মুক্তিযুদ্ধ চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে যাচ্ছিল

mirza imtiaz প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর , ২০১৮ সময় ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ

আজ ৬ ডিসেম্বর। লাখো শহীদের রক্তেরঞ্জিত দিন-মাস পেরিয়ে ১৯৭১ এর আজকের দিনে বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের অপ্রতিরোধ্য সংগ্রাম- মুক্তিযুদ্ধকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। দেশের সব জায়গাতেই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা প্রতিহত হচ্ছিল। প্রতিরোধের মুখে বাধ্য হচ্ছিল পিছু হটতে। বাংলার মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সেদিন সত্যি সূর্য হেসেছিল। উঁকি দিচ্ছিল স্বাধীনতার সূর্য। আজকের দিনে ভারতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় এবং পাকিস্তানের পরাজয় আসন্ন হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের অনন্য ও ঐতিহাসিক দিন আজ। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। সেসময় এ স্বীকৃতি অনেক বেশি তাত্পর্যপূর্ণ ছিল। এতে মুক্তিযুদ্ধের গতি আরো বেগবান হয়। রণযুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক যুদ্ধেও পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি হানাদাররা। এর আগে ৪ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বাংলাদেশের পাশে একমাত্র ভারত সরকারই পরম বন্ধুর মত পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন ভারতের লোকসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বিশাল বাধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রাম এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ সেদিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিত্ররাষ্ট্র ভারতের জওয়ানদের অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পাকিস্তান ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। পাক-ভারত যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় উপ-নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। এ নির্বাচন ৭ ডিসেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। একাত্তরের এদিন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাক-ভারত যুদ্ধ বিরতি সংক্রান্ত মার্কিন প্রস্তাবের ওপর সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফা ভেটো দেয়। নিউজউইক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত নিবন্ধ প্রকাশ করে। এদিন ভোর থেকেই পাক নবম ডিভিশনের পলায়ন পর্ব শুরু হয়। পালাবার পথে তারা রাস্তার ওপরের ব্রিজগুলো ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করে। এদিকে লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম ও হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধে কুলিয়ে উঠতে না পেরে পিছু হটে বিকল্প অবস্থান নেয়। রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসেরনগর যৌথবাহিনীর পূর্ণ অধিকারে আসে।