ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। কৃষিক্ষেত্রে কাজ করে আমি দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি।’

ছোট বোন সামি তাহসিন। বড় বোনের মতো তিনিও পড়েছেন স্কলাস্টিকায়। বিবিএ প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চান। সামি তাহসিন বলেন, ‘পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আর অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের উন্নতিতে কাজ করতে চাই। তবে আপাতত আমাদের চিন্তার সবটা জুড়েই রয়েছে ডিসেম্বরের নরওয়ে সামিট। আমাদের চেষ্টা থাকবে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনার।’

সাফা ও সামির মতো আমরাও আশাবাদী, তাঁদের স্বপ্ন সত্যি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর কৃতী এই দুই শিক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা।


আরোও সংবাদ