মুক্তিযুদ্ধ বাঙ্গালী জাতীর অধিকার আদায়ের যুদ্ধ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ০৭:১৯ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোন সামরিক যুদ্ধ ছিলনা, এই যুদ্ধ বাঙ্গালী জাতীর অধিকার আদায়ের যুদ্ধ হয়েছে । ৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখাগরিষ্ট আসন পেয়ে যখন আওয়ামী লীগ তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়ার দ্ধারে উপনিত হয় । তখন তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক ইয়াহিয়া খান অধিবেশন ডাকার নামে কালক্ষেপন করে অন্য দিকে গোপনে পাকিস্তান থেকে সোয়াত জাহাজে করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসেন।

গতকাল রাউজান কলেজ মাঠে সাতদিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ১ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর অবঃ রফিকুল ইসলাম একথা বলেন ।

তিনি বলেন, পাকিস্তান থেকে দুই ডিভিশন পাকিস্তানী সৈন্য বাংলাদেশে নিয়ে আসেন । তৎকালীন পকিস্তানের শাসক ইয়াহিয়া খানের এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে জাতীর জনক বঙ্গবদ্ধু শেখ মুিিজবুর রহমান বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয় । বঙ্গব›দ্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাংলার মানুষ সাড়া দিয়ে সারা দেশে ব্য্াপক আণোদালন করে তোলেন ।

চট্টগ্রামে বাঙ্গালী ইপি আর সৈন্য ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ডাঃ আবু জাফর, এম আর সিদিক্কী, এম এ হান্নানের নেতৃত্বে পাকিস্তানী সৈন্যদের বন্দরে অবস্থান কারী সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে বাধা সুষ্টি করেন । চট্টগ্রামের রেলওয়ে পাহাড়, টাইগার পাশ বাটালী হিল, প্রবর্তক পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে বাঙ্গালী সেনারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করে। ঐ সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান বন্দরের সায়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে অস্ত্র খালাস করতে সহায়তা করে জনতা ও বাঙ্গালী ইপি আর বাহিনীর সদস্যদের প্রতিরোধে ব্যার্থ হয়ে কালুর ঘাট ব্রীজ দিয়ে পটিয়া এলাকায় চলে যায় । পরবর্তী পাকিস্তানী সৈন্যরা সমুদ্র থেকে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ে অবস্থান কারী বাঙ্গালী সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা করেন । পরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক ভাবে বাঙ্গালী সেনাবাহিনীর সদস্য আন্দোলন কারী বাঙ্গালীদের উপর হামলা করে চট্টগ্রাম সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা শুরু করলে বাঙ্গালী সেনারা সড়ক পথে, পাহাড় নদী পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয় । ভারতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে সশস্ত্র প্রশিক্ষন দিয়ে বাঙ্গালী সেনাবাহিনী সদস্যরা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন । ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথাঁ এই ইতিহাসকে বিকৃত করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতীর জনক বঙ্গব›দ্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধীদের মন্ত্রী করে বিএনপি এই দেশকে আবারো পাকিস্তানের তাবেদার রাষ্ট্র বনাতে চেয়েছিলো ।

জাতীর জনক বঙ্গব›দ্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রাম করে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে বঙ্গব›দ্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্টার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি জাতীর জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্টার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে । স্বাধীনতা বিরোধীদের এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্বে সকলকে সজাগ থাকতে হবে ।

রাউজান বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজের পরিচালনায় সাতদিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্বের বিজয় মেলার উদ্ধোধন করেন রেল মন্ত্রনালয় সর্ম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । বিজয় মেলা অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন লায়ণ প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দিলো আরা ইউছুফ, রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্বা সংসদের কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী, ইয়াসিন চৌধুরী, শ্যামল পালিত, জসিম উদ্দিন চৌধুরী,রাউজান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফৌজিয়া খানম মিনা, এঢভোকেট শোয়ানা আকতার, মুক্তিযোদ্বা ও চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, আব্বাস উদ্দিন আহম্মদ, রাউজান পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী ইকবাল, চেয়ারম্যান আবদুর রহমান চৌধুরী, কাজী দিদারুল আলম, ভুপেশ বড়–য়া, আলহাজ্ব দিদারুল আলম, রাউজান পৌর সভার প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর আলমগীর আলী, নজুরুল ইসলাম চৌধুরী, শামিমুল ইসলাম শামু, আবদুল্লাহ আল মামুন, আবদুল লতিফ, যুবলীগ নেতা আজিজ উদ্দিন ইমু, নাসির উদ্দিন, আবদুর রশিদ, ছাত্রলীগ নেতা, গৌতম পালিত টিকলু, জসিম উদ্দিন, আবদুল জব্বার সোহেল, মিটু চৌধুরী, আহসান হাবিব চৌধুরী গিয়াস উদ্দিন, ইমরান হোসেন ইমু, দিপলু দে, আশিফ প্রমুখ ।