মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান গুলোতে স্মারকস্তম্ভ নির্মাণ রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

 

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের সাথে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মাকর্তাদের এক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এম.পি বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এখনো রন্দ্রে রন্দ্রে লুকিয়ে আছে। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের সাথে সমস্ত সামাজিক সম্পর্ক বয়কট করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা আমাদের স্বাধীনতার মাইলফলক। যেদিন এই চট্টগ্রাম থেকে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন সেদিন থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু ৯ মাসের নয়, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের ফসল। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিত করে সে স্থানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরী করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধরে রাখার জন্য বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা কেন্দ্র কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটিকে সংস্কার পূর্বক জাদুঘরে রূপান্তরিত করে দর্শনীয় স্থান হিসেবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তিনি আহবান জানান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে সুন্দর ও স্বার্থক করার জন্য উপস্থিত সকলকে আহবান জানান।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা বীর বাঙালির অহংকার- এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিপুল উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা’২০১৬। এই উপলক্ষে আজ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুছ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, মেলায় বাঙালির সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটানো হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রত্যেক এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, এবারের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সাংবাৎসরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তরুণ প্রজন্মকে শারিরীক ও মানসিকভাবে সুসংগঠিত করার জন্য এবার থানা ভিত্তিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষ, বই ও বিজ্ঞান মেলা আয়োজনের কর্মসূচী গৃহিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চে প্রতিদিন অংশগ্রহণ করবেন দেশের বরেণ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জনাব শামসুল আরেফিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন আজিজুল হক সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সাহেদা আকতার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ সালাম, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বদিউল আলম, মহাসচিব আহমেদুর রহমান ছিদ্দিকী, অর্থসচিব পান্টু লাল সাহা, বিজয় র‌্যালী উপ-পরিষদের আহবায়ক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, ক্রীড়া উপ-পরিষদের মশিউর রহমান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সাহাব উদ্দিন আহমেদ, মোজাফফর আহমেদ, এম এ মনছুর প্রমুখ