মুক্তিযোদ্ধা বাছাইয়ে পিতার নাম না ডাকায় সন্তানের মৃত্যু !

প্রকাশ:| সোমবার, ৩০ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:২৬ অপরাহ্ণ

বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
বোয়ালখালীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি মুক্তিযোদ্ধা পিতার নাম ডাকায় ছেলে অপমানে ক্ষোভে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ১ নং সেক্টরের ৭নং গ্রুপের যুদ্ধকালীন কমান্ডার সোলায়মান ও একই সেক্টরের ৩২ নং গ্রুপের যুদ্ধকালীন কমান্ডার আবুল হোসেন (লাল মুক্তিবার্তা ০২০২০৩০০৮৩)।
বোয়ালখালী উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ধোরলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য এর ছেলে দেবব্রত ভট্টচার্য ম্যানুয়ালে আবেদন করেন।
যথারীতি ২৮ জানুয়ারি শনিবার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কালে তিনি উপস্থিত হন। তবে তার পিতার নাম যাচাই বাছাই কমিটি না ডাকায় অপমানে ক্ষোভে ২৯ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে দেবব্রত ভট্টাচার্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডা আবুল হোসেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলার আমুচিয়া ধোরলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মানবেন্দ্র ভট্টাচার্য এর ছেলে বাড়ীতে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিয়েছেলেন যুদ্ধকালীন সময়ে। মানবেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নিয়েছিল। ডিসেম্বরে স¦াধীনতার ৫দিন আগে পাচুরিয়া অপারেশনের পর পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ স্কুল, পেসকার দিঘির স্কুল, কালুরঘাট সেতু হতে দোহাজারী পর্যন্ত ১৮ পাক সেনা আমাদের গ্রুপের কাছে আত্মসর্মপণ করে।
আত্মসমর্পণ করা পাক সেনাদের মুক্তিযোদ্ধা মানবেন্দ্রের বাড়িতে রেখে নগরীর জে এম সেন হলে ভারতীয় বাহিনীর কাছে জমা প্রদান করেছিলাম। তবে প্রয়াত মানবেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি আজো পাননি।
জীবনের শেষ বয়সে এসে দেবব্রত ভট্টার্চায সরকারী স্বীকৃতির আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসে তাঁর প্রয়াত বাবা মুক্তিযোদ্ধা মানবেন্দ্র এর আবেদন ফরম জমা প্রদান করেন।
যাচাই বাছাইয়েও উপস্থিত হন ছেলে দেবব্রত। যাচাই-বাছাই কমিটি দেবব্রতের পিতার নাম না ডাকায় সারাদিন বাইরে দাঁিড়য়ে থেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বাড়ীতে গিয়ে পরের দিন সন্ধ্যায় মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন। এভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এ দুই যুদ্ধকালীন। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
দেবব্রত ভট্টার্চাযের কাকাতো ভাই সৌমেন ভট্টাচার্য বলেন, যাচাই বাছাইয়ের পর থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃদ্ধ বয়সে তার পিতার না ডাকায় তিনি অপমানিত হন। এ অপমান সইতে না পেরে তিনি হৃদরোগে মারা যান।
এ ধরণের আবেদনের বিষয়ে জানা নেই বলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হারুন মিয়া বলেন। যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের নাম ডাকা হয়েছে। আর যারা বাদ পড়েছেন তাদের পরবর্তীতে সুযোগ দেয়া যাবে। অসুস্থ হয়ে কেউ মারা যাওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা বলে জানান তিনি।


আরোও সংবাদ